বৈশাখের রং নেমেছে হাতিরঝিলে

বৈশাখের রং নেমেছে হাতিরঝিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২০ ১৪ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলা বর্ষবরণ পালন করতে সর্বত্র এখন উৎসবের রং। এদিনে দেশের বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোতে পরিবার পরিজনদের নিয়ে মানুষের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। এর ব্যতিক্রম নেই রাজধানীর হাতিরঝিলেও। এখানে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি ও শ্রেণি পেশার মানুষ ভিড় করেছেন। তবে বিকেলে এই ভিড় আরো বাড়তে পারে।

এক সময় রাজধানীতে নববর্ষের উৎসব রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ছিলো। হাতিরঝিল চালু হওয়ার পর এখানেও দর্শনার্থীরা ভিড় করতে শুরু করেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন উৎসবের দিনগুলোয় মগবাজার থেকে শুরু করে রামপুরা-গুলশান পর্যন্ত পুরো ঝিল এলাকায় মানুষের সরব উপস্থিতি জমে উঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিনোদনপ্রেমিদের মধ্যে হাতিরঝিলে স্প্রিড বোটে ঘুরে বেড়ানো আর পায়ে চালানো বোট-ই প্রধান আকর্ষণ। বাহির চকচকে রোদ। আর তাতে অনেককে গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতেও দেখা গেছে। কোনো বয়সের বিভেদ নেই। সব বয়সের মানুষই উপস্থিত হয়েছে ঝিল এলাকায়। তারা মূলত রাজধানীর আশপাশ থেকে ঘুরতে এসেছেন।

এদিকে হাতিরঝিলে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালানোর সুযোগ নেই। অনুমোদিত যেসব দোকান আছে সেখানে খাবারের দামও তুলনামূলক একটু বেশি। উৎসবের আনন্দে পরিপূর্ণতা আনতে অনেকেই সেসব দোকান থেকে ইচ্ছে মতো পণ্য কিনে খাচ্ছেন। আর এসব দোকানও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সেজেছে নতুন আঙ্গিকে। খাবারের ক্ষেত্রে নববর্ষকে টার্গেট করে এনেছে বিভিন্ন ধরনের মেনু।

হাতিরঝিলে বাবার হাত ধরে স্প্রিড বোটে ঘুরবেন বলে এসেছে ছোট্ট মিতুল। বললো, অনেক ধরনের খেলনা আর মুখোশ কেনা হয়েছে। এখন নৌকায় চড়ার ইচ্ছে। ওর বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জামিল হোসেন। বলেন, এবারই প্রথম নৌকায় চড়েছে মিতুল, তাই তার উচ্ছ্বাস লেগেই আছে।

নানা বয়সী মানুষের আনাগোনায় ঝিল প্রাঙ্গণ এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। অনেক তরুণী বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী লাল সাদা শাড়ির পাশাপাশি নীল-হলুদ আঁচলেও সেজেছিলেন। শিশুরাও পরেছিল লাল-সাদা পোশাক। সন্তানদের নিয়ে আসেন অনেক মা-বাবা।

স্থানীয়রা জানান, দিনের চেয়ে রাতের হাতিরঝিল বেশি সুন্দর। লাল, নীল সাত রংয়ের পানির ফোয়ারা দর্শকদের বাড়তি আনন্দের খোরাক যোগায়। দিন শেষে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থী আগমনে যেন হাতিরঝিলকে অন্য এক রূপ দেয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর