Alexa ভারতের মধ্যেই একখণ্ড ‘পাকিস্তান’!

ভারতের মধ্যেই একখণ্ড ‘পাকিস্তান’!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৩:০৯ ১ জুলাই ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন তলানিতে—সেটা সবারই জানা। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, ভারতের একটি গ্রামের নাম ‘পাকিস্তান টোলা’। এমনকি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে গ্রামের নাম পাল্টানোর জন্য আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি!

বিহারের পূর্ণিয়া জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগর ব্লক। সেখানেই ‘পাকিস্তান টোলা’ নামক গ্রামটির অবস্থান। গ্রামবাসীরা জানে না, এটির নাম কীভাবে পাকিস্তান টোলা হলো। তবে বিভিন্ন নিবন্ধ থেকে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে এই গ্রামে অসংখ্য মুসলিম পরিবার বসবাস করতো। গ্রামটির আশেপাশের জমিগুলো ছিল তাদের। কিন্তু দেশভাগের পর পূর্ণিয়া জেলাটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে পড়ে যাওয়ায়, এই গ্রামের মুসলিম পরিবারগুলো চলে আসে বাংলাদেশে।

ওই গ্রামের মানুষগুলো বাংলাদেশে আসার সময় হিন্দুদের মধ্যে সম্পত্তি বদলাবদলি করে নেয়। তারপর এই গ্রামে বসবাস শুরু করেন বহু সাঁওতাল পরিবার। যেহেতু এই গ্রামের সাবেক অধিবাসীরা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চলে গেছেন। তাই এই গ্রামের নাম হয়ে যায় ‘পাকিস্তান টোলা’। সরকারি তালিকায়ও এই নাম ব্যবহার হচ্ছে। গ্রামবাসীর পক্ষে বহুবার নাম পরিবর্তনের কথা বললেও ভারত সরকার এখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পাকিস্তান টোলা গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র

দ্য ওয়াল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশ ভাগের সময় সব মুসলিম পরিবার এই গ্রাম ছেড়েছেন। এরপর থেকে এখানে হিন্দু সাঁওতাল পরিবারগুলো বসবাস করা শুরু করেছে। বর্তমানে গ্রামের জনসংখ্যা ৩০০ জন। এখানকার কেউ ন্যূনতম সুবিধাও পায় না। বিদ্যুৎ নেই, খাবারের পানির অভাব, বেশিরভাগ রাস্তাই কাঁচা। কোনো ঘরেই নেই টেলিভিশন, এমনটি মানুষের হাতে কোনো মোবাইলও দেখা যায়নি। তাছাড়া স্কুল, হাসপাতাল তো দূরের কথা, শিক্ষার হার মাত্র ৩৫.৫১ শতাংশ। শুধু তাই নয়, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ১২ কিলোমিটার।

দেসিকা হাঁসদা, সে পাকিস্তান টোলার বাসিন্দা। পঞ্চম শ্রেণীতেই পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছে। সে হিন্দি লিখতে ও বলতে পারে। যখন দেশে বড় কিছু ঘটে বলে গ্রামবাসীরা খবর পান গ্রামের কেউ শহরে গিয়ে হিন্দি কাগজ কিনে আনেন। দেসিকা কাগজ পড়ে বিষয়টা তার কল্পনা মতো ব্যাখ্যা করে দেয়। বুঝতেই পারছেন, সেখানকার মানুষ শিক্ষার আলো থেকে কতটা দূরে।

দেসিকা হাঁসদা বলেন, আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই অশিক্ষিত। এর কারণ গ্রামের তো কোনো স্কুল নেই-ই, আড়াই কিলোমিটার দূরে সিঙ্ঘিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সেকেন্ডারি স্কুল। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা হয় সেই স্কুলে। আর সেখানে যাওয়ার পথটাও অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তাই বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই পড়ালেখা করে না। যারা ক্লাস এইটের ওপরে পড়তে চায় তাদেরকে ১২ কিমি দূরের শ্রীনগর টাউনে যেতে হয়।

গ্রামের সব ঘরই কাঁচা

এই গ্রামের মানুষ শহরমুখী নয়। এখানকার সব পরিবারই কৃষি নির্ভর। ধান, গম ও ভুট্টা ফলান পাকিস্তান টোলার বাসিন্দারা। নিজেদের খাওয়ার জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করেন শ্রীনগর গিয়ে। আবার অনেকে এতদূর যেতে চান না, ব্যবসায়ীরাই ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে আসে। ফসল পানির দামে কিনে নিয়ে যায়।

বিকেল পেরোলেই রাজ্যের সব অন্ধকার নামে এই গ্রামে। কারো বাড়িতে হয়তো দু-এক ঘণ্টা টিম টিম করে জ্বলে কেরোসিনের বাতি। তাদের কাছে রাত ৮টাও অনেক গভীর সময়। যুগের পর যুগ এভাবেই চলছে। তারা বেঁচে আছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের যুথবদ্ধ আদিম মানবদের মতো। দ্য ওয়াল-এর প্রতিবেদনে লিখেছে- পাকিস্তান নামেই কি আছে অভিশাপ, যার খেসারত দিচ্ছেন ৩০০ উপেক্ষিত ভারতীয়!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে