Alexa ভালো রেজাল্ট, তবুও ভর্তির জন্য ছাত্রীদের চরম মূল্য দিতে হয়

ভালো রেজাল্ট, তবুও ভর্তির জন্য ছাত্রীদের চরম মূল্য দিতে হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১১ ৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৫ ৮ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কয়েক বছর ধরে 'বিবিসি আফ্রিকা আই' পশ্চিম আফ্রিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানে কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা হয় যারা নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

পশ্চিম আফ্রিকার দুটো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর একটি ইউনিভার্সিটি অব লেগোস এবং অপরটি ইউনিভার্সিটি অব গানা। এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা যৌন হয়রানি করেন তাদের কাছে ছাত্রীর ছদ্মবেশে রিপোর্টার পাঠানো হয়।

পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে অনেক ছাত্রীকে এই পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। কারণ সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি সমস্যা বহুদিনের। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবিসি আফ্রিকা আই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। বিবিসির পক্ষ থেকে ছদ্মবেশে সাংবাদিক পাঠিয়ে ঘটনার অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।

এক রিপোর্টে প্রথম মেয়ে বলেন, আমি উচ্ছল সুখী একটি মেয়ে ছিলাম। আমার সুন্দর জীবন কাটছিল। ১৯ বছর বয়সে নাইজেরিয়ার সবচেয়ে নামকরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাই। কিন্তু আমি যেমন ভাবতাম বিষয়টি তেমন ছিল না। আমার একজন পরীক্ষক শর্ত দিলেন পরীক্ষায় ভালো নম্বরের বিনিময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে। আমি প্রত্যাখ্যান করলাম। আমি কখনোই ভাবিনি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। তবে আমি মাথা ঠাণ্ডা রাখলাম, কিছুই করলাম না। কিন্তু এই হয়রানির জন্য আমাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছে।

লেগোস ইউনিভার্সিটি'তে অনেক ছাত্র-ছাত্রী সঙ্গে কথা বলার সময় একটি নাম বারবার এসেছে-ডক্টর বনিফেস। ফরাসি ভাষার একজন সিনিয়র লেকচারার। একই সঙ্গে একজন যাজক। তার সঙ্গে কথা বলতে বিবিসি ছদ্মবেশী একজন সাংবাদিক পাঠায়। নারী এই সাংবাদিক ১৭ বছরের একজন ছাত্রী সেজে ইউনিভার্সিটি'তে যায়। গিয়ে তিনি বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক।

ওই শিক্ষক তাকে বলেন, তুমি কত সুন্দর মেয়ে, তা কি তুমি জানো? কয়েক দফা সাক্ষাতের সময় ওই শিক্ষক বারবার তার সঙ্গে এ ধরনের অশোভন কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, তুমি কি জানো আমার বয়স পঞ্চাশের কোঠায়? এবং তুমি অবাক হবে যে এই বয়সে এখনো আমি ....। বুঝলে? আমি যদি তোমার মত ১৭ বছরের একটি মেয়েকে চাই আমাকে শুধু তার সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বলতে হয়। পাশাপাশি তার হাতে কিছু পয়সা তুলে দিলেই আমি তাকে পাই।

ডক্টর বনিফেস ইউনিল্যাগে তাকে ভর্তি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিশেষ পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে আমি তোমাকে ভর্তি করিয়ে দেব। মেয়েটি তখন বলে, আপনি সত্যি বলছেন? শিক্ষক বলেন, আমি একজন এসোসিয়েট প্রফেসর। এ সময় তিনি ছদ্মবেশী সেই শিক্ষার্থীর কাছে ইউনিল্যাগের সিনিয়র স্টাফ ক্লাবে কি ধরনের হয়রানি হয় তা নিয়ে খোলাখুলি জানান।

তিনি বলেন‌, স্টার ক্লাবের উপর একটি জায়গা আছে। সেখানে মেয়েদের নিয়ে যান শিক্ষকরা। তাদের চুমু খান। সেই ছদ্মবেশী শিক্ষার্থী তখন বিস্ময় প্রকাশ করেন। ছাত্রীদের সেখানে কেন নিয়ে যান- জানতে চাইলে শিক্ষক বলেন, তারা রোমান্স করেন। তিনি বলেন, এটা একটি ক্লাব। সুতরাং তারা এটিকে কোল্ড রুম বলে বিবেচনা করেন। 

জানা যায়, তারা পরে সেখানে গোপনে ছবি তুলে নেয়। তথাকথিত কোল্ড রুমের ছবিও তোলা হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষককে পাওয়া যায়। তারা মেয়েদের সঙ্গে নাচছিল। পরে শিক্ষকরা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ওই মেয়েগুলো ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। জন্মদিনের উৎসব করছিল।

সাক্ষাতের পুরো সময়টা ওই শিক্ষক বারবার অশোভন কথা বলতে থাকেন। তিনি তাকে বিয়ের প্রস্তাব‌ও দেন। শিক্ষক আরো বলেন, আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাব এবং আমি যখন তোমাকে ছাড়বো তুমি দেখবে তোমার আর জড়তা নেই।

মেয়েটি উঠে যেতে চাইলে ওই প্রফেসর বলেন, যাওয়ার আগে তুমি কি আমাকে একবার আলিঙ্গন করবে না? বিবিসি এই সাক্ষাতের দৃশ্যটি গোপনে ধারণ করে। এ ব্যাপারে পরে তাকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি সব অস্বীকার করেন।

ইউনিভার্সিটি অব গানা বলছে, প্রফেসর জ্যাম্পোর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ খুবই গুরুতর। যৌন হয়রানি মোকাবিলায় তাদের কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। এই সমস্যা সমূলে দূর করতে তারা বদ্ধপরিকর। সূত্র- বিবিসি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর