বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর রেইনফরেস্ট সঙ্গে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্র

বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর রেইনফরেস্ট সঙ্গে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্র

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩১ ২৯ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৮:৪৩ ২৯ জুলাই ২০২০

ছবি: ট্রপিকেল ইসল্যান্ড রিসোর্ট

ছবি: ট্রপিকেল ইসল্যান্ড রিসোর্ট

সমুদ্রের তীরে ঘুরতে কিংবা বনের গভীরে হারিয়ে যেতে কার না শখ জাগে! অনেকের তো নেশাই হয়ে যায় বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো। আচ্ছা এক ছাদের তলায় যদি থাকে সমুদ্র, বন, রিসোর্ট, পাহাড় সবকিছু তাহলে কেমন হয়? 

ঠিক এভাবেই এক ছাদের তলে বনাঞ্চল, পাহাড়, সমুদ্র ও রিসোর্ট তৈরি করেছে জামার্নিরা। ট্রপিকেল ইসল্যান্ড ফরেস্ট (ক্রান্তীয় দ্বীপপুঞ্জ) নামক এই বনাঞ্চলটি বার্লিন থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। 

গম্বুজ আক্রতির কৃত্রিম রিসোর্টএটি বিশ্বের বৃহত্তম স্থায়ী কৃত্রিম রিসোর্ট। এটি একটি ইনডোর ফরেস্ট। অনেকটা বিমান-হ্যাঙ্গারের মতো (যেখানে বিমান রাখা হয়) এই বনাঞ্চলটি। এই বনাঞ্চলের যে আয়তন সেখানে মোট ২১ টি বিমান রাখা যাবে। এবার নিশ্চয় এর আয়তন অনুমান করতে পারছেন? 

এর কাঠামোটি ৩৬০ মিটার লম্বা, ২১০ মিটার প্রশস্ত, ১০৭ মিটার উঁচু এবং ১৪ হাজার টন ইস্পাত দ্বারা নির্মিত। এটি প্রায় ৮টি ফুটবল স্টেডিয়ামের সমান জায়গা নিয়ে অবস্থিত। এমনকি নিউইয়র্ক স্ট্যাচু অব লিবার্টি যেটি ৯৩ মিটার দীর্ঘ কিংবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ার যেটি ৩২২ মিটার এর মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ে থাকতে পারে এর ভেতর।  

গাছের ফাঁক দিয়ে পথএই ইনডোর রেইনফরেস্টটি সোনি সেন্টার, গেট হাউস এবং ডেইমলার ক্রাইসলার আকাশচুম্বী ভবনসহ বার্লিনের পটসডেমার প্ল্যাটজকেও জায়গা দিতে সক্ষম। পাঁচ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন আয়তনের এই বনাঞ্চলটি পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম বন আর সমুদ্রের দ্বীপ। 

এই কৃত্রিম বনাঞ্চলটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০০ সালের নভেম্বরে। এয়ারশিপ হ্যাঙ্গার হিসেবেই নির্মাণ কাজ শুরু হয় এটির। তবে ২০০২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সংস্থাটি দেউলিয়ার হয়ে যায়। এর দুই বছর পরে কৃত্রিম রেইনফরেস্ট হিসেবে গড়ে তোলা হয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই কৃত্রিম রিসোর্টটি।

কৃত্রিম পুলএই দ্বীপপুঞ্জটি গ্রাউন্ডকভার দিয়ে ঢেকে রাখা আছে। এর ভেতরে রয়েছে ৩০ হাজার গাছ ও গুল্ম। মাংসাশী গাছ, কলা গাছ, কফি বাগান, জঙ্গলী লতা এবং অন্যান্য বিদেশি গাছও রয়েছে এই দ্বীপে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ও বনের মধ্য দিয়ে ম্যানগ্রোভ জলাভূমির উপর একটি সেতু এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। 

ঘরোয়া এই বনাঞ্চলের একপাশের জানালাগুলো স্বচ্ছ। এর ফলে রোদ ভেতরে আসতে পারে। গাছগুলো এর জন্যই এতো ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পেরেছে। এখানে আগত পর্যটকেরা ২০০ মিটার দীর্ঘ মানব-নির্মিত সৈকতে শুয়ে সূর্যস্নান করতে পারে। কৃত্রিম সমুদ্রে সাঁতার কাটতেও পারেন তারা। সারা বছর স্থানটির তাপমাত্রা থাকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রীষ্মমন্ডলীয় সমুদ্রটি অন্যান্য সমুদ্রের মতোই বালুকাময় হয়ে ওঠে।   

সমুদ্র উপকূলে বসে আছে পর্যটকেরাপুলগুলোর চারপাশে অ্যাংকার ওয়াট, বালিনিস টেম্পল গেট, বোর্নিওর একটি লংহাউস এবং একটি ঐতিহ্যবাহী থাই বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটি তৈরি হয়েছে এশিয়ার বিস্ময়কর স্থাপত্যের আদলে। পুকুর এবং খালসহ বড় বুদ্ধের মূর্তি রয়েছে এখানে। কমপ্লেক্সটির ভেতরে গেলে আপনি একটুও অবসর পাবেন না। কারণ এর আকর্ষণীয় নিদর্শনগুলো দেখতেই আপনি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

এই রিসোর্টটি সারাবছর দিনের ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। এখানে একটি সুইমিং পুল রয়েছে যা একসঙ্গে আট হাজার দর্শনার্থীর জায়গা দিতে পারে। এই কৃত্রিম রেইনফরেস্টে গেলে আপনার দেখতে পাবেন ২৫ মিটার পানির স্লাইড, মিনি গল্ফ কোর্স, রেস্তোঁরা, শপিংমল ইত্যাদি। এছাড়াও রাতে সৈকতে ক্যাম্পিং করতে পারবেন।  

রিসোর্টের ঘরগুলোও বেশ নান্দনিকএই সুইমিং পুলের পানি গাছের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এখানকার গাছগুলোর যত্নে কোনো কৃত্রিম সার ব্যবহার করা হয় না। গাছ নিজেই বালি, জৈব বর্জ্য, কাদামাটি এবং গাছের ছাল দিয়ে সার তৈরি করে নেয়। এখানে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির ব্যবস্থাও করা হয়। যাতে আবহাওয়া একেবারে বাইরের মতোই হতে পারে। 

এই রিসোর্টটি জার্মানির ব্র্যান্ডেনবার্গের ক্রাউজনিক পৌরসভায় বার্লিনের থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। বার্লিন থেকে এখানে যেতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা। পুরো দ্বীপটি ঘুরে দেখতে আপনার কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে।  

সূত্র: অ্যামিউজিংপ্লানেটস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস