ভিকারুননিসায় আবার বহাল হাসিনা বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: staff-reporter

প্রকাশিত: ০৭:৪৩ ১১ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:১৩ ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদত্যাগকারী হাসিনা বেগমকেই আবার বহাল করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের কারণে সারা দেশে অধ্যক্ষ নিয়োগের কাজ বন্ধ থাকায় অব্যাহতি দেয়া হাসিনা বেগমকেই আবার ফিরিয়ে আনলো প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি। ফলে আগের সিদ্ধান্ত অনুসারেই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতেই আবার তাকে ওই পদে বহালের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতিতে যান হাসিনা বেগম। পরে ৮ জানুয়ারি ওই পদে যোগ দেন কেকা রায় চৌধুরী। এবার গভর্নিং বডির সর্বশেষ সিদ্ধান্তেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে কেকা চৌধুরীকে। 

অধ্যক্ষের পদে এমন তেলেসমাতি কাণ্ডে প্রতিষ্ঠানটিতে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, ভিকারুননিসয়া অধ্যক্ষের পদে এমন কী মধু যে তা দখলে এমন লড়াই করতে হবে?

জানা গেছে, শিক্ষক দ্বারা বাবা-মাকে অপমানের যন্ত্রণা সইতে না পেরে গত ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করে প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী। ওই ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ভিকারুননিসার পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য গত ৯ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

ওইপদে একজন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন তখনকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগম। কিন্তু নিজেই যাতে নিজের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হতে না পারেন সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের (জিবি) পরামর্শে হাসিনা বেগম পদত্যাগ করেন। কিন্তু এরপরই তিনি পদ ফিরে পেতে নানা মহলে তদবির শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠে। তারপক্ষে একজন অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।

এছাড়া ওই অভিভাবকের পক্ষে একটি চক্র মন্ত্রণালয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), শিক্ষা বোর্ডসহ নানা মহলে তদবির শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে রহস্যজনক কারণে মাউশি থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের চিঠি দেয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার রাতে জিবি পুনরায় বৈঠকে বসে। বৈঠকে হাসিনা বেগমকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়।

ভিকারুননিসার জিবি সদস্য আতাউর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করি। আবার মন্ত্রণালয়েরই নির্দেশে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ/এসআইএস