বিয়ে করতে বলায় অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীকে হত্যা করে প্রেমিক

বিয়ে করতে বলায় অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীকে হত্যা করে প্রেমিক

রংপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪১ ৯ আগস্ট ২০২০  

প্রেমিক সুরজিত চন্দ্র রায়

প্রেমিক সুরজিত চন্দ্র রায়

রংপুরে স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা রানী রায় ওরফে সুন্দরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় প্রেমিক সুরজিত চন্দ্র রায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সুরজিত ও তার সহযোগী শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রংপুরের এডিসি (অপরাধ) কাজী মুত্তাকিন ইবনু মিনান।

তিনি জানান, পূর্ণিমা রানী নগরীর মনোহর বাবুপাড়ার ফটিক চন্দ্র রায়ের মেয়ে। সে মনোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে একই এলাকার সুরজিত চন্দ্র রায়ের প্রেম হয়। তবে একাধিকবার শারীরিক মেলামেশার কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয় পূর্ণিমা।

এডিসি কাজী মুত্তাকিন জানান, পূর্ণিমার বাবা-মা ঢাকায় থাকার সুবাদে ২৫ জুলাই সকালে তাদের বাড়িতে আসে সুরজিত। তাদের মধ্যে ফের শারীরিক মেলামেশা হয়। ওই সময় সুরজিতকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় পূর্ণিমা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পূর্ণিমাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায় প্রেমিক। পালানোর সময় ব্যবহৃত মুঠোফোনটি আত্মীয় শ্যামলের কাছে রেখে যায় সুরজিত।

এদিকে পূর্ণিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্বজনরা। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করার সময় ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানতে পারে। এ ঘটনায় সুরজিতকে আসামি করে নগরীর হাজীরহাট থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা ফটিক চন্দ্র রায়।

অভিযানের একপর্যায়ে সুরজিত আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরে তাকে দুইদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। গতকাল শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সুরজিত।

জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করে সুরজিত জানায়, গত সাত মাস ধরে পূর্ণিমার সঙ্গে তার প্রেম চলছিল। একাধিকবার তাদের শারীরিক মেলামেশা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর