ভোগবিলাসে মত্ত এসব শহরের আজ করুণ দশা!

ভোগবিলাসে মত্ত এসব শহরের আজ করুণ দশা!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৭ ১৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৩ ১৭ মে ২০২০

ছবি: পরিত্যক্ত শহর

ছবি: পরিত্যক্ত শহর

একটি শহর গড়ে উঠতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তবে মুহূর্তের কোনো বিপর্যয়েই তা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বিশ্বের অনেক শহর আছে যা একসময় জনাকীর্ণ ছিল, বড় কোনো বিপর্যয় কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন পরিত্যক্ত। জনবসতিহীন এসব স্থান ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। তেমনই কয়েকটি পরিত্যক্ত শহর নিয়ে এই লেখা।

প্রিপায়াত, ইউক্রেন    

প্রিপায়াত, ইউক্রেন    ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্মরণকালের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ভয়াবহ এই পারমাণবিক দুর্ঘটনাটি চেরনোবিলের বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত। চেরনোবিল বর্তমান ইউক্রেনের অন্তর্ভূক্ত। চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত ছিল প্রিপায়াত শহর। পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর প্রিপায়াত শহরের আকাশে শিখা এবং তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। শহরের ৪৯ হাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

ফলে অনেকরই স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে চেরনোবিলের চারপাশের ১৮ মাইল পর্যন্ত অঞ্চল সিল করে দেয়। ফলে প্রিপায়াত একটি পরিত্যক্ত ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়। প্রায় সাড়ে তিন দশক জনশূন্য থেকে শহরের ভবনগুলো অনেকটা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে। সেখানে শুধু কিছু বন্য প্রাণীর বিচরণ আছে মাত্র। পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়া যথেষ্ট হ্রাস পেলেও বিজ্ঞানীদের অনুমান, শহরটি পুনরায় আবাসনের জন্য নিরাপদ হতে কয়েকশ’ বছর লাগতে পারে। 

ওরাডুয়োর-সুর-গ্লেন, ফ্রান্স 

ওরাডুয়োর-সুর-গ্লেন, ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪৪ সালের ১০ জুন ফ্রান্সের ওরাডুয়োর-সুর-গ্লেন গ্রামে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সশস্ত্র দল ওয়াফেন এসএস কোম্পানি ব্যাপক গণহত্যা চালায়। ৬৪২ জন গ্রামবাসীকে তারা হত্যা করে। হত্যার পর বেশিরভাগ মৃতদেহ পুড়িয়ে দিয়েছিল জার্মান বাহিনী। 

এই গ্রাম থেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজন পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি চার্লস ডি গল এখানকার ধ্বংসাবশেষ গুলো স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে অক্ষুণ্ণ অবস্থায় রাখার প্রস্তাব করেন। ফলে গ্রামটি পুনরায় গড়ে ওঠেনি। জনবসতিও সৃষ্টি হয়নি। এই গ্রামের ধ্বংসাবশেষ গুলো আজো আছে। 

হাশিমা দ্বীপ, জাপান  

হাশিমা দ্বীপ, জাপান  হাশিমা দ্বীপের অবস্থান পূর্ব চীনা সাগরে। কয়লা খনির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিল দ্বীপটি। এখানকার কয়লা খনি প্রায় ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নাগাসাকির উপকূলে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটিতে  ১৮৮৭ সালে সর্বপ্রথম কয়লাখনি কলোনি হিসেবে বসতি স্থাপিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরা এখানে চীন ও কোরিয়ার শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করাত। 

মাত্র ১৬ একর জায়গার এই দ্বীপে ১৯৫০ এর দশকে পাঁচ হাজার দুইশরও বেশি মানুষের বসতি ছিল। তখন পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল এলাকা ছিল জাপানের হাশিমা দ্বীপ। ১৯৭৪ সালে এখানকার খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের অবসান ঘটিয়ে সেটি চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। শহরটি পরিত্যক্ত হয়। যে কারণে পর্যায়ক্রমে সেখানকার জনবসতিও উঠে যায়। জনবসতিহীন এই শহর বর্তমানে ভূতুড়ে স্থানে পরিণত হয়েছে। 

ভারোশা, সাইপ্রাস 

ভারোশা, সাইপ্রাস সাইপ্রাসের একটি পরিত্যক্ত শহর ভারোশা। ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে ভারোশা পৃথিবীর প্রথম সারির পর্যটন কেন্দ্র ছিল। ১৯৭৪ সালে তুর্কি সেনাবাহিনী সাইপ্রাস আক্রমণ করে। ভারোশা যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ায় এখানকার ১৫ হাজার জনগণ জীবন রক্ষা করতে পালিয়ে যায়। ফলে জনশূন্য হয়ে পড়ে শহরটি। ভারোশার জনগণ পুনরায় ফিরে না আশায় এখনো শহরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। 

বোডি, ক্যালিফোর্নিয়া

বোডি, ক্যালিফোর্নিয়াযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বোডি একটি ভূতুড়ে শহর হিসেবে পরিচিত। ১৮৬০ এর দশকে একটি স্বর্ণের খনি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এখানে শহর গড়ে উঠেছিল। ১৮৭০ এর দশকে এখানে ১০ হাজার মানুষের বসবাস গড়ে ওঠে। ভোগবিলাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল শহরটি। ১৮৮০’র দশকের শুরুতে বোডির খনির স্বর্ণ শেষ হয়ে যায়। এরপরই বিলাসবহুল বোডি শহর জন মানবহীন হয়ে পড়ে। এখনো এই পুরনো পরিত্যক্ত শহরের বসত বাড়ি জনশূন্য অবস্থায় আছে। 

ফোর্ডল্যান্ডিয়া, ব্রাজিল 

ফোর্ডল্যান্ডিয়া, ব্রাজিল ব্রাজিলের আমাজন জঙ্গলের মধ্যে গড়ে উঠেছিল ফোর্ডল্যান্ডিয়া শহর। মূলত রাবার শিল্প কেন্দ্রিক ছিল শহরটি। প্রতিকূল পরিবেশ, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি কারণে রাবার শিল্প বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে এখানকার জনবসতিও উঠে যায়। ১৯৫০ এর দশকে স্থানটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। এখনো শহরটির পরিত্যক্ত ভবানগুলো টিকে আছে।  

সূত্র: হিস্ট্রিডটকম

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস