Alexa বোতলজাত পানি থেকে সাবধান!

বোতলজাত পানি থেকে সাবধান!

জুনায়েদ হোসেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:১৩ ৬ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো পানি। কিন্তু আমরা যখন এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি বিশুদ্ধকরণের নামে বিভিন্ন রাসায়নিক বা ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করি তখন সে পানি শরীরের জন্য উপকারিতার পরিবর্তে যে কতখানি ক্ষতি করতে পারে তা কি আমরা জানি?

দৈনন্দিন কাজের জন্য আমরা যখন ঘর থেকে বের হই তখন অনেকেই সঙ্গে পানি বহন করিনা, তখন বাধ্য হয়ে বোতলজাত পানি কিনে খেতে হয় এবং আমরা পানি কেনার সময় বেশি মিষ্টি পানিকেই অধিক প্রধান্য দিয়ে থাকি। আমরা মনে করি যে জল যত মিষ্টি হয় সেই জল কত বেশি পরিষ্কার এবং মিনারেল সম্পন্ন। কিন্তু আমাদের ধারণা একদমই ভুল। জলের গুনাগুণ মাপা হয় টিডিনস বা ‘টোটাল ডিসল্ভড সলিড’ ধারা। টিডিএস নির্দেশ করে জলের ভিতর কী পরিমাণে মিনারেল বা খনিজ উপাদান রয়েছে। মূলত স্ট্যান্ডার্ড মানের পানির জন্য ২০০ থেকে ৩৫০ টিডিএস মান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০০ থেকে ৪০০ হলেও কোন অসুবিধা নেই। বিভিন্ন ফিল্টার থেকে প্রাপ্ত জল এবং বোতলজাত করা জলের টিডিএস মান নির্ধারিত মানের থেকে অনেক কম থাকে।

আমরা দামি ফিল্টার কিনি পানি শতভাগ বিশুদ্ধকরণের জন্য। কিন্তু পানি মিষ্টি করতে যেয়ে আমরা নিজেরাই সেই পানির টিডিএস মান কমিয়ে ফেলছি। আপনারা হয়তো জানলে অবাক হবেন ১০০ টিডিএস এর নিচে জল হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এছাড়াও টিডিএস কম যুক্ত পানি চুলের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় এবং হরমোনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আরো অবাক হবেন এটা শুনে যে, পানি যখন ফিল্টার হয়ে বের হয় তখন তার ভিতর থেকে ৯০ ভাগ মিনারেল বের হয়ে যায় এবং বোতলবন্দি করার পূর্বে পানির ফিল্টার পদ্ধতিতে মিনারেল এর পরিমান কমে যায়। এতসব কিছুর পরও আমরা এসব বোতল বন্দি পানিকে মিনারেল ওয়াটার বলে জানি।

বোতল বন্দি পানিআপনি কি জানেন সাধারণ পানিতে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম,পটাশিয়াম এর মতো খনিজ উপাদান থাকে‌? এসব খনিজ উপাদান আমাদের হার্ট, ব্রেইন এবং রক্তের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান এবং এসব খনিজ উপাদানের কারণে খিদে ও পানির তৃষ্ণা কম লাগে। বোতল বন্দি করা পানিতে এসব খনিজ উপাদানের পরিমাণ অনেক কম থাকে। দীর্ঘদিন এসব বোতল বন্দি করা পানি খেলে আমাদের শরীরের ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রনের অভাব দেখা দিবে। ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন’ এর তথ্যমতে প্যাকেট ওয়াটার বা বোতল বন্দি করা জল দীর্ঘদিন পান করলে শরীরে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিভিন্ন ফিল্টার থেকে বিশুদ্ধ  করা এসব পানিতে টিডিএস এর পরিমাণ কম থাকায় সব ধরনের উপাদান এতে দ্রুত মিশে যায়। 

অপরদিকে বোতল বন্দি করা পানি যখন সূর্য রশ্মির সংস্পর্শে আসে বা দীর্ঘদিন বোতলে রাখা হয় তখন সেই জলে প্লাস্টিক দ্রবীভূত হতে থাকে। জলে এসব প্লাস্টিক মিশে যাওয়ার কারণে দেহে ক্যান্সার ও কিডনি রোগসহ জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়াও বোতল বন্দী পানিতে ক্লোরেট এবং ক্লোরাইড নামক ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। এত সবকিছু জানার পর আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে কীভাবে সঠিক মিনারেল ওয়াটার পান করা যায়। আপনার বাড়িতে পুরানো ফিল্টারের পরিবর্তে আধুনিক ফিল্টার স্থাপন করুন। আধুনিক ফিল্টারের মাধ্যমে টিডিএস ২০০ থেকে ২৫০ এর ভিতর সেট করুন। বিশুদ্ধ হওয়া পানি ফিল্টার থেকে বের করে নিয়ে মাটি, স্টিল বা তামার পাত্রে সংরক্ষণ করুন। 

বোতল বন্দি পানি যথাসম্ভব কম পান করুন। কারণ এতে থাকা পানি শুধুমাত্র শরীরের জন্যই নয় বরং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। হাজার হাজার টন প্লাস্টিকের বোতল আমরা প্রতিবছর ফেলে দেই যার খুব কম পরিমাণে পুনঃব্যবহার হয় এবং বেশিরভাগই বিভিন্ন জলাশয়ে মাটিতে পড়ে থাকে এবং সব থেকে ভালো হয় যদি মাটির পাত্রে পানি রাখতে পারেন কারণ মাটির পাত্রে আপনি যদি কম টিডিএস যুক্ত পানি রাখেন তাহলে এটি টিডিএস বাড়িয়ে দেয় এবং বেশি টিডিএস যুক্ত পানি রাখলে তা কমিয়ে দেয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস