Alexa বেরোবি শিক্ষিকার বোন: দুই ইউনিটে ফেল, অন্য ইউনিটে প্রথম!

বেরোবি শিক্ষিকার বোন: দুই ইউনিটে ফেল, অন্য ইউনিটে প্রথম!

বেরোবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫১ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:১১ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় দুইটি ইউনিটে ফেল করলেও ‘বি’ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হয়েছে মিসকাতুল জান্নাত। 

অথচ ‘বি’ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ইউনিটে ওই শিক্ষার্থী যে পরিমাণ মার্কস পেয়েছে ছয় ইউনিটের ১৬ শিফটে কেউ সে পরিমাণ মার্কস তুলতে পারেনি। 

মিসকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষকের ছোট বোন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

জানা যায়, গত ১০ থেকে ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সেকেন্ড টাইমের (দ্বিতীয়বার) শিক্ষার্থী হিসেবে মিসকাতুল জান্নাত ‘এ (কলা অনুষদ) , ‘বি’ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) এবং ‘এফ’(জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ) ইউনিটে অংশ গ্রহন করে। ৫ দিন পর ১৯ নভেম্বর সকল ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

ফলাফলে দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের  তৃতীয় শিফটের (রোল-১৪১৭৫২) পরীক্ষায় নূন্যতম মার্কস (৩০) নিয়ে পাস করতে পারেনি মিশকাত। একইভাবে ‘এফ’ ইউনিটের  চতুর্থ শিফটের (রোল-৬৪১৭৫১) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন তিনি। অথচ এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল খারাপ হওয়া সত্ত্বেও  ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান) চতুর্থ শিফটের (রোল ২৪০২৭৮) পরীক্ষায়  অংশ নিয়ে এমসিকিউয়ে ৮০ মার্কস এর মধ্যে ৬৭.২৫০ এবং রেজাল্ট স্করে ১৮.২৩৫ সহ মোট ৮৫. ৪৮৫ পান যা অন্য কোনো ইউনিটে আর  কেউ তুলতে পায়নি।

মিশকাতুল জান্নাতের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। তার ফেসবুক আইডিতে দেখা যায় বেরোবি উপাচার্যের সঙ্গে আগে থেকেই মিউচুয়েল ফ্রেন্ড। প্রথম অবস্থায় ফেসবুক আইডি একটিভ থাকলেও বিষয়টি জানাজানির পর দেখা তাদের দুই বোনেরই আইডি ডিএকটিভ। তাই বিষয়টি নিয়ে আরো তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় এরইমধ্যে ওই শিক্ষার্থী সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এতো সন্দেহের পরেও ভাইভা দিয়ে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সবার মাঝে। 

মিসকাতুল জান্নাত বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইগাড়ী ইউপির এনামুল বারীর মেয়ে এবং বেরোবির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারীর আপন ছোট বোন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘এ  ইউনিটের প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকারী নিলয় ঘোষ ‘বি ইউনিটেও প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একইভাবে ‘ডি ইউনিটে প্রথম স্থান অধিকারকারী জিহাদ রহমান ‘ই’ ইউনিটেও ৫ম স্থান অধিকার করেন। আবার ‘এ ইউনিটে (সাইন্স) প্রথম স্থান অধিকারকারী শানজিদা আলম করবী ‘বি ৭৪ তম স্থান অধিকার করেছেন। এরকমভাবে প্রত্যেকটি ইউনিটের ১ম থেকে ৫ম স্থান অধিকারীগণ অপর যেকোন ইউনিটে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু মিসকাতুল জান্নাত ‘বি ইউনিটে প্রথম হলেও অপর দুইটি ইউনিটে ন্যূনতম মার্কস নিয়ে পাস করতে পারেনি।

আরো জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তার বড় বোন ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।  বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে ও এসএমএস দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক সোহেলা মুসতারী বলেন, ইমরানা বারীর ছোট বোন এখানে পরীক্ষা দিয়েছে সেটা আমাদেরকে তিনি লিখিতভাবে জানাননি। যখন ও এডমিশনের জন্য আসল, ওকে আমরা চিনতাম। ফেসবুকে ছবি দেখেছি। ওকে (মিশকাতুল জান্নাত) দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি যে, এই মেয়ে এখানে কেন? এবং মোটেও আমরা খুশি হইনি। সত্যিকারার্থেই আমরা খুশি হইনি। খুশি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম