Alexa বিয়ের দাওয়াত দিয়ে ফেরার পথে লাশ হলেন তারা

বিয়ের দাওয়াত দিয়ে ফেরার পথে লাশ হলেন তারা

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৪ ১৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২২ ১৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডা. তনিমা ইয়াসমিন পিয়াশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলার স্বপ্ন বুনেছেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি। জমকালো আয়োজন আর বিয়ের দাওয়াতের মধ্যে দিয়ে সব প্রস্তুতি এগোচ্ছিল। কিন্তু একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। শফিকুল বেঁচে থাকলেও তার সামনেই প্রাণ গেল তনিমাসহ তিনজনের।

শুক্রবার রাতে যশোর শহরের বিমান অফিস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লেগে তিনজন নিহত ও শিশুসহ চারজন আহত হন।

নিহত বাকি দুইজন হলেন- তনিমার বোন শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়ক (আর.এন) সুমন ইসলামের স্ত্রী তানজিলা ইয়াসমিন ইয়াশা ও তার ভাবি একই এলাকার মনজুর হোসেনের স্ত্রী তিথি।

আহতরা হলেন- তনিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম, তিথির মেয়ে মানিজুর মাশিয়াব, তাদের আত্মীয় হৃদয় ও শাহিন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অসুস্থ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন শফিকুল। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

নিহতদের স্বজন রোহান উদ্দিন জানান, বছর খানেক আগে তনিমার সঙ্গে শফিকুলের বিয়ে হয়। ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে ঘরে তোলার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এর প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছিল।

তিথির স্বামী মঞ্জুর হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে প্রাইভেটকারে আমাদের বাসায় আসেন শফিকুল। শহরে ঘুরতে বের হওয়ার কথা বলে গাড়িতে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে তুলে নেন। পরে তারা শহরের পালবাড়ি, আরবপুর এলাকায় আলোকসজ্জা দেখতে ও বৌভাতের দাওয়াত দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

তিনি আরো বলেন, তনিমা ও শফিকুল প্রেম করে বিয়ে করেছেন। এজন্য তাকে ঘরে তুলতে একটু দেরি হয়। কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন হবে না। সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

যশোরের অ্যাডিশনাল এসপি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রাতে শফিকুল নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে দাওয়াত দিতে বের হন। বাড়ি ফেরার পথে শহরের বিমান অফিস মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেটকারে থাকা শিশুসহ সাতজনই আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানে তিনজন মারা যান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর