Alexa বড়লেখায় বাড়ি ঘরে বানরের হামলা, আহত ৭

বড়লেখায় বাড়ি ঘরে বানরের হামলা, আহত ৭

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১১ ২২ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির বাড়ি ঘরে প্রায় ঘটছে বানরের হামলার ঘটনা। এমন ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছেন। 

গত দুই মাস ধরে এলাকায় বানরের উৎপাত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বানরের উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ। গত শনিবার ভোররাতে বানরের আক্রমণে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া গত দুই মাসে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল মাসুদ আহমদ, ইউপির সায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মাতাবুর রহমান ও আমান আহমদ, রাজপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের ছুরতুন বেগম নামের এক নারী এবং স্টেশনবাজার এলাকার সুলেমান আহমদসহ আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ৮টি চা বাগান রয়েছে। ইউপির পাহাড় ও চা বাগানে অনেক বানর রয়েছে। এরা খাবারের সন্ধানে অনেক বছর থেকেই দল বেঁধে বাড় ঘরে চলে আসে। মানুষের ক্ষেতের ফসল খেয়ে কিংবা নষ্ট করে আবার বনে চলে যায়। বছর খানেক আগে দলছুট একটি বানর লোকালয়ে আসে। বানরটি মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করত। মানুষও ভালোবেসে পরম যত্নে তাকে লালন পালন করছিল। এর মধ্যে আরো ৪-৫টি বানর লোকালয়ে আসে। গত ছয়মাস আগে আহত (ল্যাংড়া) আরেকটি বানর আসে। আহত (ল্যাংড়া) বানরটি শান্ত স্বভাবের বানরটিকে তাড়িয়ে দেয়। বানরগুলো শাহবাজপুর স্টেশন বাজার, রাজপুর, সায়পুর, পূর্বদৌলতপুর এলাকায় ঘোরাফেরা করে।

গত দুই মাস থেকে হঠাৎ করে আহত (ল্যাংড়া) বানরটি মানুষের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করে। ভোরবেলা ও রাতে একা পেলে লোকজনকে আক্রমণ করে বসে। গত দুইমাসে এই বানরের আক্রমণে ৭ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মানুষের মাঝে একটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা আতঙ্কে রয়েছে। অন্য বানরগুলো মানুষের ঘরে প্রবেশ করে রান্না করা খাবার নিয়ে দৌড় দেয়, ফসল নষ্ট করে। কাপড় চোপড় নিয়ে দৌড় দেয়। বানরের এই উৎপাতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।

শাহবাজপুর স্টেশন বাজার এলাকার বাসিন্দা রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, বছর আগে একটি বানর আসে। মানুষের সাথে ভালো আচরণ করত। মানুষও খাবার দিত। গত ছয়মাস আগে আরো ৫টি বানর আসে। এরমধ্যে একটি বানর ল্যাংড়া। এটিই মানুষকে আক্রমণ করছে। বেশ কয়েকজন হামলায় আহত হয়েছে।

রাজপুর এলাকার জয়নাল আবেদীন বলেন, একা পেলেই হঠাৎ আক্রমণ করে। আতঙ্কে চলাফেরা করি। কখন আক্রমণ করে কে জানে। ভয়ে এখন ভোরে বের হই না।

ইউপির বড়আইল এলাকার বাসিন্দা নেপুর আলী, বানরের যন্ত্রণায় আমরা কত কষ্টে আছি বুঝাতে পারব না। ক্ষেত্রের সবজি, ফল-ফসল ইতা সব তারার মনে হয় (সব কিছু বানরের)। রান্দিয়া রাখা খাবার (রান্না করা খাবার) নিয়ে যায়। অনেক বছর থেকে অতিষ্ঠ।

স্থানীয় উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, বানর বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে। আমরা তাৎক্ষণিক বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা একদিন আসবেন। তারা জানিয়েছেন এগুলো ধরা যায় না। তবে মানুষকে সচেতন করে যাবেন। যাতে বানরগুলোকে উত্ত্যক্ত না করা হয়।

বনবিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, স্থানীয়ভাবে আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের অফিসে বানর ধরার কোনো যন্ত্রপাতি নেই। বিষয়টি মৌলভীবাজার বন্য প্রাণী রেঞ্জের সহকারী কর্মকর্তার কাযালয়ে বিষয়টি অবগত করেছি। তারা সরেজমিনে দেখে যাবেন। আমিও একবার দেখে আসব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ