Alexa বিস্ময়কর! দিনে দুইবার অদৃশ্য হয়ে যায় এই মন্দির

বিস্ময়কর! দিনে দুইবার অদৃশ্য হয়ে যায় এই মন্দির

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২০ ২৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৭ ২৯ অক্টোবর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সনাতন ধর্মাবল্মীদের আস্থা ও প্রার্থনার জায়গা হিসেবেই পরিচিত মন্দির। একেক দেব-দেবীর মন্দির তাদের ভক্তদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় স্থান। ভারতের অনেক বিখ্যাত মন্দির রয়েছে। যেগুলো নিজ নিজ আশ্চর্য মান্যতা ও পরম্পরার জন্য প্রশিদ্ধ।

তবে স্তম্ভেরসর মহাদেব মন্দিরের ব্যাপারটা অন্যরকম। এই মন্দিরের সব থেকে বড় বিশেষত্ব হলো এটি দেখতে দেখতে আচমকা সমুদ্রের নিচে ডুবে যায়। আবার হঠাৎ করেই জেগে ওঠে। যেখানে সমুদ্রও শিবকে জল-অভিষেক দেয় দিনে দুইবার। এই আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন।

এটি দিনে দুইবার অর্থাৎ সকালে এবং বিকালে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। দেখে মনেই হয় না এখানে কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল। তবে কিছুসময় পরে যখন আবার মন্দিরটি দেখা যায় তখন সবাই অবাক হয়ে যায়। আরব সাগর আর ক্যাম্বি উপসাগরের মাঝামাঝি এর অবস্থান। গুজরাটের কাভি কাম্বোই গ্রামে অবস্থিত মন্দিরটির বয়স প্রায় ১৫০ বছর।

অদৃশ্য মন্দির স্তম্ভেরসর মহাদেব মন্দিরে ভক্তরা শিবলিঙ্গের পূজা করে। তবে এখানে বেশিরভাগ লোক আসে মন্দিরের অদ্ভুত এই দৃশ্য দেখার জন্যই। এখানে স্তম্ভেরসর মহাদেবের এমন মন্দির যার জলাভীষেক দুইবার সমুদ্র নিজে করে। এখানকার স্থানীয়রা এবং পুরোহিতরা বলেন মন্দিরের এমন ব্যাপার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আসলে এই মন্দিরটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়াটা কোনো অলৌকিক কিছু না। এটি অতি প্রাকৃতিক ঘটনা। দিনে অন্তত দুবার সমুদ্রের জলস্তর এতটাই বেড়ে যায়। তাতে এই সুউচ্চ মন্দিরকে ডুবিয়ে ফেলে। আবার পানির স্তর কমে গেলে মন্দিরটিকে আবার দেখা যায়।

এটি মূলত সমুদ্রের জোয়ার ভাটার কারণে হয়ে থাকে। এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে আপনাকে সকালে অথবা রাতে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। কারণ এ দুই সময়েই সমুদ্রের জোয়ার ভাটা হয়ে থাকে। এই মন্দিরের রীতি হল, ভক্তরা সকাল সকাল চলে যান মন্দিরে পূজার্চনা সেরে নেন। তারপর শুরু হয় তাদের অপেক্ষা। সেই সময়টা কেউ কেউ সমুদ্রের শোভা উপভোগ করেন। আবার কেউ বা মন্দিরে বসেই ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন হন। জোয়ার আসার কিছু আগেই মন্দির চত্বর খালি করে দেয়া হয়। ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

অদৃশ্য মন্দির তাদের চোখের সামনে শুরু হয়ে যায় আশ্চর্য প্রাকৃতিক লীলা। জোয়ারের জল বাড়তে বাড়তে গ্রাস করে ফেলে পুরো মন্দিরটাকেই। তখন সেদিকে তাকালে মন্দিরের অস্তিত্ব পর্যন্ত চোখে পড়ে না। কিছুক্ষণ কাটে এভাবেই। তারপর আবার সরে যেতে থাকে জোয়ারের পানি। পানির উপরে প্রথমে দৃশ্যমান হয় মন্দিরের চূড়া। তারপর আস্তে আস্তে পুরো মন্দিরটাই জেগে ওঠে পানির উপরে। মন্দিরে যাওয়ার আগে ভক্তগণ ও পর্যটকদের বিশেষ নির্দেশাবলির পত্র দেয়া হয়। যেখানে জোয়ার আসার সময় এবং এ সময় করণীয় কি তা লেখা থাকে। এখানে প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় মেলা বসে।

ভক্তরা পুরো বিষয়টিকেই ঐশ্বরিক লীলা হিসেবে মনে করেন। তাদের ধারণা স্বয়ং ব্রহ্মা এইভাবেই প্রকৃতির মাধ্যমে মহাদেবের জল-অভিষেক ঘটিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানীরা অবশ্য এসব মানতে নারাজ। তারা এই ঘটনার জন্য জোয়ার ভাটাকেই দায়ী করেন। তবে মন্দিরটি পানির নিচে ডুবলেও এর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি এখনো। এটাই বা আশ্চর্য কম কিসে!

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ