Alexa মদ পানেই মারা গেলেন মাদক কর্মকর্তা!

মদ পানেই মারা গেলেন মাদক কর্মকর্তা!

খুলনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৫ ১৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:২৫ ১৩ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মদ পানেই মারা গেলেন খুলনার সেই মাদক কর্মকর্তা মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস। দুর্গাপূজায় বিজয় দশমীর রাতে খুলনায় মদপানে নিহত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন তিনিও।

২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিজেরা মদ খেয়ে গাঁজাসহ গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজনকে নিয়ে খুলনার বটিয়াঘাটা থানায় গিয়েছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা (এসআই) মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস। 
তার সঙ্গে ছিলেন গোয়েন্দা শাখার সেপাই মো. সেলিম ও সোর্স (তথ্যদাতা) সুশীল। থানায় তাদের মাতলামিতে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে পুলিশ তাদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের খবর দেয়। কর্মকর্তারা তাদের সহকর্মীদের মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনলেও ওই সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মনোজিৎকে। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলায় ডিমোশন দিয়ে এসআই থেকে এএসআই করা হয়। আগস্টে যোগ দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে। খুলনার সেই মাদক কর্মকর্তা মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস সর্বশেষ মদ পানেই মারা গেলেন। 

ঘটনার বিষয়ে ওই সময় বটিয়াঘাটা থানার তৎকালীন ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুইজন আসামি নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদক নিয়ন্ত্রণের এসআই মনোজিৎ কুমার থানায় আসেন মামলা করতে। মামলা নেয়ার সময় বাংলা মদের গন্ধ পাই।

স্ত্রীর সঙ্গে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস। (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)ওসি আরো বলেন, মদের গন্ধ পেয়ে আমি এসআই মনোজিৎকে বললাম, ধরছেন গাঁজা আর বাংলা মদের গন্ধ বের হচ্ছে। বাংলা মদ আবার খাইল কে? তখন এসআই মনোজিৎ ‘সরি স্যার, সরি স্যার’ বলা শুরু করেন। আমি বললাম, আপনি যদি (মদ) খেয়ে থাকেন, তবে আপনি এখানে আসছেন কেন? পরে বাইরে গিয়ে দেখলাম তাদের সঙ্গে আসা একজন সেপাই দাঁড়ানো। তার মুখ থেকেও মদের গন্ধ আসছে। এরপর দেখি আমার পুলিশের সঙ্গে একজন তর্কাতর্কি করছে, মাতলামি করছেন। জানতে পারলাম, তিনি তাদের সোর্স সুশীল বিশ্বাস। পরে তিনজনকে বসিয়ে রেখে তাদের কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে এসআই মনোজিৎ, সেপাই সেলিম ও তাদের সোর্স সুশীলকে হাসপাতালে নিয়ে ‘স্টমাক ওয়াশ’ করানো হয়। হাসপাতালের দেয়া সনদের ভিত্তিতে সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। 

খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের জেলা কর্মকর্তারা থানায় যান। তারা তাদের দুই সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে পুলিশকে জানান। এরপর আটক এসআই ও সেপাইয়ের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের জিম্মায় দেয়া হয়। মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, ‘তারা মদ খেয়েছিলেন, এরপরে আর কোনোদিন এমন করবেন না’। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, গাঁজাসহ আসামিদের নিয়ে থানায় মামলা দিতে গিয়েছিলেন তারা। মাদক সেবন করে থানায় গিয়ে তারা অস্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। পরে আমাদের পরিদর্শক আহসান হাবিব মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় অ্যালকোহল জাতীয় কোনো কিছু পান করার সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা সেই ডাক্তারি প্রতিবেদনসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে সুপারিশ পাঠাই। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলায় ডিমোশন দিয়ে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাসকে এসআই থেকে এএসআই করেন। 

এএসআই মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস খুলনা মহানগরীর হাজী মহসিন রোডস্থ আর্জেন আলী বাইলেন এলাকার ধীরাজ বিশ্বাসের ছেলে। তার তাপষ কুমার বিশ্বাস ও শ্রাবন্তি বিশ্বাস তিথি নামে দুটি সন্তান রয়েছে। শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ি নিয়ে সৎকার করেন। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) বিপ্লব মোদক  বলেন, এএসআই মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস চলতি বছরের আগস্টের শেষের দিকে নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ে যোগদান করেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩ অক্টোবর তিনি ছুটিতে যান। পরে বিজয় দশমীর রাতে তার স্ত্রী ফোনে জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পারেন। তবে, মাদক সেবনে তার মৃত্যু হয়েছে কিনা-সেটি নিশ্চিত না হলেও তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। 

তবে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা খুলনায় না থাকায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।  

স্ত্রী, সন্তানদের সঙ্গে মনোজিৎ কুমার বিশ্বাস। (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)এদিকে, খুলনায় মাদক সেবনে নয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্তৃক গঠিত ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির বিতর্কিত সদস্য এসআই নিরঞ্জন কুমারকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জণ চলছে। কারণ তার বিরুদ্ধেই রয়েছে মামলার আলামত তছরূপ, অভিযানে গিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মত গুরুতর নানা অভিযোগ। এছাড়া ওয়্যার হাউজে কর্মরত থাকার সুবাদে পারমিটধারী মাদক সেবনকারীদের বাইরেও অবৈধ মাদকের সরবরাহ ও মাদকে ভেজালের বিষয় থেকেও তিনি দায় এড়াতে পারেন না বলেও সূত্র দাবি করেছে। মামলার আলামত তছরূপের দায়ে কর্তৃপক্ষ তার ইনক্রিমেন্ট কর্তন করেন বলেও জানা গেছে।

বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে কমিটি থেকে তাকে বাদ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম