ভাঙা বাঁধে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন  

ভাঙা বাঁধে পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন  

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫১ ৩০ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে চরাঞ্চলের হাওরের  ৯ হেক্টর জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। 

এ অবস্থায় কৃষকদের বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে আধাপাকা ধান। এছাড়া এতে নতুন করে হুমকিতে পড়েছে হাওরের নিচু এলাকার শত শত বিঘা বোরো ধান। 

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা গুলো হলো রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী, চর ঘুঘুমারী, সোনাপুর, চর কাজাইকাটা, খেদাইমারী, সুখের বাতী, মশালের চর, ফুলকার চর এবং মিয়ার চর ও রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি, চর সাজাই, মোহনগঞ্জ, নয়ার চর।

রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউপির বাঘমারা বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার বাঁধ ২০১৯ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। বাধটি সংস্কার না হওয়ায় এবার বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে ব্রম্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙা বাঁধটি দিয়ে ব্রম্মপুত্র নদেও পানি প্রবেশ করে।

এতে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী, চর ঘুঘুমারী, সোনাপুর, চর কাজাইকাটা, খেদাইমারী, সুখের বাতী, মশালের চর, ফুলকার চর এবং মিয়ার চর ও রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি, চর সাজাই, মোহনগঞ্জ, নয়ার চরের বিপুল সংখ্যক কৃষকের প্রায় ৯ হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফয়জার রহমান বলেন, আমার জমির ধান পাকেনি। নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাচা ধান কেটে ফেললাম। জমিতে পানি জমে যাওয়ায় শ্রমিকরা ধান কাটতে চায় না। তাই বেশি দামে শ্রমিক নিয়ে জমির ধান কাটতে হচ্ছে। 

অপর কৃষক আলী আজম বলেন, আমাদের নদী ভাঙনের কান্না, না থামতেই চরের হাওর অঞ্চলের স্বপ্নের সোনার ফসল বোরো ধান এবার ডুবে যাচ্ছে। তাই আমি আধাপাকা ধান কাটলাম। 

আরেক কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, তার জমির ধান অর্ধেক পেকেছে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি জমির আধাপাকা ধান কাটছেন। এতে ধানের ফলন কমবে। 

রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন, কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি প্রবেশ করায় চরশৌলমারী ও বন্দবেড় ইউপিতে প্রায় ৯ হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ