বৃদ্ধের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা, ফেসবুকে নিন্দার ঝড় 

বৃদ্ধের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা, ফেসবুকে নিন্দার ঝড় 

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৩ ২ জুন ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কেউ কিল-ঘুষি মারছে। কেউ পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি ধরে টানাটানি করছে। সেই সঙ্গে চলছে গালিগালাজও। এভাবেই হেনস্থা করা হয় ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুল আলমকে। কেউ এগিয়ে আসেনি ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝড় উঠে এবং নজরে আসে সবার।

গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনাটির পুরো নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সন্ত্রাসী আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল যুবক।

এ ঘটনার পর গত ৩১ এপ্রিল রাতে নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানা একটি এজাহার দায়ের করেন। তবে, এজাহারটি এখনো তদন্তধীন।

এতে আসামি করা হয়েছে, ওই এলাকার মনির উল্লাহর ছেলে বদিউল আলম, আনছুর আলম, শাহ আলম, শাহ আলমের স্ত্রী আরেজ খাতুন, বদিউল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান, আবদুল জাব্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, জয়নাল আবেদিন এবং মনজুর আলমের ছেলে মো.রুবেল।

এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ২৪ এপ্রিল আমার বৃদ্ধ বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে আমার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পড়নে থাকা লুঙ্গি, গেঞ্জি ছিড়ে ফেলে। পাশাপাশি মারধর ও অসভ্য গালিগালাজও করে। কয়েকজন যুবক এই ঘটনা মোবাইলের ক্যামরায় ধারণ করে। এ সময় আমার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে ঘটনাটি শোনার পর আমার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান।

মামলার বাদী আশরাফ হোসাইন এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় আমার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা সাড়ে সাত হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়া হয়। 

আশরাফ হোসাইন বলেন, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার বাবার উপর অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে ঘটনার অন্যতম আনছুর আলম। সে স্থানীয় নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না। আমরা এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, তুচ্ছ একটি ঘটনার জেরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বয়স্ক নুরুল আলমের সঙ্গে। তিনি এই এলাকার একজন বয়োবৃদ্ধ। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে। এলাকার কিছু সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় এজাহার দেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। 

ঘটনার বিষয়ে জানতে আনছুর আলমের মোবাইলে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে আশরাফ হোসাইন একটি এজাহার দিয়েছি বলে শুনেছি। তবে এজাহারটি এখনো আমার হাতে আসেনি। এজাহারটি হাতে আসলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়া সার্কেলের এএসপি কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা আমি ফেসুবকে দেখেছি। ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ