Alexa ভবনে আগুন লেগেছে? দিগ্বিদিক না ছুটে যা করণীয়

ভবনে আগুন লেগেছে? দিগ্বিদিক না ছুটে যা করণীয়

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:১৬ ১১ জুন ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বললে প্রথমেই শহরের বসতবাড়িতে আগুন লাগার প্রেক্ষাপট ভেসে ওঠে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এই শহরের বেশ কয়েকটি ভয়াবহ আগুনের দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে শতাধিক জীবন। শুধু এই যান্ত্রিক শহরের শিল্প প্রতিষ্ঠানে নয় গ্রামের বিভিন্ন স্থাপনায় নানা কারণে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ হতাহতও হয় কিন্তু সেই সব ঘটনা খবরে শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে খুব কম। কারণ মফস্বলের কোন বিষয় নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই বললে চলে।

বিশেষ করে আমরা যারা শহরে বসবাস করি, তারা নানাভাবে খবরের শিরোনাম হওয়ার সুযোগ পায় কিন্তু গ্রামের মানুষদের সে সুযোগটা হয়ে উঠে না। কারণ সেখানে মিডিয়া কভারেজ ও বিভিন্ন কিছুর ঘাটতি রয়েছে। যা বরাবরই পিছিয়ে রেখেছে গ্রামবাসীদের। 

তবে সবখানেই (শহর-গ্রাম) ইদানিং বেড়ে গেছে আগুন দুর্ঘটনা। এর সবচেয় বড় কারণটি হচ্ছে, আমাদের সচেতনতার দারুণ অভাব। তাছাড়া যত্রতত্র নিয়ম না মেনে রাসায়নিক বা দাহ্য পদার্থ আবাসিক এলাকায় গুদামজাত করা, নকশা অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ না করা ইত্যাদি কারণে এই দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু আগুন যদি ধরেই যায় আর আপনি যদি ভেতরে আটকা পড়েন, তাহলে কী করবেন? 

পাঠক বন্ধুরা আমরা যারা শহরে বাস করি, আগুন দুর্ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুটা হলেও জ্ঞাত। তবে যারা গ্রামে বসবাস করে, তাদের এই সম্পর্কে হয়ত ধারণা কম হতে পারে। তাই সকলের কথা মাথায় রেখে আমাদের আজকের আলোচনা, আগুন থেকে বাঁচতে কী হলে আমাদের করণীয়-   

এদিকে, ঢাকা শহরে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চকবাজারের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমরা কতটা অনিরাপদ। বিশেষ করে সবখানেই (শহর-গ্রাম) ইদানিং বেড়ে গেছে আগুন দুর্ঘটনা। এই কারণে আসুন হঠাৎ আগুন থেকে বাঁচতে কী করতে হবে, তা জেনে নেয়।

মাথা ঠান্ডা রাখুন

কোন ভবনে আগুন লাগলে আমরা খুব দ্রুত মাথা নষ্ট করে ফেলি। অথচ মাথা নষ্ট না করে উল্টো ঠাণ্ডা রাখা আমাদের উচিত। আর আগুন লেগেছে শুনার পর আমরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকি৷ তবে এসবের কিছু না করে মাথা ঠাণ্ডা রেখে খুঁজুন, বের হওয়ার সঠিক পথটি।  

আগুনের উৎস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন 

আগুন লাগলে প্রথমে তার উৎস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। পরে নিশ্চিত হওয়ার পর ওই স্থানের আগুন নেভানোর কাজ করুন। আর আগুন যদি খুব বেশী থাকে, তাহলে প্রস্থানের রাস্তা খুঁজে বের করুন। আর আগুন লাগলে সবসময় আগুন প্রস্থান গেইট দিয়ে বের হবার চেষ্টা করুন। হাতের কাছে অগ্নি নির্বাপক কোন যন্ত্র থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। এর চেয়ে আরো কোন নিরাপদ রাস্তা থাকলে, তা খুঁজে বের করুন।

কোন ধরণের আগুন থামানোর চেষ্টা আপনি করবেন?

মূলত সব ধরণের আগুন থামানোর চেষ্টা না করে শুধুমাত্র ছোটখাট আগুন থামানোর চেষ্টা করুন। পানি থাকলে তা ব্যবহার করুন। যদি দেখেন আগুন আপনার আয়ত্তের বাইরে তাহলে তা কখনোই নিভানোর চেষ্টা করবেন না। বরং দ্রুত প্রস্থান করুন।

দামী জিনিসপত্রের লোভ থেকে বিরত থাকুন

আমরা অনেকেই এই কাজটি করে থাকি। আগুন লাগলে আমাদের জিনিসপত্র গুছাতে থাকি। সেটা কখনোই করবেন না। কারণ বেঁচে থাকলে জীবনে অনেক কিছুই আবার কেনা সম্ভব। কিন্তু জীবনটা চলে গেলে তো সবই গেলো। মনে রাখবেন, নিজের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব প্রস্থান করার চেষ্টা করুন।  

আগুন লাগলে কী করবেন? 

ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিন বা ফোন করুন ৯৯৯ এ। আমাদের মধ্যে অনেকেই আগুন লাগলে দিশেহারা হয়ে পড়ি। তা না হয়ে প্রথমেই চেষ্টা করুন ফায়ার সার্ভিস অথবা নিরাপত্তা বাহিনীকে খবর দিতে৷ আর সবসময় এই ধরণের নাম্বারগুলো মোবাইলে সেভ রাখার চেষ্টা করবেন৷ কারণ, বিপদ কাউকে বলে আসে না। তাই দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে আগে থেকে সতর্ক থাকবেন।

কাপড়ে আগুন লাগলে কী করণীয়

আমাদের কাপড়ে আগুন লাগলে আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই দৌড় দেয়। এটা একেবারে করা যাবে না। কারো শরীরে আগুন লাগলে ফ্লোরে শুয়ে পড়ুন। কারণ দৌড় দিলে আগুন আরো বেশী ধরে যায়। তাই ফ্লোরে শুয়ে গড়াগড়ি দিতে থাকুন, যতক্ষণ না আগুন নেভে।

ঘরে ধোয়া ভর্তি হলে কী করবেন

এই সমস্যাটি সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ের দুর্ঘটনাগুলোতে যত না মানুষ আগুনে পুড়ে মরেছে তার চেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে। তাই ঘর কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে অর্থ্যাৎ ঘর ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হয়ে গেলে জানালা খুলে দেবেন। আর যদি ঘরের জানালা দরজা খোলা না থাকে, তাহলে সেই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আপনাকে আরো বেশি বিপদে পড়তে পারেন। আর খুব বেশী ধোঁয়ার মধ্যে মুখ চোখ না ঢেকে কখনো বের হতে যাবেন না। প্রথমেই হাতের কাছে যা আছে তা দিয়ে মুখ নাক ঢেকে নিন। যদি সম্ভব হয় তাহলে সেই কাপড়টি পানিতে ভিজিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে পরনের শার্ট গেঞ্জি খুলে তা দিয়ে মুখ চোখ ঢেকে নিন। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বের হবার চেষ্টা করুন। 

আগুন কতদূরে

ঘর থেকে বের হবার আগে দরজার হাতলে হাত দিন, যদি দেখেন হাতল অনেক গরম, হাতই দেয়া যাচ্ছে না। তাহলে নিশ্চিত হতে পারেন বাইরে বিপদজনক কিছু ঘটতে চলেছে৷ তাই দরজা দিয়ে বের না হয়ে অন্য উপায় বের করুন।

বের হওয়ার উপায়ন্তর না থাকলে

ঘর থেকে বের হওয়ার উপায়ন্তর না থাকলে জানালা দিয়ে রঙ্গিন কাপড় নাড়াতে থাকুন। যেভাবে পারেন ফায়ার সার্ভিস বা বাইরের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করুন। যাতে তারা বুঝতে পারে, আপনি ভেতরে বিপদে পড়েছেন।

দরজা দিয়ে বের হতে না পারলে কী জানালা দিয়ে লাফ দিবেন?

জানালা দিয়ে লাফ দেয়ার চেষ্টা কখনোই করবেন না। কারণ, আগুন দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার অবিকল রাস্তা থাকলেও এই কাজটির ফলে আপনার জীবন আরো দ্রুত চলে যাবে। তাই উত্তেজিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে অন্য কোন উপায় বের করার চেষ্টা করুন। 

ইলেকট্রনিক সুইচ চালু থাকলে করণীয় কী

আগুন লাগলে প্রথমেই কোন কিছু না ভেবে ইলেকট্রিক সকল সুইচ অফ করে দেওয়া ভালো। সব সময় চেষ্টা করবেন এই সুইচগুলো অফ করে রাখার। এছাড়াও রাতে ঘুমানোর আগে একবার দেখে নিন অপ্রয়োজনীয় সুইচ অফ করেছেন কিনা। কারণ ইলেকট্রিক সুইচ থেকেও আগুন দুর্ঘটনা হতে পারে।

লিফটে ছড়বেন কিনা

আগুন লাগলে কখনোই লিফট ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন লিফটে উঠেছেন তো মৃত্যুকে আরো দ্রুত ডেকে এনেছেন। তাই লিফট ব্যবহার না করে সিড়ি দিয়ে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা করুন। 

ছাদে উঠবেন কিনা

আগুন লাগলে শুরুতে ছাদে উঠার কোন দরকার নেই। যদি আগুন প্রস্থান গেইট দিয়ে বের হবার সুযোগ থাকে, তাহলে শুরুতে তাই করুন। আর যদি তার সুযোগ না হয়, তাহলে ছাদে উঠে নিজেকে সেভ করতে পারেন। তবে আগুন লাগলে অবশ্যই ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ চোখ ঢেকে ফেলবেন।

বাথরুমে অবস্থান করবেন কিনা

অনেকের একটি ভুল ধারণা আছে, সেটি হল অনেকে মনে করে আগুন লাগলে বাথরুমের পানিতে হয়ত রক্ষা পাওয়া যাবে। এ কাজটি কখনো করতে যাবেন না। বাথরুম সাধারণত ছোট হয়, এতে ধোয়া অল্পতেই পরিপূর্ণ হয়ে যায়। দম আটকে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা এতে আরো বেশী থাকে।

আর আগুন দুর্ঘটনায় অবশ্য অন্যের উপকারে এগিয়ে আসার চেষ্টা করুন।  

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics