Alexa বিসিসির তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত

বিসিসির তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫০ ২১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২২:১২ ২১ অক্টোবর ২০১৯

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (ফাইল ছবি)

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (ফাইল ছবি)

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বাকি দুইজন হলেন- বাজার সুপারিনটেনডেন্ট মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট মো. আজিজুর রহমান। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার আগে তাদের তিনজনকেই কর্তৃপক্ষ নিজ দফতর থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত করেছিলেন।

এদিকে কর্তৃপক্ষের নোটিশের জবাব না দেয়ায় সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন রোমেলকে দ্বিতীয়বারের মতো কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র বলছে, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ পদে থাকাকালীন সময়ে অর্থ দফতরে প্রভাব খাটিয়ে উচ্চতর স্কেল গ্রহণ, বেতনের সঙ্গে তারতম্যবিহীন অর্থ আয় ও নামে-বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে কর্পোরেশনের অর্থের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুদকে জ্ঞাত বহির্ভূত আয়ের অভিযোগও রয়েছে। 

অপরদিকে বাজার সুপারিনটেনডেন্ট মুহাম্মদ নুরুল ইসলানের বিরুদ্ধে নিজ পদে থাকাকালীন সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বিভিন্ন নামে ও বেনামে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দবিহীন অনেক স্টল কর্তৃপক্ষের অগোচরে নিজ ইচ্ছায় জনসাধারণের কাছে ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করে আত্মসাৎ এবং অনেক গ্রাহকের থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে স্টল বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বাজার সুপারিনটেনডেন্ট পদে থাকাকালীন সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বিভিন্ন নামে ও বেনামে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজ পদ (ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট) এ থাকাকালীন সহায়ক কর্মচারীকে দুর্নীতিতে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন মো. আজিজুর রহমান। পাশাপাশি ওই অবৈধ কাজ না করা হলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেয়াসহ হয়রানিও করছেন তিনি।

আর কর্তৃপক্ষ মনে করে এই তিনজনের কর্মকাণ্ডে সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্নসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তাই তাদের তিনজনকেই চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিধিমালার ৪৪(১) ধারা মোতাবেক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনজনেই খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তের পাশাপাশি ওই তিনজনের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে না, সেই মর্মে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের কর্তৃপক্ষ বরাবর জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উদ্দিন রোমেল যিনি বর্তমানে প্রশাসনিক শাখায় বিশেষ কর্মে নিযুক্ত রয়েছেন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মো. আহসান উদ্দিন রোমেল জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে কর্মরত না থেকে প্রশাসনিক শাখায় সংযুক্ত থাকলেও তথ্য গোপন রেখে তথ্য কমিশনের শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য ঢাকা গমনের অফিস আদেশ স্বাক্ষর করিয়েছেন। যা কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে সম্প্রতি কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছিল এবং সেই নোটিশের জবাবপত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও তা করেননি।

এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম