Alexa ভালোবাসা দিবসে গাছবন্ধুর কাণ্ড ভাইরাল

ভালোবাসা দিবসে গাছবন্ধুর কাণ্ড ভাইরাল

যশোর প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

যশোরে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা এরইমধ্যে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভালোবাসা দিবসের সব আয়োজনকে ছাপিয়ে এ ঘটনাটিই সবার প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আর এই ঘটনার নায়ক হলেন গাছ দরদী ওয়াহিদ সরদার।

দিবসটিতে যশোরে বিনোদন কেন্দ্রে আসা যুগলদের গাছের চারা বিতরণ করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পার্কে আসা যুগলরাও।

গাছের প্রতি, পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তাদের গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি। 

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে যশোরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যুগলদের উপচেপড়া ভিড়। শুধু যুগলারাই নয়, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন সন্তান, স্বামী-স্ত্রীসহ নানা সর্ম্পকের মানুষ। তারা ফুল, উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। আর আগতদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করে গাছ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের আহ্বান জানান এই গাছপ্রেমী।

ওয়াহিদ সরদার, গাছ দরদী ও গাছবন্ধু নামেই পরিচিত। তিনি তিনবছর ধরে সড়কের পাশে থাকা গাছ থেকে পেরেক ও ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করে পেয়েছেন গাছ দরদী ও গাছবন্ধুর পরিচিতি। পেশায় রাজমিস্ত্রি ওয়াহিদ সরদার তিনটি শাবল ও বাইসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সাইকেলের সামনে একটি সাইনবোর্ড বাঁধা। তাতে গাছে পেরেক মারার ক্ষতি বিষয়ে সতর্ক বার্তা লেখা থাকে।

ওয়াহিদের দাবি, গাছের সঙ্গে তার সখ্য শিশুকাল থেকেই। তবে শুরুটা ২০০৬ সাল থেকে যশোর সদরসহ নানা জায়গায় গাছ লাগানোর মাধ্যম। এ পর্যন্ত ২০ হাজারের অধিক গাছ লাগিয়েছেন। যার মধ্যে সাড়ে ১৪ হাজারের মত গাছ বেঁচে আছে। যার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার পান। এ পুরষ্কার তাকে অনুপ্রাণিত করে। এরপর গাছ নিরপত্তাহীনতায় রয়েছে এমন অনুভূতি থেকে তিনি গাছের শরীরে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড ঝুলানো বন্ধ ও তা অপসারণে ডিসির কাছে আবেদন করেন। আশ্বাস দিলেও প্রশাসন কাজটি না করায় নিজেই ২০১৮ সালের ৪ জুলাই বেড়িয়ে পড়েন গাছকে যন্ত্রণা থেকে রক্ষার অভিযানে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া অর্থের সহায়তায় বানানো শাবল দিয়ে ভয় ও শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়কের পাশের গাছ থেকে পেরেকে ও সাইনবোর্ড অপসারণ করেছেন ওয়াহিদ সরদার।

ওয়াহিদ সরদার জানান, দুই মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তিনি। আজ ভালোবাসা দিবসে নতুন চিন্তার উদ্রেক হওয়ায় তিনি ফিরে এসেছেন যশোর শহরে। আজ তিনি বিশ্ব স্বীকৃত ভালোবাসা দিবসে গাছের প্রতি ভালোবাসার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, সকালে যশোর সামাজিক বনবিভাগের দফতরে গিয়ে তিনি তার ইচ্ছার কথা জানান। এসময় কর্তৃপক্ষ তাকে ১০০টি কাগজি লেবু, করমচা, উলোট কম্বল, পেয়ার, বকুল ও জলপাই গাছের চারা দেয়। সেই চারা নিয়ে পৌর পার্কে আসেন এবং পার্কে আগত যুগলদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন। অনেকে নিয়েছে আবার অনেকে নিতে চাইনি।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে প্রকৃতি ও প্রাণিকূলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘাটতি অপূরণীয়। তাই আমি মহান ভালোবাসার ভেতর দিয়ে গাছের চারা বিতরণ করে জনসচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কারণ গাছের কোনো বিকল্প নেই। আর আমাদের সামনে অনেক দুর্যোগ অপেক্ষমান। মানুষ যেন গাছকে ভালোবাসে, সন্তানের মতো যত্ন করে তার জন্যই আমার ছুটে চলা।

তিনি আরো বলেন, আজ যারা পার্কে এসেছে তারা একে অপরকে ভালোবাসে। তাদের গাছ দিলাম। তারা এ গাছ লাগিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পারবে। মানুষের মৃত্যু হলেও এ ভালোবাসা গাছরূপে স্মৃতি হয়ে থাকবে।

সামিরা ইয়াসমিন নামে এক তরুণি বলেন, ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের কাছ থেকে ফুল পেয়ে যতটা না আনন্দিত, গাছের চারা পেয়ে আরো বেশি সন্তুষ্ট। আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিল্পী আক্তার নামে অপর এক নারী বলেন, সন্তান-স্বামীকে নিয়ে পার্কে এসেছি। এসে গাছের চারা উপহার পেয়ে খুবই আনন্দিত। চাচা আমাকে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার দিয়েছেন। নিজের কাছে এটাকে খুব দামি উপহার মনে হচ্ছে। এ গাছটা আমি রোপণ করবো, বড় হবে, আমি দেখবো। যতদিন এ গাছটা থাকবে ততদিন আজকের দিনটির কথা মনে থাকবে।

শেখ শাজাহান নামে একজন বলেন, ওয়াহিদ সরদারকে আমি চিনি। ইউটিউবে ওনাকে নিয়ে অনেক নিউজ আছে। ওনাকে পেরেক তোলা, ব্যানার ফেস্টুন তোলার কারণে চিনতাম। আজকে ভালোবাসা দিবসে গাছ বিতরণ করতে দেখে খুব ভালো লাগলো। আমাকে উনি গাছ দিয়েছেন এবং আমি এটা বাড়িতে গিয়ে রোপণ করব।

এদিকে ভালোবাসা দিবসে যশোরের বিভিন্ন পার্কে গিয়ে বিয়ের আগে প্রেম না করার শপথে জীবনকে ভালোবাসার অঙ্গীকার করে দিবসটিতে নতুন মাত্রাযোগ করেছেন যশোরের এন্টি লাভ অর্গানাইজেশনের সদস্যরা। একইসঙ্গে এ সংগঠনের সদস্যরা প্রেমিক যুগলদের প্রতারণা, নষ্টামির প্রেম ছেড়ে আদর্শভিত্তিক জীবন গড়ার আহ্বান জানান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ