ভাঙ্গা হতে পায়রা বন্দর পর্যন্ত হচ্ছে রেলপথ

ভাঙ্গা হতে পায়রা বন্দর পর্যন্ত হচ্ছে রেলপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৯ ২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:০৫ ২ জুলাই ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করছে সরকার। জানা গেছে, প্রথম ধাপে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (পিডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে। 

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারি অর্থায়নে ৪২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিশদ ডিজাইন ও দরপত্র দলিল প্রণয়নসহ ভাঙ্গা জংশন (ফরিদপুর) থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শুরু হয়। 

সমীক্ষা প্রকল্পের প্রধান কাজ দুটি। প্রথমটি হচ্ছে— বিশদ ডিজাইন ও দরপত্র দলিল প্রণয়নসহ ফরিদপুর থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কাজ করা। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে— গাণিতিক মডেলে বিস্তারিত টপোগ্রাফি সার্ভে, হাইড্রোলজিক্যাল এবং মরফোলজিক্যাল স্টাডি। দুটি কার্যক্রম ছয়টি প্যাকেজে সম্পন্ন হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান বলেন, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। কাজ এখনো ২০ শতাংশ বাকি। কাজগুলো সম্পন্ন করতে আরো সময় লাগবে। 

তিনি বলেন, ২১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে এখন পর্যন্ত ১২টি স্টেশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্টেশনগুলো হবে- টেকেরহাট, মাদারীপুর, বরিশালের গৌরনদী, বরিশাল বিমানবন্দর, বরিশাল নগরীর কাশিপুর, বাকেরগঞ্জ, পটুয়াখালী, বরগুনার আমতলী, পায়রা বন্দর, পায়রা বিমানবন্দর এবং কুয়াকাটা। এছাড়া আরো কয়েকটি সাব-স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, এই পথে আড়াইশ’ রেলসেতুর মধ্যে ৮টি বড় সেতু। এগুলো হলো- আড়িয়াল খাঁ নদ, দোয়ারিকা ও শিকারপুরে থাকা সন্ধ্যা নদী, কীর্তনখোলা, পায়রা, লোহালিয়া, আন্ধারমানিক এবং হাজীগঞ্জ নদ-নদীর ওপর নির্মিত হবে। এছাড়া টেকেরহাট-মহিপুরসহ কয়েকটি নদীতে নির্মাণ হবে মাঝারি রেলসেতু। বাকি সেতুগুলো হবে ছোট আকৃতির।

বরিশাল বাংলাদেশের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে খ‌্যাত। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে বরিশাল ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরো বাড়বে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ আরো ভালো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরআর/এসআর