Alexa বুলবুলের আঘাতে কৃষকদের মাথায় হাত

বুলবুলের আঘাতে কৃষকদের মাথায় হাত

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ১১ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে পাকা আমন ধান শুয়ে পড়েছে। এছাড়া শীতকালীন সবজিতে পচন ধরেছে। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলার বলিদাপাড়া, বলরামপুর, কোলা, খালকুলা, কাবিলপুর, উল্ল্যা, ডাউটি, খেদাপাড়া, কামালহাট, খড়িকাডাঙ্গা, বেলাট, সাদিকপুর, বালিয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, আধা পাকা ধানগাছগুলো ক্ষেতেই শুয়ে পড়েছে। কিছু কিছু ক্ষেতের কাটা ধান কাদা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ইলিয়াস আলী বলেন, দুই ভাই মিলে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টিতে নলকূপের সেচে ধানক্ষেত বাঁচাতে হয়েছে। কিন্তু বুলবুলের কারণে বৃষ্টিতে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

ওই গ্রামের কৃষক মাহাবুবুর রহমান ও আব্দুল মান্নান বলেন, প্রায় ৪ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রায় সব ধান পেকেছে। বুলবুলের তাণ্ডবে ধানগাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে।

উপজেলার সাদিকপুর গ্রামের কৃষক সাজেদুল ইসলাম বলেন, নষ্ট ধান ঘরে তুলতে শ্রমিক পাওয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। প্রতি বিঘা ধান ঘরে তুলতে শ্রমিকদের কমপক্ষে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এরপরও সবাই আগে তুলতে চাচ্ছেন। সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির শ্রমিকরা মজুরি হাঁকাচ্ছেন আকাশ ছোঁয়া। ফলে আমন চাষিরা ক্ষেতের ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলার সাইটবাড়িয়া গ্রামের সবজি চাষি নান্নু মিয়া জানান, দুই দিনের বৃষ্টিতে সবজির অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর শীতকালীন ১৮ কাঠা জমিতে মুলা চাষ করেছি। বর্তমানে মুলা নষ্ট হতে শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, বুলবুলের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান ও সবজি চাষিদের ক্ষতি একটু বেশি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর