ভোট এলেই হুঁশ ফেরে লক্ষ্মীপুর বিএনপির

ভোট এলেই হুঁশ ফেরে লক্ষ্মীপুর বিএনপির

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ১৩ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৫:১৬ ১৩ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দলীয় কার্যক্রম থেকে হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছেন বললেই চলে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির নেতারা। দ্বন্দ্ব আর নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সব সময়। তবে কোনো নির্বাচন এলে হাইকমান্ডের কথায় একটু হুঁশ ফেরে তাদের। তখন ব্যক্তিগত কার্যালয় ও বাসায় দলের কিছু কার্যক্রম চালান তারা।

এদিকে জেলায় দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এরমধ্যে কেউ কেউ বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেকে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। জেলার দুই নেতার কারণে তৃণমূল কর্মীরা দল ছাড়ছেন বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ মার্চ রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ওই সময় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে বলা হয়। প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও ঘোষণা করা হয়নি এ কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, প্রায় তিন বছর ধরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছেন জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতারা। প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পাল্টাপাল্টি সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। 
সবশেষ ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে সভাপতি ও সাহাব উদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের অনুসারীরা বিভক্ত হয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। জেলার নেতারা নিজেদের স্বার্থে সবকিছু করতে পারেন।

কামাল বলেন, আমি সক্রিয় রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএনপি সেটা করতে দেয়নি। আগে আমি ভুল রাজনীতি করেছি। আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর আমার চোখ খুলেছে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপিকর্মী হামিদুর বলেন, বিপদে-আপদে জেলা নেতাদের পাশে পাওয়া যায় না। করোনার মতো এমন মহামারিতেও তারা খোঁজখবর নেননি। এমনকি নেতাদের ফোন করলেও ধরেন না।

রায়পুর উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বের কারণে দল আগের মতো নেই। এ জন্য কোনো মিটিং-মিছিল নেই। নিজেদের বাঁচাতে অন্য দলের সঙ্গে আঁতাত করে চলছেন দলের সিনিয়ররা।

বিলুপ্ত হওয়া লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান হাছিব দাবি করেন, কমিটি না থাকলেও তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে।

বিলুপ্ত কমিটির সাবেক জেলা সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, নানা প্রতিকূলতার কারণে প্রকাশ্যে কর্মসূচি করতে পারছি না। শিগগিরই পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি দেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এইচএন