Alexa বিশ্বের দশ কোটি মানুষ পাবজি’র মাধ্যমে যুদ্ধ করছে!

বিশ্বের দশ কোটি মানুষ পাবজি’র মাধ্যমে যুদ্ধ করছে!

মেহেদী হাসান শান্ত  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৬ ১ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্যারাসুটে করে ১০০ জন খেলোয়াড়কে খালি হাতে একটি দ্বীপে ছেড়ে দেয়া হয়। সবাই একে অন্যের বিপক্ষে লড়াই করবে, একে অপরকে খুন করার প্রতিযোগিতায় নামবে। শেষ পর্যন্ত যে টিকে থাকবে, সেই হবে বিজয়ী। পাবে উইনার চিকেন ডিনার! এরকমই এক খেলা হলো পাবজি বা ‘প্লেয়ার আনোন ব্যাটলগ্রাউন্ড’। 

পাবজিই প্রথম জনপ্রিয় মোবাইল গেম, সেখানে ভয়েস চ্যাটের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে এক টিমের সদস্যরা মিশন চলাকালীন সময়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। ঠিক যেমনটা যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈন্যরা একে অপরের সঙ্গে রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। এর মাধ্যমে পাবজি অনেকটাই ইউজার ইন্টারঅ্যাকটিভ হয়েছে। 

প্যারাসুটে করে নামছে খেলোয়ার

পাবজি গেমটি বিখ্যাত জাপানি সিনেমা ‘ব্যাটল রয়্যাল’ থেকে অনুপ্রাণিত। ইংরেজি থ্রিলার উপন্যাস অবলম্বনে রচিত ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ সিনেমাতেও একই পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে। ব্যাটল রয়্যাল সিনেমায় কিছু স্কুলের বাচ্চাদের একটি পরিত্যক্ত দ্বীপে ছেড়ে দেয়া হয়। শর্ত দেয়া হয়, সেখানে তাদের একে অন্যকে মেরে ফেলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন মাত্র টিকে থাকে। 

পাবজি গেমটি ব্রাজিলিয়ান ফটোগ্রাফার ও ডিজে ব্রেন্ডন গ্রিনের তৈরি। ব্রেন্ডন গ্রিন ছিলেন আর্মার ও ডেজি গেমের পরম ভক্ত। তার কাছে এই গেমগুলোর ম্যাপ খুবই সহজ মনে হতো। তাই তিনি ভাবলেন, ম্যাপটাকে যদি আরও বড় করলে খেলোয়াড়রা লুকিয়ে থাকতে বেশি জায়গা পেত ও অতর্কিত আক্রমণ করতে পারত। 

শত্রুদের মারতে ব্যস্ত খেলোয়ার

ওই চিন্তা থেকে গ্রিন নিজেই ওয়েব ডিজাইন শেখেন এবং আর্মা গেমের ম্যাপে কাস্টম পরিবর্তন আনেন। এরপর গ্রিন তার ম্যাপ অনলাইনে আপলোডও করেন। তবে গ্রিনের তৈরি ম্যাপটি যুগান্তকারী হলেও তিনি এক সঙ্গে মাত্র ৬ জন গেমারকে গেমে কানেক্ট করতে পারতেন। গ্রিনের ম্যাপে খেলার জন্য তাই গেমাররা দিনের পর দিন অপেক্ষা করত; কবে তার কাস্টম ম্যাপের স্লট খালি হবে সেজন্য। 

অচিরেই ব্রেন্ডন গ্রিনের জনপ্রিয়তা গেমিং দুনিয়ায় ছড়িয়ে যায়। তার জনপ্রিয়তায় আকৃষ্ট হয়ে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমিং কোম্পানি সনি তাদের জম্বি গেম ‘কিং অফ দ্য কিল’ (এইচ ১ জেড ১) এর ম্যাপ তৈরির জন্য তাকে প্রস্তাব দেয়। তবে গ্রিন ছিলেন স্বাধীনচেতা। তিনি কোনো বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির অধীনস্ত হয়ে কাজ করতে চাইতেন না। এ কারণেই সনির দেয়া প্রস্তাব তার মনে ধরেনি। 

অস্ত্র হাতে খেলোয়ার

এমন সময়ে ব্রেন্ডন গ্রিনের কাছে এলেন দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ চ্যাং হান কিম। কিম গ্রিনকে একটি ডেভেলপার টিম ও ক্রিয়েটিভ কন্ট্রোল দেয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে সে নিজেই নিজের গেম তৈরি করতে পারে। কিমের সেই প্রস্তাবই ছিল মূলত আজকের পাবজির পথ প্রদর্শক। ২০১৭ সালে প্রথম পাবজি গেমটি সর্বপ্রথম মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জন্য বেটা ভার্সন আকারে মুক্তি দেয়া হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে গেমটির একটি পূর্ণাঙ্গ ভার্সন এক্সবক্স ওয়ানের জন্য অবমুক্ত করা হয়।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরের মতো অনলাইন মোবাইল স্টোরগুলোতে গেমটি বিনামূল্যে অবমুক্ত করে হয়। এরপর প্রায় ১০ কোটি বারেরও বেশি এই গেমটি প্লে স্টোরে ডাউনলোড হয়েছে। পাবজি কর্পোরেশনের ব্যানারে গেমটি প্রকাশিত হয়, এটি দক্ষিণ কোরিয়ান ভিডিও গেম কোম্পানি ব্লুহোল এর একটি অঙ্গ সংস্থা। 

পাবজি খেলোয়াররাপাবজি গেমটি প্রায় সব বয়সের মানুষকেই আকর্ষণ করে। বিশেষ করে যারা ভাইস সিটি বা কাউন্টার স্ট্রাইক খেলে বড় হয়েছে, এই গেমটি তাদের জন্য আদর্শ। ভারতে এই গেমের তুমুল জনপ্রিয়তা দেখে টেনসেন্ট এ বছরের জানুয়ারিতে শুধু কলেজ ছাত্রদের নিয়ে একটি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। ৫০ লাখ রুপির এ প্রতিযোগিতায় ১ হাজার কলেজ থেকে প্রায় আড়াই লাখ ছাত্র রেজিস্ট্রেশন করে।

শত্রু সেনার মুখোমুখি খেলোয়ারপাবজি গেমটি ২০১৭ সালের গ্যোল্ডেন জয়স্টিক অ্যাওয়ার্ডে সেরা মাল্টিপ্লেয়ার গেম ও পিসি গেম অফ দ্য ইয়ারের খেতাব অর্জন করে। দ্য গেম অ্যাওয়ার্ডসেও পাবজি সেরা মাল্টিপ্লেয়ার গেমের স্বীকৃতি পেয়েছে। পাবজির তুমুল সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে গেমটির কিছু চাইনিজ ক্লোনও বাজারে এসেছে।

এছাড়া অনেক দেশে গেমটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, কারণ তাদের দাবি গেমটিতে হিংস্রতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়ে থাকে। এই দেশগুলো হলো নেপাল, ইরাক ও চীন। এছাড়া ভারতের অরুণাচল প্রদেশও সম্প্রতি পাবজি গেমটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics