বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা

বিশ্বজুড়ে মহামারি রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৮ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:২৭ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। চীনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। প্রতিষেধকহীন এই ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ানক বা এর থেকে বাঁচার উপায় কি তা এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি গবেষকরা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এছাড়া বিশ্বজুড়ে এতে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৩১ জন। এরমধ্যে চীনেই সোমবার আরো ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে চীনের পর ভাইরাসটি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ পূর্ব এবং পশ্চিম এশিয়ায়।

সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে আরো ১৬১ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৬৩ জন। মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। রোববার দেশটিতে চূড়ান্ত করোনা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন থেকে বেড়ে ১৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা, দেশটিতে সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে ইরানেও। যার জেরে রোববার পাকিস্তান, তুরস্ক এবং আর্মেনিয়া ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিটি দেশই জানিয়েছে, আপাতত ইরান থেকে কাউকে তাদের দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। নিজেদের দেশের নাগরিকদেরও ইরানে যেতে দেয়া হবে না। আফগানিস্তানও একই কাজ করতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ জন। মারা গেছেন আটজন। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, লেবানন ও ইসরায়েলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে চীনের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উত্তর কোরিয়ায় ৩৮০ জন বিদেশিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর আগেও উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ৩০ দিন ধরে ২০০ বিদেশিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার সময় আরো বাড়ানো হয়েছে। যদিও দেশটিতে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে শনাক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

গত মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, চীনের মতো উচ্চবিত্ত দেশ যেভাবে এ ভাইরাসের মোকাবিলা করছে তা অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোর পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। ফলে সংক্রমণ চীনের বাইরে চলে গেলে ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। সেই আশঙ্কা ক্রমশ বাস্তব হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করতে চেয়েছেন।

২০১৯ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে নতুন এক রোগের কথা জানায়। এক কোটিরও বেশি মানুষের উহান শহরে অনেকেই শ্বাসতন্ত্রের অজানা সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। রোগের কারণ ও ধরন অজানা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। শহরের সামুদ্রিক খাবারের বাজার দ্রুত বন্ধ ঘোষণা করা হলে এখন ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপি ছড়াতে শুরু করেছে।

যদিও এ ভাইরাসের প্রকোপ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত সে ভাবে দেখা যায়নি। তবে যেভাবে পূর্ব এবং পশ্চিম এশিয়ায় করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে এই দেশগুলোরও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের বক্তব্য, এই দেশগুলোরও করোনার সঙ্গে লড়াই করার মতো পরিকাঠামো তৈরি করে রাখা উচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী