ভারত সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

ভারত সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৫ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:৩৯ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ট্রাম্প ও মোদি

ছবি: ট্রাম্প ও মোদি

প্রথমবারের মত ভারত সফর করে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে খুশী করতে যথাসাধ্য সবকিছুই করেছে নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া। এমনকি বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছেন ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও।

ট্রাম্প এমন সময়ে ভারত সফর করলেন যখন দেশটি বেশ অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এছাড়া ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টিকারী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও কাশ্মীরসহ আরো বেশকিছু ইস্যুতে অস্বস্তিতে রয়েছে তারা।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইন্সটিটিইউশনের ভারত বিষয়ের পরিচালক তানভি মাদন বলেছেন, ট্রাম্পের এ সফর মোদিকে রাজনৈতিকভাবে চাঙ্গা করবে। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির পাশে দেখা যাবে, যা তার জন্য ভালো সংবাদ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্পের ভারত সফরের পেছনে অন্যতম কারণ হলো ভারতীয়দের কাছে নিজের একটি ভালো ইমেজ দাড় করানো ও জনপ্রিয়তা বাড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। এ সফর তাদের সমর্থন অর্জনের একটি সুযোগ।

সাধারণত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি নিয়ে তাদের বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই।

ন্যাশনাল এশিয়ান আমেরিকান জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৬ শতাংশ ভারতীয় ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পকে।

ভারতের সফরের আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দেশটির সঙ্গে এখনই বড়সড় কোনো চুক্তিতে যেতে চান না তিনি। তবুও সফরটির মূলকেন্দ্রে ছিলো সম্ভাব্য একটি বাণিজ্য চুক্তি।

গত কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে দু’ পক্ষের মধ্যে। কিন্তু বেশ কিছু বিষয়ে উভয় দেশের অনড় অবস্থানের কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।

তবে দুই দেশের মধ্যে ২১ হাজার ৫৫৪ কোটি রুপির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৪টি এমএইচ-৬০ রোমিও সি-হক হেলিকপ্টার ও ৬টি এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কিনবে।

এ চুক্তি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার হলো। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও আমি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত ও ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করতে সম্মত হয়েছি। একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়েও আমরা সম্মত হয়েছি।

প্রতিরক্ষা চুক্তি ছাড়াও কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই দুই দেশ চাইলে তিনি মধ্যস্থতা করবেন। তবে সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে তার মন্তব্য, ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং সন্ত্রাসের মোকাবিলায় সক্ষম। আর পাকিস্তান এখন সন্ত্রাস থামাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী