বড় ক্ষতি ছাড়াই আম্ফানের বিদায়, বাড়িতে ফিরছেন তিন লাখ মানুষ

বড় ক্ষতি ছাড়াই আম্ফানের বিদায়, বাড়িতে ফিরছেন তিন লাখ মানুষ

বাগেরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১১ ২১ মে ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট অতিক্রম করে বিদায় নিয়েছে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। এরইমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রের তিন লাখ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।  

বুধবার রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা গ্রামে ৭-৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসহ আঘাত হানে। এতে গ্রামের ৩৫/৩ পোল্ডারের ২০০ মিটার রিংবাধ ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় তলিয়ে যায় জেলার ৪ হাজার ৬৩৫টি চিংড়ি ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আউস ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজির।

বৃহস্পতিবার সকালে পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বাগেরহাটের ডিসি মো. মামুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার সকালে জানান, ঝড়ের আগে জেলার ১ হাজার ৩১টি সাইক্লোন শেল্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৩ লাখ জনগণ বৃহস্পতিবার সকালে নিজ নিজ গৃহে ফিরতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদফতর কাজ শুরু করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগেই জেলার বোরো ধান ঘরে তুলে নিতে পেরেছিলেন কৃষকরা। তবে ঝড়ে আউস ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, জেলার চিংড়ি উৎপাদনের প্রধান এলাকা মোংলা, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, রামপাল ও সদর উপজেলায় এ ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকার ৪ হাজার ৬৩৫টি মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। এতে জেলার মৎস্য চাষিরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারিভাবে ক্ষতি ধরা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। তবে বেসরকারি হিসাবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে দাবি চিংড়ি চাষিদের। 

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বন তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের কটকা, দুবলা, চরাপুটিয়া ও কোকিলমুনি বন অফিসের কম্পাউন্ডে দল বেঁধে কয়েকশ হরিণ আশ্রয় নিয়েছিল। ঝড়ের অগ্রভাগ সুন্দরবনে প্রথমে আঘাত হানে। রাতভর চলে ঝড়ের তাণ্ডব। প্রাথমিকভাবে বনের ৮টি অফিসের টিনের চাল উড়ে গেছে। এছাড়া ৫টি অফিসের জেটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের জিএম জাকির হোসেন জানান, রাতভর ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতবিছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা জেলা। ঝড়ে গাছপালা পড়ে বিছিন্ন রয়েছে প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ। তবে সকাল থেকেই জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ সচল করতে কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। তবে অধিকাংশ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ