বয়স্ক-বিধবা ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে!

বয়স্ক-বিধবা ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৪৬ ৭ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একাধিক বয়স্ক-বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনও বরাবরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনজন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা।

জানা গেছে, সরকার সমাজসেবা মন্ত্রনালয়ের অধিনে বয়স্ক, বিধবাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নামে একটি প্রকল্প চালু করে। প্রকল্প চালু হওয়ার পর ভাতা গ্রহণকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রতি মাসে ৫শ টাকা হিসেবে প্রতি ৩ মাস পর পর তাদের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সুবিধাভোগীদের প্রত্যেককে একটি করে রশিদ বই প্রদান করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এ ক্ষেত্রে ইউপি সদস্যরা বইটি সংগ্রহ করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বিতরণ করেন। কিন্তু উপজেলার সারপুকুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম তার ওয়ার্ডের সবার বহি সংগ্রহ করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেও ১৫/২০ জনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত চাইলে কাউকে আংশিক, কাউকে এক কেজি মাংস কিনে দেন এবং ১৫/২০ জনকে কিছুই দেননি ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম। এদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের আফতাব উদ্দিন দুলাল, শৈলবালা ও দেবন্দ্রনাথ নামে তিনজন তাদের অর্থ ফেরত এবং বিচার চেয়ে   ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তাদের একজন সনেকা বেওয়া। তিনি বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। পরে সরকারের দেয়া বিধবা ভাতার একটি কার্ড পাই। কিছুদিন টাকা তুলে খরচ করলেও গত তিন মাসের টাকা রফিকুল মেম্বর তুলে নিয়েছেন। 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

সারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধান বলেন, কয়েকজন ভাতাভোগী আমার কাছে এমন অভিযোগ করেছিল। যার প্রেক্ষিতে রফিকুল ইসলামকে টাকা পরিশোধ করতে বলেছি। তিনি পরিশোধ করতে চেয়েও তা করেননি। 

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রওশন মন্ডল বলেন, ব্যক্তি বা নমিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভাতার অর্থ প্রদান করার নিয়ম নেই। এরপরও ব্যাংক কীভাবে ইউপি সদস্যদের হাতে টাকা পদান করলো? এ নিয়ে ভেলাবাড়ি কৃষি ব্যাংক কার্যালয়কে শোকজ দেয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ শুধু সারপুকুরে নয়, ভেলাবাড়ি ইউপিতেও রয়েছে। সবগুলোর তদন্ত চলছে।

আদিতমারী ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ