মনের আনন্দে চুল-দাড়ি কাটেন লিটন!

মনের আনন্দে চুল-দাড়ি কাটেন লিটন!

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হাতে কাঁচি, চিরুনি, কাপড়, আর ক্ষুরসহ কিছু জিনিসপত্র। বসার স্থান বলতে রয়েছে কাঠের একটি ছোট পিঁড়ি। খোলা আকাশের নিচেই কাটছেন চুল-দাড়ি।

এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনের উত্তর আউটার এলাকায়। লিটন চন্দ্র দাস নামে এক নরসুন্দর মনের আনন্দে করছেন এ কাজ। তিনি পৌরশহরের মসজিদপাড়ার সুনিল চন্দ্র দাসের ছেলে। পরিবারের অভাব ঘুচাতে অন্য কোনো কাজ না জানায় এ পেশা বেছে নেন তিনি।

এক সময় নরসুন্দর গ্রামের হাট-বাজারে কিংবা বড় সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে তাদের চুল কাটতে দেখা যেতো। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে তাদের চিত্রও বদলেছে। বর্তমানে শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। এখন চুল কাটাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ইলেকট্রিক মেশিনও। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাটিং। দ্রুতই হচ্ছে স্টাইল।

লিটন একটি পিঁড়ির ওপর ভোক্তাদের বসিয়ে গায়ে একটি কাপড় জড়িয়ে চুল কাটেন। কখনো কখনো প্রখর রোদেই চলে তার এ কাজ। রেলস্টেশন হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন এখানে আসা-যাওয়া করছেন। অসহায় মানুষ ছাড়া কেউ তার কাছে চুল কাটে না।

লিটন বলেন, চুল কাটাসহ শেভ করা ২৫ টাকা নেয়া হয়। কিছু নিয়মিত ভোক্তা রয়েছেন। দৈনিক দুইশ টাকার বেশি কাজ হয়।

রেলওয়ে পশ্চিম কলোনির মোখলেছ, বাবু সিজান বলেন, ছোটবেলা থেকেই লিটনকে খোলা আকাশের নিচে চুল কাটতে দেখছি। রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষদের ডেকে দাড়ি বা চুল কাটেন।

ভোক্তা হারুন মিয়া বলেন, আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই। স্টেশনেই মূলত থাকা হয়। চুল কাটা বা শেভের প্রয়োজন হলে লিটনের এখানে আসি। এখানে কম টাকায় চুল কাটা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর