বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আলাউদ্দিন আলীর দাফন সম্পন্ন

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আলাউদ্দিন আলীর দাফন সম্পন্ন

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ১০ আগস্ট ২০২০  

আলাউদ্দীন আলী

আলাউদ্দীন আলী

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তী সুরকার, সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলী। বেলা ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আলাউদ্দীন আলীর জামাতা কাজী ফায়সাল আহমেদ। 

এর আগে বেলা সোয়া দুইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত এই সুর স্রষ্টার মরদেহ নিয়ে আসা হয় চার দশকের কর্মস্থল বিএফডিসিতে। সেখানে শিল্পীদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় দেয়া হয়। এখানে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে শিল্পীর ঘনিষ্ঠজন ও সংগীতের কিছু মানুষের উপস্থিতিতে সমাহিত করা হয় তাকে।

সোমবার সকালে প্রথমে তার মৃতদেহ বনশ্রীর বাসায় নেয়া হয়। সেখানে বিটিভির সহকর্মীবৃন্দ ও এলাকাবাসীর জন্য তাকে রাখা হয় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা অবধি। এরপর নেয়া হয় খিলগাঁওয়ে আলাউদ্দিন আলির আদি বাড়িতে। সেখানে তাকে শেষবার দেখেন শিল্পীর স্বজনরা। বাদ যোহর খিলগাঁও তালতলা মোড়ে নূর-এ-বাগ জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে নিয়ে আসা হয় বিএফডিসিতে।

রবিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তী সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী। তার মৃত্যুর খবরে শোক নেমে আসে দেশের শোবিজে।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৬৮ সালে তিনি যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৫ সালে সঙ্গীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন আলাউদ্দিন আলী।

তিনি গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই এবং যোগাযোগ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। আলাউদ্দিন আলী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সাতবার এবং গীতিকার হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত পদ্মা নদীর মাঝি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।

পাঁচ হাজারেরও বেশি গানে সুর করা আলাউদ্দিন আলীর উল্লেখযোগ্য কিছু গানের মধ্যে রয়েছে- একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, ভালোবাসা যতো বড়ো জীবন তত বড় নয়, দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়, হয় যদি বদনাম হোক আরো, আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার, সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ, বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না, যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে, মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে, এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয়, শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে, কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিল না, জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো, হায়রে কপাল মন্দ চোখ থাকিতে অন্ধ। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ