Alexa বেরিয়ে এলো জোড়া খুনের লোমহর্ষক তথ্য 

বেরিয়ে এলো জোড়া খুনের লোমহর্ষক তথ্য 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪০ ৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:৪১ ৪ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ধানমন্ডিতে জোড়া খুন মামলার আসামি গৃহকর্মী সুরভী আক্তার নাহিদা (২২) পুলিশের কাছে দিয়েছেন লোমহর্ষক বর্ণনা। তিনিই খুন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন এবং এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত নন বলেও জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। তবে পুলিশ তা বিশ্বাস করছে না।

তুচ্ছ কারণে ওই বাসায় কাজ করতে এসে প্রথম দিনই তিনি খুন করেন দুই নারীকে। ফল কাটার ছুরি দিয়ে খুন করে মরদেহ দুটি দুই বেড রুমে রেখে দরজা বন্ধ করে চলে যান আগারগাঁওয়ের এক বস্তিতে তার বোনের কাছে। হত্যাকাণ্ডের এমন বর্ণনায় দিয়েছেন সুরভী আক্তার নাহিদা। 

সুরভী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের তদন্তকারীদের জানায়, ওই ঘটনার সঙ্গে সে একাই জড়িত। তবে পুলিশ বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে গৃহকর্ত্রীর জামাতার গাড়ি চালক আতিকুল হক বাচ্চু ও বাড়ির সামনের পান দোকানি সুমন জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার রাতে ধানমন্ডির ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও তার গৃহকর্মী দিতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমের মেয়ে দিলরুবা সুলতানা রুবা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

আসামিরা হলো- আতিকুল হক বাচ্চু, অজ্ঞাতনামা ওই গৃহকর্মী, কেয়ারটেকার নুরুজ্জামান, কেয়ারটেকার বেলাল ও ক্লিনার রুমান। 

মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুরভী পুলিশের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেছেন। তিনি একাই এই দুই হত্যাকাণ্ড চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই জোড়া খুনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

সুরভী পুলিশকে জানায়, ৩ বছর আগে নিহত আফরোজার বাসার পাশের পানের দোকানদার সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মানসিক ও শারিরীক সম্পর্ক গড়ে উঠে। শেরে বাংলা নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস নাইনে পর্যন্ত পড়ার পর তার আর পড়াশোনা হয়নি। বেকার থাকায় ঢাকার একটি শপিংমলে তিনি ক্লিনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। মিরপুরের একটি গার্মেন্টসেও তিনি কাজ নেন। কিন্তু মানসিক অশান্তি থাকার কারণে তিনি ওই চাকরি করেনি। সুরভী তার বড় বোনকে নিয়ে আগারগাঁও বিএনপির বস্তিতে ভাড়া থাকতেন।

সংসারে টানাপোড়েনের কারণে একদিন ওই পান দোকানি সুমনকে সুরভী জানান, যেকোনো বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে তিনি রাজি। ওই পান দোকানির কাছে পান খেতেন নিহতের জামাতার গাড়ি চালক বাচ্চু। বাচ্চু তার মালিকের বাসায় একজন কাজের মেয়ে দরকার সুমনকে বিষয়টি জানালে সুমনের মাধ্যমে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেন তিনি।

সুরভী তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি কাজে যোগ দেয়ার জন্য ওই বাসায় যান এবং সেখানে কাপড় ধুয়ে দেন। দুপুরে তিনি ভাতও খেয়েছেন ওই বাসায়। বিকেল ৪ টার দিকে ঘরের কাজ শেষ করে এক পর্যায়ে তিনি বাইরে যেতে চান। কিন্তু আফরোজা বেগম তাকে ঘরের বাইরে বের হতে দেননি। 

আফরোজা বেগম তাকে বলেন, তার বাসার বাইরে যাওয়া নিষেধ। যে তাকে বাসায় কাজ পাইয়ে দিয়েছেন সে এলে যেতে পারবেন। পরে আফরোজা ও অন্য কাজের মেয়ে দিতি মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। 

গ্রেফতার সুরভী তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেন, তাকে বাসার বাইরে না যেতে দেয়ার কারণে সে ফ্ল্যাটে ভয় পাচ্ছিলো। তাকে পাচার কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কাজে জড়ানো হয় কি না তার মধ্যে সন্দেহ হয়। পরে বাচ্চুকে তিনি একাধিকবার ফোন দেয়ার পরও ধরেনি। এমনকি তার কিছুক্ষণ পরে বাচ্চুর ফোনটিও তিনি বন্ধ পান। এতে তার মানসিক চিন্তা বেড়ে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪ টায় ফ্ল্যাটের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে দরজা বন্ধ পান তিনি। এ সময় গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি চান। কিন্তু আফরোজা তাকে চাবি না দিয়ে বকাঝকা করেন। এ পর্যায়ে আফরোজা তাকে গালে একটি চড় মারেন। তখন কান্নারত অবস্থায় সুরভী ফ্ল্যাটের অন্যকক্ষে চলে যান। 

সুরভী বলেন, একপর্যায়ে ওই বাসা থেকে তিনি পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে গৃহকর্ত্রী ও অন্য গৃহকর্মী তাকে বাধা দেয়। এরপর গৃহকর্মী দিতি যখন ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন তখন পেছন থেকে আপেল কাটা ছুরি দিয়ে তার পিঠে ও গলায় আঘাত করে সুরভী। দিতি চিৎকার দিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে গোটা মেঝে রক্তে লাল হয়ে যায়। 

এ সময় সেখানে এসে আফরোজা চিৎকার করেন। পরে  সুরভী ফ্ল্যাটের তালা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, এতে বাঁধা দেন আফরোজা। এ সময় দুইজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে আফরোজা রুমে গিয়ে মোবাইল হাতে নেয়া মাত্রই সুরভী ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করতে থাকেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে দুইজনের মরদেহ দুই বেডরুমে রেখে দেন। পরে তিনি বাথরুম থেকে ধুয়ে ফ্ল্যাটের তালা খুলে আগারগাঁওয়ের বস্তিতে চলে যান। 

এ ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত নন এবং ওই বাসা থেকেও তিনি কোনো জিনিস নেননি বলেও দাবি করেন। সুরভীর গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলার সদর থানার ইলিশাবাড়ি এলাকায়। তার বাবা পেশায় কৃষক।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে জানান, খুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলাতক সুরভীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত ও দুইজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসায় কাজের সমস্যাকে কেন্দ্র করে ওই ডাবল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এমআরকে