ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপিতে গৃহদাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপিতে গৃহদাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৯ ২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৫:০২ ২ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না দেয়া, আধিপত্য বিস্তার, অসন্তোষ, আর চরম অন্তঃকোন্দলে ভরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপি। কসবা-আখাউড়া, বাঞ্চারামপুরসহ প্রায় প্রতিটি উপজেলার চিত্র একই। 

একযুগ ধরে এলাকায় আসেন না খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সাবেক এমপি ছিলেন। এখন দেশেও নেই। সুদূর কানাডা বসেই প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। তার দেশে না থাকার সুযোগটি কাজে লাগাতে ভুলেননি প্রকৌশলী মুসলেহ উদ্দিন। তার সঙ্গে আছেন কৃষকদল নেতা নাসির উদ্দিন হাজারী। তারা দুজনই এখন মুশফিকুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকাশ্যে এলো একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা নিয়ে। বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মুসলেহ উদ্দিন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মতো খালেদা জিয়ার আরো একজন উপদেষ্টা আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে। তিনি হলেন একে একরামুজ্জামান। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এলাকায় তারও কোনো খোঁজখবর নেই। চলতি বছরের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে নেতাকর্মীদেরকে অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানালেও এই আহ্বানে কোনো সাড়া দেননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনেও গ্রুপিং থেমে নেই। এক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সাবেক এমপি আনোয়ার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন তাপস। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদীর হোসেন জসিম। নির্বাচন এলেই তাদের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি জানান দেয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়-৬ (বাঞ্চারামপুর) আসনেও গ্রুপিংয়ে আছে বিএনপির। একগ্রুপের নেতৃত্বে আছেন সাবেক এমপি আবদুল খালেক। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন বিএনপি নেতা রফিক সিকদার। আবদুল খালেক ও রফিক সিকদার দুজনই ঢাকায় বসবাস করেন। কেউ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না।

সরাইল-আশুগঞ্জ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ হলেও সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আবদুর রহমান আদালত নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কম যাননি আনোয়ার হোসেনও। তিনি ব্যস্ত টিউশনি নিয়ে।

সদর উপজেলা আর বিজয়নগর উপজেলা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন হলেও কোনো উপজেলায় সুবিধা করতে পারেনি বিএনপি। বর্তমান কমিটির সভাপতি শেখ মহসিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রহমানের সঙ্গে সাবেক কমিটির সভাপতি হারুন মুন্সী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লিটন মিয়ার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য।

এ আসনের সদর উপজেলায়ও নেতাকর্মীদের সুবাতাস দিতে পারেনি বিএনপি। বর্তমান সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ঢাকায় অবস্থান করেন ও সাধারণ সম্পাদক আলী আজম সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেন। এই দুজনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে আছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি নূরে আলম ছিদ্দিকী। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির দাবি, বিএনপি একটি বৃহৎ সংগঠন। এই সংগঠনে প্রতিযোগিতা আছে কিন্তু গ্রুপিং নেই। নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে জেলা বিএনপিতে এছাড়া আর কিছুই নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস/এইচএন