Alexa বিস্কুট বিক্রিতে প্রধান শিক্ষক, পরীক্ষায় সবাই ফেল

বিস্কুট বিক্রিতে প্রধান শিক্ষক, পরীক্ষায় সবাই ফেল

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:২২ ১৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৩ ২০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের মণিরামপুরের মাহমুদকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম-ডাক ছড়িয়ে রয়েছে উপজেলা জুড়ে। সেই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী মডেল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানসহ অন্য শিক্ষকদের অপসারণের দাবি তোলেন অভিভাকরা।

শনিবার বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত মা সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের কাছে তারা এ দাবি করেন।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোনো ক্লাস না নিয়ে সততা স্টোরের ভাজা বিস্কুট বিক্রির কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ অভিভাকদের।

১৯২৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চললেও তিন বছর ধরে এর খ্যাতি বিনষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা রানী মিত্রসহ অন্য চার সহকারী শিক্ষকদের নানা অপকর্মের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে দাবি অভিভাবকদের।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে পঞ্চম শ্রেণিতে ১৫ শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা মডেল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই গণিতে ফেল করেছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে তাদের প্রাপ্ত সর্বনিন্ম ৩ এবং সর্বোচ্চ ২৬।

জাহাঙ্গীর বিশ্বাস নামে এক অভিভাবক জানান, তিন বছর আগে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ঝর্ণা রানী মিত্র। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেন না। সকাল নয়টায় তিনি স্কুলে এলেও দুপুরের আগেই চলে যান। এছাড়া স্লিপের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে অন্য শিক্ষকদের সব সময় দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। শিক্ষকদের কেউ প্রধানের নির্দেশনা মানেন না।

তিনি আরো জানান, প্রধান শিক্ষক কোনো ক্লাস না নিয়ে সততা স্টোরের ভাজা বিস্কুট বিক্রির কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে পোশাক বানিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করেন। কোনো শিক্ষার্থী পোশাকের টাকা দিতে দেরি করলে বাড়ি গিয়ে আদায় করেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য আমেনা বেগম বলেন, শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস না নিয়ে অফিসে বসে থাকেন। পরীক্ষা চলার সময় শিক্ষকরা প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে লিখে দেন। তা দেখে বাচ্চারা খাতায় লেখে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম, ফয়সাল, সাকিব, কেয়া ও নুপুরসহ অনেক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। ক্লাসে এসে শুধু ‘অ, আ, ক, খ’ শিখিয়ে চলে যান। তাদের কেউ অংকে পাস করতে পারেনি বলেও জানায় তারা।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির গণিত ক্লাস নেন শিক্ষক কামরুজ্জামান। মডেল টেস্টে গণিতে ফেল করার কারণ জানতে চাইলে প্রথমে তিনি বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ঠিকমতো ক্লাস নেই। তারপরও কেন সবাই ফেল করেছে বুঝতে পারছি না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা রানী মিত্র বলেন, গত বছরও মডেল পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি। কিন্তু সেন্টার পরীক্ষায় সবাই পাস করেছে।তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি তুহিন বিশ্বাস বলেন, মডেল পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়ায় পরবর্তীতে ভালোর জন্য সব শিক্ষককে চাপ দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধানের সঙ্গে অন্য শিক্ষকদের সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কোনো শিক্ষার্থী বই দেখে পড়তে পারে না। অনেকভাবে শিক্ষকদের ধরা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত উন্নতি হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, বিদ্যালয়টিতে মা সমাবেশে যাওয়ার পর অনেক অভিভাবক প্রধানসহ অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তারা সব শিক্ষকের একসঙ্গে অপসারণ দাবি করেছেন। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানের উন্নতি না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর