Alexa বেরিয়ে আসছে বরিশালের ট্রিপল মার্ডারের রহস্য

বেরিয়ে আসছে বরিশালের ট্রিপল মার্ডারের রহস্য

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৯ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বেরিয়ে আসছে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসীর মা ও ভগ্নিপতিসহ ট্রিপল মার্ডার ঘটনার রহস্য। 

জিন হাজির ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন বলে প্রচার করে তিনি বাড়ির সবার বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এ সুযোগ নিয়ে বাড়িতে জিন আসবে বলে রাতে দরজা খোলা রাখার কথা বলে ওই বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করেন এবং একজন সহযোগীকে নিয়ে পর্যায়ক্রমে কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রবের মা, ভগ্নিপতি ও খালাতো ভাইকে হত্যা করেন।

ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আটক গ্রাম্য কবিরাজ জাকির হোসেনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব আরো জানায়, র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও জাকিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জুয়েল হাওলাদারকে আটক করে। আটক দুইজনই প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরপর জাকির হোসেন ও জুয়েল হাওলাদারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী র‌্যাব-৮ ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়ি থেকে চুরি করে আনা স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি চাকু উদ্ধার করে। আটক আসামি ও আলামত বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

অপরদিকে আটক কবিরাজ ও নিহতের নাতনিকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণেই খুন হয়েছেন একই পরিবারের ওই তিন সদস্য।

প্রবাসীর স্ত্রী এবং ভাতিজির দেয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কবিরাজ জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি নন তারা।

ওই সূত্র আরো জানায়, নিহত বৃদ্ধার পুত্রবধূ ও প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও নাতনি বানারীপাড়া চাখার সরকারি ফজলুল হক কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী আছিয়া আক্তারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে তারা পুরো ঘটনাটি এড়িয়ে যান। কিন্তু পরবর্তীতে তারা দু’জনই ঘটনার গোপন রহস্য ফাঁস করে দেন।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে প্রবাসীর স্ত্রী মিশু ও কলেজছাত্রী আছিয়া পুলিশকে জানায়, শুক্রবার রাতে কবিরাজ জাকির হোসেন ও বেটে করে দাড়িওয়ালা অপর এক ব্যক্তি তাদের ঘুম থেকে জাগায়।

এসময় মিশুকে বিবস্ত্র করে তারা। পরে জাকির হোসেন বিবস্ত্র মিশুকে জড়িয়ে ধরে অপর ব্যক্তিকে দিয়ে মোবাইল ফোনের ক্যামেরা একাধিক ছবি তোলান এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মুখ খুললে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় মিশুকে।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা দু’জন যাতে মুখ না খুলে সে জন্য জাকির এবং তার সহযোগী কোরআন শরীফ স্পর্শ করিয়ে শপথ করান। এমনকি এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কাউকে কিছু বললে জিন ও পরীদের মাধ্যমে তাদের ক্ষতি করার পাশাপাশি মিশুর দুই শিশু সন্তানের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে হুঁশিয়ার করে।

তাছাড়া জিন-পরীর ভয় দেখিয়ে ওই পরিবারটিকে গত তিন বছর ধরে আটক  জাকির জিম্মি করে রেখেছে জানিয়ে মিশু ও আছিয়া পুলিশকে জানায়, বিয়ে হলেও আছিয়ার কখনো সন্তান হবে না এবং মিশুর লিভার রোগ সমাধানের জন্য কথিত জিনের বাদশা দাবিদার জাকির আগেও তাদের দু’জনকে বিভিন্ন তাবিজ-কবজ দিয়েছে।

এদিকে, নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পরে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে বিভিন্ন তাবিজ ও পাটা-পুতা উদ্ধার করেছে। তাছাড়া শুক্রবার ভোর রাত ৪টায় প্রবাসীর স্ত্রী মিশু তার ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্ট থেকে কথিত জিনের বাদশা জাকির হোসেনের কাছে ৫ হাজার টাকা পাঠান। এ কারণে জাকিরের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে উঠে আসে।

যদিও হত্যাকাণ্ডের রহস্য সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করে বরিশাল জেলার এসপি মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যই সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে। তাছাড়া আলোচনায় থাকা জাকির হোসেনকে ওই বাড়ি থেকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে সে এখনো মুখ খোলেনি।

জাকির দাবি করেছে ঘটনার রাতে সে বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকায় তার ভাগ্নে তরিকুলের বাসায় ছিলেন। কিন্তু তরিকুল জানিয়েছে সে ঘটনার রাতে তার বাড়িতে ছিলেন না।

নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আটক জাকির হোসেন প্রবাসী আব্দুর রব এর বাড়ি নির্মাণের সময় রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেছে। সে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পূর্ব রায়পাশা গ্রামের চুন্নু হাওলাদারের ছেলে।

রাজমিস্ত্রি কাজ করা অবস্থায় প্রবাসী রবের পরিবারের সঙ্গে সু-সম্পর্ক হয়। এর পরপরই স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় স্ত্রী মিশু। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রবের ভাতিজি আছিয়া আক্তারের কি সম্পর্ক রয়েছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার ভোরে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আ. রবের বাসা থেকে তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম (৭৫), বেড়াতে আসা ভগ্নিপতি সাবেক শিক্ষক সফিকুল আলম (৬৫) ও বাড়ির পুকুর থেকে খালাতো ভাই ইউসুফের (২২) হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ