Alexa মধুমতিতে বিলীন হচ্ছে আলফাডাঙ্গা

মধুমতিতে বিলীন হচ্ছে আলফাডাঙ্গা

হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২১ ১২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:২৮ ১২ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচুরিয়া, গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউপির তিনটি স্কুল, একটি মাদরাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, পাকা সড়ক, বসতবাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। 

মধুমতির এই ভাঙন ঝুঁকির ফলে ১৫ দিনে নদী তীরবর্তী প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখনো অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউপির চেয়ারম্যান এনাম হাসান জানান, তার ইউপির পাঁচটি গ্রামে দুই কিলোমিটার জুড়ে মধুমতি নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। শিখাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাল, দারুল সালাম দাখিল মাদরাসা, একটি মসজিদ ও বড় গোরস্থানসহ একটি গুচ্ছ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও আংশিক ভাঙনের শিকার হয়েছে শিকারপুর সড়ক ও চরডাঙ্গা-চরআজমপুর সড়কটি। 

তিনি আরো জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১১৮ পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

গোপালপুর ইউপির চেয়ারম্যান এনামুল হাসান জানান, মধুমতি নদীর বাজড়া গ্রামে ভাঙনের প্রবণতা বেশি। সেখানে বাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অর্ধশত বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। নদীর ভাঙনে বাজড়া প্রাইমারি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

পাঁচুড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমার সরদার জানান, দক্ষিণ পাঁচুড়িয়া গ্রামটির সবই মধুমতির কবলে বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম চর-নারাণদিয়া গ্রামের প্রাইমারি স্কুল ভবন থেকে মাত্র ২০ হাত দূরত্বে চলে এসেছে মধুমতি নদী। যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তর চর-নারাণদিয়া গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাঁশতলা বাজার থেকে বোয়ালমারীর যাতায়াতের পাকা সড়কের তিন কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। দক্ষিণ চর-নারাণদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

পশ্চিম চর-নারাণদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাব খাতুন জানান, আমার বিদ্যালয়টি ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী থেকে ২০ হাত দূরে স্কুলের ভবন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঠিকমতো স্কুলেও পাঠাচ্ছেন না ।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে পাউবোর মাধ্যমে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এরইমধ্যে ২২৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মাঝে সরকারি সহায়তা দেয়া হয়েছে, আরো সহায়তা দেয়ার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। 

তবে ভাঙন কবলিত এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, পাউবোর নিযুক্ত ঠিকাদার কোম্পানি নিলয় ট্রেডার্স সঠিকভাবে বালুর বস্তা ফেলছে না। মাঝে মাঝে কাজ করে আবার থেমে যায়। ঠিকাদাররা সঠিক কাজ করলে হয়তো কিছু সম্পদ রক্ষা করা যেতো।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহিদ হাসান বলেন, পাঁচুরিয়া ইউপির বাঁশতলা সড়কের অধিকাংশ এবং টগরবন্দ এলাকার দুইটি পাকা সড়কের আংশিক নদীর গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

ফরিদপুরের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, নদীতে স্রোত বেশি। এর মধ্যে জরুরি কাজ করা কঠিন। স্রোত না কমলে কাজ করা যাবে না। 

তিনি আরো বলেন, মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ করতে প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু প্রয়োজনমতো অর্থ বরাদ্দ আমরা পাচ্ছি না। 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকার জানান, জেলার পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। আগামী শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে যাতে কাজ করা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস