বেঁচে ফেরা এক যাত্রীর বর্ণনায় উঠে এলো বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা

বেঁচে ফেরা এক যাত্রীর বর্ণনায় উঠে এলো বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫০ ২৩ মে ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের করাচিতে শুক্রবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৯৭ যাত্রী মারা গেছেন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন দুই যাত্রী। তাদের একজন মুহাম্মদ জুবায়েরের বর্ণনায় উঠে এলো বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা।

বিবিসি’র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় চারপাশে ‘শুধু আগুন’দেখছিলেন জুবায়ের। ঈদ উপলক্ষে এয়ারবাস এ৩২০ এর পিকে ৮৩০৩ ফ্লাইটে করে করাচি যাচ্ছিলেন তিনি। বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় যখন অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই বিধ্বস্ত হয়।

বেঁচে যাওয়া জুবায়ের ছোটখাটো কিছু আঘাত ছাড়া তেমন কোনো জখম নেই। তিনি জানান, বিমানটি অবতরণের চেষ্টা নেয়ার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে, এটা কেউই বুঝতে পারছিল না। খুবই সাবলীলভাবে বিমানটি চলছিল।

এরপর আর কিছু মনে নেই জুবায়েরের। চেতনা ফেরার পরের দৃশ্য নিয়ে তিনি বলেন, চতুর্দিক থেকে কেবল চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। শিশু-বয়স্কদের চিৎকার। আমি শুধু আগুন আর আগুন দেখছিলাম। আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছিলাম না- কেবল তাদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।

আমি আমার সিটবেল্ট খুলে ফেলি। সামান্য আলো দেখতে পারছিলাম- ওই আলোটার দিকে আমি ছুটে যাই। ওখান থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে আমাকে প্রায় ১০ মিটার উঁচু থেকে লাফ দিতে হয়।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরই ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। আগুন নিভিয়ে ধ্বংসাবশেষ থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস- পিআইএ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার পর পরই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে লাহোর থেকে করাচিগামী বিমানটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পবিত্র রমজান শেষে পাকিস্তানিরা যখন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন এমন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটিতে। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিল।

সিন্দু প্রদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে বিমান বিধ্বস্তে মৃত্যু হওয়া ৯৭ যাত্রীর ১৯ জনকে শনাক্ত করা গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে।

বিমানটিতে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন পিআইএ’র প্রধান নির্বাহী আরশাদ মাহমুদ মালিক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এ৩২০ এয়ারবাসটা অন্যতম নিরাপদ বিমান ছিল। কারিগরি ও কার্যকারিতা সবদিক থেকেই ঠিকঠাক ছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস