বেঁচে থাকলে ৭৮ বছরে পা রাখতেন আমজাদ হোসেন 

বেঁচে থাকলে ৭৮ বছরে পা রাখতেন আমজাদ হোসেন 

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১০ ১৪ আগস্ট ২০২০  

আমজাদ হোসেন

আমজাদ হোসেন

প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক আমজাদ হোসেনের ৭৮তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

শোকের মাস ও করোনার কারণে  গুণী এই মানুষটির জন্মদিনে কোনো আয়োজন রাখেননি বলে জানান তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। 

এদিকে আমজাদ হোসেন চর্চাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরেণ্য এই শিল্পী ও নির্মাতার জন্মদিন উপলক্ষে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত 'আমজাদ মেলা'র আয়োজন করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে টিভি চ্যানেলগুলো আমজাদ হোসেন স্মরণে বেশ কিছু আয়োজন করেছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাভিশন প্রচার করেছেন একটি আলেখ্যানুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আনোয়ারা ও সাজ্জাদ হোসেন দোদুল। এ ছাড়াও আজ এটিএন বাংলা, বৈশাখী টিভি ও দীপ্ত টিভিতে থাকছে বেশ কিছু আয়োজন। 

শৈশব থেকেই আমজাদ হোসেন সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। যাত্রার শুরুটা ছিল মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর তিনি অভিনয় করেন মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে।

আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন। এরপর তিনি জহির রায়হানের ইউনিটে কাজ শুরু করেন। এভাবেই দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে ১৯৬৭ সালে নিজেই ‘জুলেখা’ নামের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

১৯৮১ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত পালন করেন আমজাদ হোসেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো কালজয়ী অনেক সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

তার পরিচালিত  দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, , ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।

‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ