বিশ্বের রহস্যময় কয়েকটি গুপ্ত দরজা
Best Electronics

বিশ্বের রহস্যময় কয়েকটি গুপ্ত দরজা

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩৯ ৮ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাড়ি থেকে মহল, অফিস থেকে স্কুল সবকিছুই চোর বা অবৈধ প্রবেশকারীদের হাত থেকে রক্ষার্থে দরজা ব্যবহার করা হয়। পুরো পৃথিবীব্যাপি কয়েক ত্রিলিয়ন দরজা রয়েছে। এসব দরজা বছর বছর ধরে দরজার ওপাশের মানুষ বা সম্পদ রক্ষা করলেও কিছু দরজা রয়েছে যা বছর বছর ধরে কোনো এক রহস্যকে রক্ষা করে আসছে। কারণ কিছু দরজা কয়েক হাজার বছর ধরে বন্ধ! তাহলে জেনে নেয়া যাক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই রহস্যময় দরজাগুলো সম্পর্কে- 

তাজমহলের ভেতরের দরজা 

তাজমহলের ভেতরের দরজা তাজমহল সম্পর্কে কে না জানে! ইন্ডিয়ার আগ্রায় অবস্থিত এই ভালবাসার প্রতীক সম্রাট শাহজাহান তার তৃতীয় স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুর স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মাণ করেন। তাই তাজমহলটি মমতাজমহল নামেও পরিচিত। এই সুবিশাল মহল তৈরির কাজ শুরু হয় ১৬৩১ সালে। তাজমহলের ডিজাইন এতটাই চমকপ্রদ এবং কঠিন ছিল যে, এক হাজার হাতি এবং ২০ হাজার মানুষের তাজমহলের কাজ শেষ করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগে। কিন্তু পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি এই তাজমহল শুধু ভালোবাসা এবং অসাধারণ স্থাপত্য শিল্পই প্রকাশ করেনা এর ভেতরে রয়েছে শত বছরের অমীমাংসিত রহস্য। তাজমহলকে ঠিক মত লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মূল মহলের নিচে দু’টি বড় পাতাল ঘড় রয়েছে। এই পাতাল ঘর দুটি অনেকগুলো দরজা দিয়ে আটকানো। কিন্তু এসকল দরজার পেছনে কি রয়েছে তা মানুষের এখনো অজানা। শাহজাহানের সময় থেকেই এসকল দরজা সিল করা। এরপর থেকে কোনো মানুষই এই দরজাগুলো খোলেনি বা খোলার চেষ্টাও সফল হয়নি। অনেকের ধারণা এই দরজার পেছনেই রয়েছে শাহজাহানের প্রিয় রানী মমতাজের মরদেহ। আবার অনেক গবেষকের ধারণা এসকল দরজার পেছনে রয়েছে মুঘল সম্রাজের গুপ্ত নথিপত্র। তবে বেশিরিভাগ গবেষকই ধারনা করে এসকল চেম্বার পিওর মার্বেলের তৈরি। যা বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইডের সংস্পর্শে আসলে নিমিষেই ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের গুঁড়োতে পরিণত হবে এবং তাজ মহল ধ্বসে যাবে। তাই শত শত বছর ধরে এসকল দরজা সিল করা। কিন্তু আসল রহস্য অজানাই থেকে যাবে। 

গ্রেট স্পিংকস অফ গিজা

গ্রেট স্পিংকস অফ গিজাঅনেকেই হয়তো এই মনুমেন্টের নাম শুনিনি! কিন্তু দেখলে অবশ্যই চিনব। মিশরের গিজায় অবস্থিত রামিডের সাথে অর্ধেক রমনী এবং অর্ধেক সিংহ আকৃতির বিশাল মূর্তি। স্পিংকস মানুষের তৈরি পৃথিবীর সবথেকে বড়  মূর্তি। এর উচ্চতা ৬৩ ফিট, প্রস্থ ৬২ ফিট এবং প্রায় ২৪০ ফিট দীর্ঘে। ধারণা করা হয়, এই মূর্তিটি প্রায় ৪ হাজার ৫ শত বছর পূর্বে তৈরি করা হয়েছিল। কয়েক হাজার বছর ধরেই মূর্তিটিকে ঘিরে অনেক রহস্য রয়েছে। এই মূর্তির মত চরিত্র গ্রীক এবং মিশরিয় উভয় মিথোলজিতেই রয়েছে। তবে এই মূর্তি কাকে উৎস্বর্গ করে তৈরি তা জানা যায়নি। মূর্তিটি তৈরিতে একশ শ্রমিকের ৩ বছর লেগেছিল। কিন্তু মূর্তিটি কোনো সাধারণ শ্রমিকদের তৈরি নয়। মূর্তির আশেপাশের পাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে ধারণা করা হয় মূর্তিটি পুরোহিতেরা তৈরি করেন। এছাড়াও সম্প্রতি গবেষকরা শক্তিশালী এক্স-রে এর মাধ্যমে দেখেছেন মূর্তিটির নিচে একটি দরজা এবং দু’টি চেম্বার আছে। কিন্তু এই চেম্বারের মধ্যে কি রয়েছে তা গবেষকদের অজানা। ধারনা করা হয়, এই চেম্বারে কোনো মমি করা গুরুত্বপূর্ণ ফারাওয়ের দেহ রয়েছে। আবার অনেক গবেষকদের ধারণা মিশরীয় হাজার বছরের সকল গবেষনা এখানে স্ক্রল আকারে রয়েছে। কিন্তু এর ভেতরে কি রয়েছে তা অজানাই থেকে যাবে!

টোম্ব অফ দ্য ফার্স্ট এম্পেরর

টোম্ব অফ দ্য ফার্স্ট এম্পেরর চীনের মধ্যভাগে পাহাড়ে ঘেড়া অঞ্চল জিন সি’তে চীনের প্রথম সম্রাট জিন সি হুয়াংয়ের সমাধি অবস্থিত। এই সমাধি পুরোটা ঘিরেই রহস্য রয়েছে। আমরা হলিউডের বিখ্যাত মুভি দ্য মমি থ্রি’তে যে স্টোরি দেখেছি তার প্লট সম্রাট জিন সি এর সমাধিক্ষেত্র থেকেই নেয়া। ১৯৭৪ সালে জিন সি এর বাইরের একটি কৃষি ভূমিতে কৃষকরা কাজ করার সময় একটি টেরাকোটার মূর্তি আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে গবেষকরা আরো খুড়ে প্রায় ১ হাজার সৈন্যদের মূর্তি আবিষ্কার করেন। চীনের মিথোলজি থেকে জানা যায় ফার্স্ট এম্পেরর জিন সি মাটির নিচে একতি বিশাল শহর তৈরি করেছিলেন। যার আকাশ ছিল হিরা জহরতে সাজানো। ধারনা করা হয় এই টেরাকোটার সৈন্যগুলো এই শহর রক্ষার্থেই তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়াও গবেষকরা ধারণা করেন যে তারা সমাধিক্ষেত্রের নিচের সিল করা দরজা দিয়ে আগালে জিন সি এর মরদেহ এবং শহরের রহস্য উদ্ধার করতে পাড়বে। কিন্তু জিন সি এর কবরের চারপাশে পারদের নদী তৈরি করা হয়েছিল। যা অতি বিষাক্ত। তাই গবেষকরা জিন সি এর সমাধি এবং গুপ্ত শহরের রহস্য উদ্ধারে সফল হচ্ছেনা। 

ডেইলি বাংলদেশ/জেএমএস

Best Electronics