ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫শ’ ৮৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫শ’ ৮৫ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ১৪:৪৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৪৪ ১৩ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫শ’ ৮৫ অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। মহালয়ার পূণ্যলগ্নে পুরোহিতের চন্ডী পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দূর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা দিচ্ছেন তুলির শেষ আচর। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গগন সাহা বাড়ী রোড সার্ব্ববজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় সাহা, সাধারণ সম্পাদক আশিষ সাহা এবং সজল বণিক জানান, দশভূযা দেবি দুর্গা মায়ের আগমনী বার্তায় ধরনীর মতো আমাদের মানবকূল বেশ পুলকিত। এ বৃহৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। 

তারা জানান, পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মণ্ডপ তৈরি,আলোক সজ্জা, প্রতিমা তৈরিসহ নানা অনুসাঙ্গীক কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন কেবল বাকি আনুষ্ঠানিকতা।
পূজারী নীতিশ রঞ্জন রায়, সজীব দেবনাথ জানান মাতৃরুপে প্রকাশ দেবী দুর্গা মায়ের রাতুল চরনে ভক্তরা পুস্পাঞ্জলী দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রতিমা শিল্পী ঝন্টু পাল, সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউপির রবীন্দ্র পাল,নবীনগর উপজেলার ভোলাচং গ্রামের বলাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রতিটি দুর্গা প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রুপ দেয়ার জন্যে শেষ মূহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূজারিদের হাতে প্রতিমা তুলে দিতে হবে। এতে করে তারা নির্ঘুম সময় পার করছেন। পাশাপাশি পূজা মণ্ডপকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রুপ দেয়ার জন্যে কারু শিল্পীরা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সোমেষ রঞ্জন রায় বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূজার সংখ্যা ১৫টি বেড়েছে। গত বছর ৫৭০টি মণ্ডপে পূজা হয়েছিলো। এ বছর ৫শ’ ৮৫টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌরসভাসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮৩ টি মণ্ডপ, নাসিরনগর উপজেলায় ১৪৭টি, সরাইল উপজেলায় ৫২টি, কসবা উপজেলায় ৪৭টি, নবীনগর উপজেলায়
১১৪টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ২০টি, বাঞ্ছারাম উপজেলায় ৪৩টি, আখাউড়া উপজেলায় ২০টি এবং বিজয়নগর উপজেলায় ৫৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। 

তিনি জানান, পূজার পরেই দেশের জাতীয় নির্বাচন। পূজায় যেন কোনো চক্র বিশৃঙ্খলা চেষ্টা বা কোনো ধরনের অপতৎপড়তা চালাতে না পারে এ জন্যে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি কামনা করেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি আনোয়ার হোসেন খান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মণ্ডপ এলাকায় পুলিশি তৎপড়তা থাকবে। মণ্ডপ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। পাশপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া পুলিশের মোবাইল টিমের পাশপাশি সাদা পোষাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ কালীবাড়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অচিন্ত চক্রবর্তী বলেন, শাস্ত্র মতে দশভুযাদেবী মা দূর্গা এ বছর ঘোটক (ঘোড়া) আগমণ। সপ্তমী থেকে নবমী তিথিতে তারা দূর্গামায়ের রাতুল চরণে ভক্তদের নিয়ে পুস্পাঞ্জলী প্রদান করবেন। অঞ্জলীতে দেশ ও জাতির জন্যে মঙ্গল কামনা করবেন। আগামী ১৯ অক্টোর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫দিন ব্যাপী দুর্গোৎসবের  মূল আনুষ্ঠানিকতা।

ডেইলি বাংরাদেশ/জেডএম