বৈশাখ পালনে তারাও এগিয়ে

বৈশাখ পালনে তারাও এগিয়ে

ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৩ ১৪ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৯:১২ ১৪ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পহেলা বৈশাখে শিশুদের আনন্দ যেন রঙ তুলিতে। হাতে গালে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রাঙিয়ে নিচ্ছে বৈশাখের নানা রকম চিত্র। হাতি, ঘোড়া, মুখোশসহ নানা কারুকাজে মিশে যাচ্ছে তাদের আনন্দ।

রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর সব অনুষ্ঠানস্থলে দেখা মেলে শিশুদের এমন আনন্দঘন মুহূর্ত।

সরেজমিনে অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে দেখা যায়, বাবা-মা পাশে দাঁড়িয়ে আদরের সন্তানদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে টাকার বিনিময়ে রঙ তুলি দিয়ে আঁকিয়ে নিচ্ছেন নানা রকম চিত্র।

বাঙালির প্রাণের ঐতিহ্যবাহী উৎসব পহেলা বৈশাখ। এটিকে বরণ করতে ঐতিহাসিক রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাবি ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর উৎসবমুখর সব জায়গাতেই মা-বাবা, ভাই-বোন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের উৎসবকে উপভোগ করতে শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

বাংলা নববর্ষের উৎসব শুধু শিশুতেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে দেখা মেলেছে বিদেশি নারী-পুরুষদের বৈশাখ উৎসব পালন করতে। তারা ও শিশুদের মতো বাংলার ঐতিহ্যকে রাঙিয়ে নিচ্ছেন রঙ তুলিতে। তাদের পোশাকের সঙ্গেও দেখা মিলেছে বাঙালি নারীর ঐতিহ্য। বাঙালির উৎসবকে নিজেদের মতো করে আনন্দের সঙ্গে উপভোগও করছেন তারা।

এদিকে সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেলফিতে মাতিয়ে তুলছেন বৈশাখের উৎসব কিশোর-কিশোরীরা। নিজেকে রাঙিয়েছেন রঙ তুলি ও বৈশাখের সাজে। অনেকটা দেখতে নতুন বউয়ের সাজে সেজেছেন তারা। মাথায় ফুল, হাতে রঙ তুলিতে আঁকা নানা দৃশ্য- এ যেন তাদের একটি আনন্দের সব থেকে বড় পাওয়া।

মালিহা, মিম ও নুসরাত, তিন বান্ধবী এসেছেন পহেলা বৈশাখের উৎসবকে উপভোগ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। যদিও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে এখনো পা রাখতে পারেননি। সবেমাত্র কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তারা।

তারা বলেন, সবার মতোই বৈশাখের আনন্দকে উপভোগ করতে ভোর সকালে ছুটে আসেন স্বপ্নের ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

কেমন লাগছে জানতে চাইলে তারা বলেন, খুব ভালো লাগছে। এমন করে কখনো সুযোগ হয় না আনন্দ করার। বাবা-মা অনেক সময় বের হতে দেয়নি বাসা থেকে। এমন উৎসবকে ঘিরে একটু বের হয়েছি বান্ধবীদের নিয়ে। উপভোগ করছি বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে।

অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের পাল্লা দিয়ে পহেলা বৈশাখের উৎসবে এগিয়ে আছেন মধ্যবয়সী নারীরাও। তাদের পরনে দেখা মেলে লাল সাদা বাহারি রঙের থ্রিপিচ ও শাড়ি। খোঁপায় ফুল, হাতে রয়েছে দামি ব্রান্ডের মোবাইল ফোন। তুলছেন সেলফি-ছবি মনের মতো করে। দিচ্ছেন ইচ্ছে মতো নিজের ফেসবুক দেয়ালে পোস্ট।

ফেসবুকে পোস্ট সম্পর্কে মধ্যবয়সী সালমা আক্তার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনাসহ ঢাকার বেশ কিছু জায়গায় গিয়েছি। নিজের মতো করে নিজেরা আনন্দ করছি পরিবার সন্তান নিয়ে। আনন্দ শুধু এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য নয়। আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের উপভোগ করতে বলছি নানা রঙের ছবি পোস্ট। কুড়িয়ে নিচ্ছি লাইক আর কমেন্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র তুহিন বলেন, আমরা সব থেকে বেশি পহেলা বৈশাখে আনন্দ পায়। ছোট শিশুদের হাতে গালে বিভিন্ন রঙের বৈশাখের রঙ তুলি দিয়ে বৈশাখ লেখাসহ নানা রকমের চিত্র অঙ্কন করি। তাদের আনন্দের মাঝে আনন্দ খুঁজে পায় আমাদের।

এদিকে অনুষ্ঠানস্থলে আসা বিনোদন প্রেমীরা নিরাপত্তা নিয়ে বলেন, এবারের নিরাপত্তা অনেক বেশি পছন্দ হয়েছে। কোনো প্রকারের ভয়ভীতি কাজ করছে না মনে। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা যেভাবে নিরাপত্তা দিচ্ছেন তাতে শতভাগ নিরাপত্তা আছে বলে আমরা মনে করি।

সর্বোপরি ঢাকার বেশির ভাগ অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে দেখা যায়, যেভাবে নিরাপত্তা দিয়ে ঘিরে রেখেছে  র‌্যাব-পুলিশসহ সব কয়টি ইউনিট তাতে এক কথায় বলা যায় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে পুরো শহর।

এদিকে, নিরাপত্তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। যদি কোনো দুষ্কৃতিকারী ঘটানোর চেষ্টা করে সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিহত করার মতো প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে।

নিরাপত্তা নিয়ে তারা আরো বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এ নিরাপত্তা শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক নয়। সারাদেশে সব অনুষ্ঠাস্থলে এমন নিরাপত্তা বলয় রাখা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই