Alexa ভাঙনেও থেমে নেই মাটি কাটা 

ভাঙনেও থেমে নেই মাটি কাটা 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে সারা বছর দিশেহারা হয়ে থাকেন মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনেও থেমে নেই কুচক্রী মহলের নদী পাড়ের মাটি কাটা।

অবাধে মেঘনা পাড়ের মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। নদী তীরের মাটি যাচ্ছে ভাটায় ভাটায়। একটি অসাধু চক্র নদীর তীর কেটে মাটি সরবরাহ করছে জেলার বিভিন্ন ইটভাটায়। 

নদীর তীর কেটে নেয়ায় ভাঙন বেড়ে আরো হুমকিতে পড়ছে বিশাল এলাকা, প্রশস্ত হচ্ছে নদী। যে কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বেড়েছে ভাঙন আতঙ্ক।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মেঘনাপাড়ের মাটি কাটা। প্রায় অর্ধশত শ্রমিক এ মাটি কাটার কাজ করছেন। এ যেন মেঘনা পাড়ে চলছে মাটি কাটার মহোসৎব।

উপজেলার চর কালকিনি ইউপির নবীগঞ্জ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত শ্রমিক নদীর তীরের মাটি কেটে ১০ থেকে ১২টি ট্রাক্টর-ট্রলি বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে মাটি কেটে নিতে দেখা গেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইটভাটার মালিক দালালদের মাধ্যমে স্থানীয় জমির মালিকদের মাটি বিক্রির জন্য প্রলোভন দেখাচ্ছে। নদীতে জমি ভেঙে যাবে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে নামে মাত্র টাকা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে নদীর তীরের মাটি। 

স্থানীয় এলাকাবাসী আনোয়ার, জয়নাল, আবদুল করিম ও আব্বাছ আলী জানান, কমলনগর নদীভাঙন কবলিত এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে এভাবে মাটি কেটে নিতে থাকলে ভাঙন আরো বাড়বে। বিলীন হবে বিস্তীর্ণ জনপদ। হুমকির মুখে পড়বে হাজারো পরিবার। এছাড়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তর পাশ থেকে প্রতিদিন মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমেও মেঘনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

কমলনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ওমর ফারুক সাগর বলেন, মেঘনার ভাঙন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। দালালরা স্থানীয় জমির মালিকদের মাটি বিক্রির জন্য প্রলোভন দেখাচ্ছে। কেউ যাতে নদীর তীর থেকে মাটি কাটতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা তৎপর থাকবো। 

কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী বলেন, একটি চক্র জমির মালিকদের ভুল বুঝিয়ে মাটি কিনে ইটভাটায় দিচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে কমলনগর উপজেলা। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সচেতন হতে হবে। যারা মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

কমলনগরের ইউএনও মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ