Alexa ব্যক্তি শত্রুতার ঝাল মেটালো মরিচ ক্ষেতের সঙ্গে!

ব্যক্তি শত্রুতার ঝাল মেটালো মরিচ ক্ষেতের সঙ্গে!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৯ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ইসরাইল হোসেন নামে এক বর্গাচাষির প্রায় দুই হাজার মরিচ গাছ তুলে ব্যক্তি শত্রুতার ঝাল মিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন কৃষক ইসরাইল।

ক্ষতিগ্রস্ত ইসরাইল হোসেন উপজেলার ভাদাই ইউপির আরাজি দেওডোবা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভূমিহীন কৃষক ইসরাইল হোসেন অন্যের জমি চাষাবাদ করে তিন সন্তানের লেখাপড়াসহ পাঁচ সদস্যের সংসার পরিচালনা করছেন। তিন বছর আগে সঞ্চিত অর্থের ২০ হাজার টাকায় স্থানীয় আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুর রহিম শিমুলের ১৩ শতাংশ জমি বন্দক নিয়ে চাষাবাদ করছেন। হঠাৎ সেই জমির মালিকানা দাবি করে ফসল নষ্ট করার হুমকি প্রদান করেন পাশের টেপাটারী গ্রামের কাসেম প্রধানের ছেলে আলা উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও জয়নাল। 

প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে ওই ১৩ শতাংশ জমিতে এক হাজার ৮০০টি মরিচ চারা রোপন করেন ইসরাইল। সন্তানের মতোই পরিচর্যা করে বড় করেছেন মরিচ গাছ। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মরিচ ক্ষেত। মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যেই ক্ষেতের মরিচ বাজারে পাঠানো যেত। হঠাৎ বুধবার রাতে সেই ক্ষেতের সবগুলো মরিচ গাছ তুলে পাশের স্বর্নামতি সতি নদীতে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 

বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতের এ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে ক্ষেতের কিছু গাছসহ থানায় হাজির হন ইসরাইল হোসেন। 

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় আলা উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও জয়নালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক ইসরাইল হোসেন। 

কৃষক ইসরাইল হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তিন বছর ধরে ওই জমি চাষাবাদ করছি। গত বছর প্রায় লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। এবারো লক্ষাধিক টাকা আয় হতো। কিন্তু আলা উদ্দিনরা মরিচ গাছগুলো তুলে নদীতে ফেলে দিয়েছে। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। 

কৃষক ইসরাইলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গাছগুলো নিজের সন্তানের মতো বড় করেছি। সকালে দেখি তার সেই মরিচ গাছগুলো তুলে ফেলে দিয়ে স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে আলা উদ্দিনরা। আলা উদ্দিনদের বিচার চাই।

ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বাংলাদেশকে বলেন, গরিব চাষির মরিচ ক্ষেতের সঙ্গে শত্রুতা করা ঠিক হয়নি। জমি পেলে আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত ছিল তাদের। যারা এ কাজ করেছেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা চরম অমানবিক কাজ এবং বড় অপরাধ। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ