মতিঝিলের ছিদ্রহীন ঘরের দেয়ালে আঘাত করতেই রক্তবমিতে মৃত্যু!

মতিঝিলের ছিদ্রহীন ঘরের দেয়ালে আঘাত করতেই রক্তবমিতে মৃত্যু!

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:১১ ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৪ ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক মতিঝিল। এর অর্থ হলো মুক্তার ঝিল। নবাব আলিবর্দী খাঁ তার ভাতুস পুত্র তথা জামাতা নওয়াজেশ মহম্মদ খাঁ’কে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ছোট নবাব নিযুক্ত করেন। তখন ঢাকার নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর। বাংলার রাজধানীও ছিল এই জাহাঙ্গীরনগর। নওয়াজেশ মহম্মদ খাঁ তার প্রিয়তমা পত্নী মেহেরুন্নেসার জন্য (ঘসেটি বেগম নামে পরিচিত) তৈরি করেছিলেন মতিঝিল।

মতিঝিলের তীরেই একটি সুন্দর ও সুরক্ষিত অট্টালিকা তৈরি করা হয় ঘসেটি বেগমের জন্য। এই প্রাসাদের নাম দেয়া হয় ‘সাঙ্গ-ই-দালান’ (শাহী দালান)। এখন সেই প্রাসাদ আর নেই, রয়েছে শুধু দালানের ভিত। এই দালানের সামনেই চেয়ারে এখনো আলোচনায় ব্যস্ত ঘসেটি বেগম, মিরজাফর, জগৎ শেঠ, লর্ড ক্লাইভ আর ওয়াটসন। ঘূর্ণির মৃৎশিল্পীদের এই শিল্পকর্ম এখন মতিঝিলের বড় আকর্ষণ। সেখানে আরো বসানো আছে মুর্শিদকুলি খাঁ আর সিরাজের মূর্তিও। 

ছিদ্রহীন ঘরমতিঝিলের জানালা দরজাহীন ঘরের রহস্য
মুর্শিদাবাদের এই মতিঝিলে রয়েছে একটি রহস্যময় জানালা দরজাহীন প্রকোষ্ঠ বা দেয়াল। যার দৈর্ঘ্য ২০ মিটার, প্রস্থ ৬ দশমিক ৫ মিটার ও উচ্চতা ২ দশমিক ৪০ মিটার। এটি নিয়ে অনেক রহস্য আছে। অনেকে মনে করেন, এটি ঘসেটি বেগমের ধনভাণ্ডার। আবার অনেকে বলেন, সিরাজ মতিঝিলে আক্রমণ করে যখন ঘসেটি বেগমকে হীরাঝিলে নিয়ে যান, তখন তার সহচরীদের এখানে কবর দিয়ে চারদিকে দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেন। তবে এটি সিরাজ সম্পর্কে একটি বিকৃত ইতিহাসেরই নজির। এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এর রহস্যভেদ আজো হয়নি। 

তবে ডিস্ট্রিক্ট গেজেটে বলা হয়েছে, একজন ইংরেজ ঔৎসুক্যবশত: ঘরটির সামনেই একটি কামান বসিয়ে গোলা নিক্ষেপ করেন। কামানের গুলির ক্ষীপ্রতায় ঘরটি ধ্বংস না হলেও কামান চালক সেই জায়গাতেই মৃত্যুবরণ করেন। রক্তবমি করে মারা যান তিনি। এরপর থেকে প্রকোষ্টটিতে আর কেউ হাত দেয়নি। আজ অবধি সেভাবেই রয়েছে। এই ঘরটির চারপাশের দেয়াল বা ছাদ কোনো জায়গাতেও একটু ফুটো পর্যন্ত নেই। ইংরেজরা ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ থেকে কোনো ধরনের ধন সম্পদ না পেয়ে ভেবেছিলেন এই ঘরের ভেতরই হয়তো সেসব গুপ্তধন লুকানো রয়েছে। এরপরই ঘরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেন তারা। তবে হার মানতে হয় তাদেরকেও। আজো কথিত সেই ধনভাণ্ডার বা রহস্য প্রকোষ্ঠের রহস্যভেদ হয়নি। হয়তো হবেও না কোনো দিন!

ছিদ্রহীন ঘরের ছাদমতির ঝিল
অশ্বক্ষুরাকৃতি ঝিল দিয়ে ত্রিতল ‘সাঙ্গ-ই-দালান’ প্রাসাদটি ঘেরা ছিল। সেই ঝিলে মোতির চাষ করা হতো। অনেকের মতে, মতিঝিল ছিল ভাগীরথী নদীর একটি সর্পিল বাঁকা গতিপথ। আবার অনেকে মনে করেন, নবাব আলীবর্দীর সময় মুর্শিদাবাদে বহু অট্টালিকা প্রস্তুত করার জন্য ইটের জন্য যে মাটি তোলা হয়েছিল সেই খাদগুলোই মতিঝিলে পরিণত হয়েছে। সেসময়ে ওই ঝিল থেকে প্রচুর পরিমাণে মতি সংগ্রহ করা হতো বলে এর নাম রাখা হয় মতিঝিল।

মতিঝিল মসজিদ
মতিঝিলের নামকরা ‘সাঙ্গ-ই-দালান’ বা পাথরের প্রাসাদের পাশে ছিল তোরণ ও মসজিদ, বাগান, ধনভাণ্ডারসহ আরো অনেক কিছু! মতিঝিল মূলত একটি অশ্বক্ষুরাকৃতির হৃদ। পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে শুরু করে ইউটার্ন নিয়ে আবার কাছাকাছি পশ্চিম প্রান্তেই শেষ হয়েছে। পশ্চিম পাশের একপ্রান্তে আছে মসজিদ ও সমাধিক্ষেত্র। আর মধ্যখানে বিশাল বাগান ও হ্রদের শেষপ্রান্তেই (পূর্বদিকে) ছিল ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ। সেই প্রাসাদ আজ আর নেই। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে অনেক আগেই।   

মতিঝিল প্রাসাদএখানে যে মসজিদটি রয়েছে তা কালা মসজিদ নামে আখ্যা লাভ করেছে। কেন এই নাম তা জানা যায়নি। মসজিদটি আকারে খুব বড় নয়। মসজিদে তিনটি গম্বুজ রয়েছে, চারপাশে রয়েছে চারটি মিনার। মসজিদের পূর্বদিকেই রয়েছে একটি ছোট সমাধিক্ষেত্র। এখানে রয়েছে ঘসেটি বেগমের স্বামী নওয়াজেশ মহম্মদ খাঁ, তার পালক পুত্র একরাম-উদ-দৌলা (সিরাজ-উদ-দৌলার ভাই) এবং একরামের শিক্ষক ও নওয়াজেস খাঁনের সেনাপতির কবর। পাশে রয়েছে একরামের এক সেবিকার একটি আলাদা কবরও। 

মতিঝিল ও সিরাজ-উদ-দৌলার
নবাব সিরাজ তার খালার প্রাসাদটি খুব পছন্দ করতেন। সেই মোতাবেক সেও হিরাঝিল নামে পরবর্তীতে অপরুপ একটি প্রাসাদ গড়েছিল। সাঙ্গ-ই-দালান সংলগ্নে ১৭৫০ খ্রীঃ একটি মসজিদও নির্মাণ করেছিল নওয়াজিস। মসজিদটি কালা মসজিদ নামে বিখ্যাত। কথিত আছে, এই মসজিদে সিরাজ-উদ-দৌলারর দাদু আলীবর্দি খাঁ নিয়মিত নমাজ পড়তে আসতেন। দাদুর হাত ধরে ছোট্ট সিরাজও মতিঝিল মসজিদে আসতেন।

নওয়াজেস মহম্মদ খাঁ ও পালকপুত্র একরাম-উদ-দৌলার কবরমতিঝিল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর/স্মারক
মসজিদের বাইরে একটি উঁচু রাজকীয় তোরণ এখনো রয়েছে তবে তা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। এই মসজিদে একটি পবিত্র কুরআন সংরক্ষিত আছে এবং যা নওয়াজেস খাঁ নিজের হাতে লিখেছিলেন বলে অনুমান করা হয়। সিরাজের ভাই নওয়াজেসের পালকপুত্র একরামউদদৌলার মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হন। মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন (১৭৫৫ সালে)। পালকপুত্রের পাশেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। 

সিরাজকে হত্যার সব পরিকল্পনাই কি মতিঝিলে হয়েছিল?
ইতিহাসে কুচক্রী নারীর প্রতীক হিসেবে ঠাঁই পেয়েছেন ঘসেটি বেগম। আলীবর্দির বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম ছিলেন নিঃসন্তান। সিরাজের ছোট ভাই একরাম-উদ-দৌলাকে দত্তক নিয়ে তিনি সন্তান স্নেহে পালন করতেন। অল্প বয়সে বসন্ত রোগে মৃত্যু হয় একরাম-উদ-দৌলা। এরপরই স্বামীকে হারিয়ে নিঃসন্তান ঘসেটি বেগম অগাধ সম্পদের মালিক হন। নবাব তথা প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের লোভে ঘসেটি বেগম চেয়েছিলেন সিরাজ নয়, মেজ বোন মায়মুনা বেগমের পুত্র শওকত জং হোক বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব। কারণ শওকত প্রায় সারা দিনই মদপান করতেন। আর চাটুকারদের কথামতো সিদ্ধান্ত নিতেন। তাই তার ওপর প্রভাব বিস্তার করা সহজ হতো ঘসেটি বেগমের জন্য। 

মতিঝিলের মসজিদতবে আলীবর্দী খানের ইচ্ছায় তার মৃত্যুর পর সিরাজউদ্দৌলা মসনদে আরোহণ করলেও ঘসেটি বেগম তা মেনে নিতে পারেননি। ফলে সিরাজউদ্দৌলাকে মসনদ থেকে যেকোনো মূল্যে বিতাড়িত করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন ঘসেটি বেগম। এদিকে শওকত জং ক্রমান্বয়ে নবাবের অবাধ্য হতে থাকেন। দিলি্লর সম্রাট দ্বিতীয় আরওরঙ্গজেবের প্ররোচনায় শওকত জং একপর্যায়ে বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। তৎকালীন দুই কোটি রুপি! ঘুষের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সম্রাট দ্বিতীয় আওরঙ্গজেবের কাজ থেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব হওয়ার ফরমানও আদায় করে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা তার বিশ্বস্ত ও সাহসী সেনানায়ক মহন লালের নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠান পুর্নিয়া রাজ্যের রাজা শওকত জংকে শায়েস্তা করার জন্য।

পলাশীর যুদ্ধের আট মাস আগে ১৬ অক্টোবর ১৭৫৬ সালে মহন লালের সৈন্যদের আক্রমণের মুখে শওকত জং মাতাল অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনা ঘসেটি বেগমকে আরো ক্ষেপিয়ে তোলে এবং প্রতিহিংসার আগুন আরোবাড়িয়ে দেয়। এমনি এক প্রেক্ষাপটে লর্ড ক্লাইভ আর মীর জাফরের সঙ্গে পলাশীর যুদ্ধে গোপন চক্রান্তে হাত মেলান ঘসেটি বেগম। প্রয়োজনে তিনি তার বিপুল সম্পদ খরচেরও প্রস্তাব করেন। আর এমনই আশা করছিলেন ক্লাইভ এবং মীর জাফর। কালের বিবর্তনে যুদ্ধ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মীর জাফর ইংরেজদের হাতের পুতুল হয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করেন। এতে ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তারের যে স্বপ্ন ঘসেটি বেগম দেখেছিলেন, তা কার্যত অপূর্ণ থেকে যায় ইংরেজ আধিপত্যের কারণে। প্রতিশ্রুত অর্থ না দেয়াসহ নানা কারণে একপর্যায়ে ঘসেটি বেগম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মীর জাফর এবং তার পুত্র মীর মিরনের সঙ্গে।

মতিঝিলে ঢোকার গেইট

পরিণতিতে ঘসেটি বেগমকে বন্দী করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার (বর্তমান পুরান ঢাকায়) জিঞ্জিরা প্রাসাদে। সেখানে বন্দী থাকা সত্ত্বেও ঘসেটি বেগম নতুন চাল শুরু করেন মীর জাফর এবং মিরনের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এবং ভবিষ্যতে বিপদ হতে পারে ভেবে মিরন ঘসেটিবেগমকে বন্দী অবস্থায় নৌকাযোগে মুর্শিদাবাদে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেন। নৌকা ঘসেটি বেগমকে নিয়ে জিঞ্জিরা প্রাসাদ ছেড়ে গেলেও মুর্শিদাবাদে পৌঁছেনি কোনো দিন। পথেই নৌকাডুবিতে ঘসেটি বেগমের সলিল সমাধি ঘটে বলে ধারণা করা হয়। ফলে বলা যায়, বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মাটিও ঠাঁই দেয়নি কুচক্রী ঘসেটি বেগমকে। সাড়ে তিন হাত মাটিও জোটেনি এই বিশ্বাসঘাতকিনীর কপালে। অঢেল ধন-সম্পদ তার কোনো কাজেই আসেনি।

মতিঝিলের বর্তমান অবস্থা
মতিঝিলের বর্তমান আয়তন এক হাজার ৫০ বিঘা। এর আশপাশের অনেক জায়গা আজ বেদখল। মতিঝিল মূলত একটি বিশাল হ্রদ। এর মাঝখানে রয়েছে বিশাল ভূখণ্ড আর তিনদিকেই পানি। মাঝখানের এই ভূখণ্ডে বর্তমানে একটি পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র করা হয়েছে। এটি মুর্শিদাবাদের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় পার্ক। ২০১৫ সালের ১ জুলাই পার্কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। এর আগে, এই বিশাল জায়গাটি পরিত্যক্তই পড়ে ছিল। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করেন। মতিঝিল পার্কের বর্তমান নাম দেয়া হয়েছে ‘প্রকৃতি তীর্থ’।

এখনো বৈঠকে বসে আছেন কুচক্রীরাঐতিহাসিক নমুনা বলতে এখানে রয়েছে একটি মসজিদ, সমাধিক্ষেত্র ও মতিঝিল হ্রদ। ঘসেটির প্রাসাদ আজ নিশ্চিহ্ন। তবে মীরমর্দনের কামানের একটি অংশবিশেষ এখানে রাখা হয়েছে। মূল কামানটি রয়েছে হাজার দুয়ারি প্রাসাদে। বাংলার প্রধান তিন নবাব- মুর্শিদকুলি খাঁ, আলীবর্দী খাঁ ও সিরাজ-উদ-দৌলার তিনটি ভাষ্কর্য রয়েছে এই পার্কে। মতিঝিলের মূল ফটকটি আজো রয়েছে, তবে তা ভগ্নপ্রায়। পাশেই নতুন করে গেট তৈরি করা হয়েছে। কথিত রয়েছে, মতিঝিল থেকে একসময় খোশবাগ দেখা যেতো। 

মুর্শিদাবাদের বড় বিনোদনকেন্দ্র
বর্তমানে মতিঝিল শুধু একটি পার্কই নয়, মুর্শিদাবাদের বড় বিনোদনকেন্দ্রও বটে। বিকাল থেকেই নাচ, গান আবৃত্তি, নাটকসহ নানা আয়োজনে মুখর থাকে মতিঝিল। বিশাল এই পার্কে রয়েছে একাধিক উন্মুক্ত মঞ্চ যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলতেই থাকে। ২০ টাকার বিনিময়ে মতিঝিল পার্কে ঢুকতে হয়। তবে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’র জন্য আরো ২০ টাকা গুনতে হয়। 

আজো ইতিহাস বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে কালের সাক্ষী এই প্রাসাদএখানে একাধিক বাংলো বাড়ি রয়েছে। রয়েছে বিশাল উচু টাওয়ার যেখান থেকে পুরো মতিঝিলতো বটেই মুর্শিদাবাদেরও অনেকটা দেখা যায়। অত্যন্ত আধুনিক ও দৃষ্টি নন্দন পার্কের মিউজিক্যাল লাইটগুলো অসাধারণ দৃশ্যের জন্ম দেয়। মতিঝিল আজ বাংলা সংস্কৃতির প্রধান তীর্থক্ষেত্র। মতিঝিল যেনো একখণ্ড বাংলাদেশ। ঘসেটি বেগমের প্রাসাদটি যেখানে ছিল সেখানেই বর্তমানে একটি মঞ্চ বানিয়ে পলাশীর ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’ হয়। 

আজকের প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে এই মতিঝিল থেকেই। একদিন যে প্রাসাদে বসে বাংলার বিরুদ্ধে, সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তারই ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে এ প্রজন্ম জানছে সেই ইতিহাস। মাঝে কেটে গেছে ২শ ৬০ বছর। মহাকালের নিয়মে এ তেমন বেশিকিছু নয়, ইতিহাস তো ফিরে আসবেই হাজার বছর পরে হলেও।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস