ভাড়াটিয়া সংকটে বাড়িতে বাড়িতে টু-লেট

ভাড়াটিয়া সংকটে বাড়িতে বাড়িতে টু-লেট

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩৫ ১১ জুন ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দিন দিন ভাড়াটিয়া সংকটে পড়ছে রাজধানীর বাড়িওয়ালারা। করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ায় এমন সংকটের তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের এ নগরীতে মোট বাসিন্দা প্রায় ২ কোটি। যাদের শতকরা প্রায় ৮০ শতাংশ ভাড়াটিয়া। দেশের কর্মসংস্থানের সিংহভাগই রাজধানীতে হওয়ায় সারাদেশের মানুষ প্রতিদিনই কর্মসংস্থান বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ঢাকায় আসেন। কিন্তু করোনাভাইরাস আজ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। করোনার কারণে অনেকেই হারিয়েছে তাদের কাজ। এমনকি শ্রেণি কাঠামোতে এসেছে পরিবর্তন। নতুন করে অনেকে হচ্ছেন কর্মহীন দরিদ্র। ফলে অনেকেই বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্ছেন নিজ নিজ গ্রামে।

রাজধানীর মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাড়িতেই দুই-একটি ফ্ল্যাট ফাঁকা আছে। ভাড়াটিয়া চেয়ে 'টু-লেট' বা 'বাড়ি ভাড়া হবে' - লেখা বিজ্ঞাপনটি ভবনের মূল দরজায় ঝুলানো আছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়ির মালিকরা বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার কর্তৃক সাধারণ ছুটি দেয়ার অনেক আগেই বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ফ্ল্যাট বাসা ছেড়ে ব্যাচেলার বা মেস বাসায় উঠেছেন। তাছাড়া অনেকের কাজকর্ম বন্ধ হওয়ায় বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এছাড়াও অফিস থেকে পুরো বেতন না পাওয়ায় বা চাকরি চলে যাওয়ায় এ সমস্যা আরো বেড়েছে। 

রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরের বাড়ীর মালিক শাফায়াত হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ফলে মানুষ আজ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমার এখানে ১২ জন ভাড়াটিয়া ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪ জন বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। আর ৫ জন এ পর্যন্ত গত মাসের ভাড়া দেয়নি। আমিও পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কিছু বলিনি। তবে এভাবে আর কতদিন চলবে তা আল্লাহ-ই ভালো জানেন!

রাজধানীর উত্তরার রিয়াদ শিকদার নামে আরেক বাড়িওয়ালা বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে ভাড়া পাচ্ছি না। যে যার মতো করে যতটুকুই ভাড়া দিচ্ছেন তাই-ই নিচ্ছি। 

তিনি বলেন, যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কাকে কি বলবো? সব কর্মসংস্থান বন্ধ। অফিসে তারা বেতন পাচ্ছেন না। দুই মাস আগে দুজন ভাড়াটিয়া চলে গেছেন। টু-লেট দিয়ে রেখেছি কিন্তু নতুন করে কোন ভাড়াটিয়া পাচ্ছি না। 

এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়া দিয়ে থাকা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। একদিকে অফিস থেকে বেতন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে। যার ফলে মানুষের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ বেকার ও আয় কমে যাওয়ায় পরিবারকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া, অনেক বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন যে কারণে অনেকেই বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/টিআরএইচ