দূরবীনপ্রথম প্রহর

বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক, তবুও পার্শ্বনায়ক

সঞ্জয় বসাক পার্থডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

উমর গুলের তোপে কাঁপছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। কিন্তু এক প্রান্ত ঠিকই আগলে ধরে রেখেছেন একজন। একদিকে উইকেট আঁকড়ে ধরে রাখা, আরেকদিকে রানের চাকা সচল রাখা, দুটোই করতে হচ্ছে একইসঙ্গে। ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল, ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সেদিনের চিত্র ছিলো এমনই। শেষ পর্যন্ত আউট হলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৭৫ রান করে। ভারতও জিতলো প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ, কিন্তু ফাইনাল শেষে সকলের মুখে মিসবাহ উল হককে আউট করা হরিয়ানার অখ্যাত পেসার যোগিন্দর শর্মা আর শিরোপা জেতানো তরুণ, ক্যারিশম্যাটিক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম। গৌতম গম্ভীর রয়ে গেলেন আড়ালে।

চার বছর পর আরেকটি ফাইনাল, এবার ভেন্যু মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে। মঞ্চটা চার বছর আগের চেয়েও বড়, ২৮ বছর পর আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার সুবর্ণ সুযোগ ভারতের সামনে। শচীন টেন্ডুলকারের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ এনে দিতে যুবরাজদের টপকাতে হতো ২৭৫ রানের বাঁধা। কিন্তু ৩১ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফেরত স্বয়ং টেন্ডুলকার ও শেবাগ। আরো একবার ফাইনালে দলের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ গম্ভীর।প্রথমে কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেন, এরপর অধিনায়ক ধোনির সঙ্গে ম্যাচজয়ী ১০৯ রানের জুটি। ক্ষণিকের পাগলামিতে সেঞ্চুরি মিস করলেন, থিসারা পেরেরাকে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোল্ড হলেন ৯৭ রানে। সেঞ্চুরি না পেলেও চার বছর আগের মতো এবারও দলের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনিই।

আরো একবার লাইমলাইট থেকে বঞ্চিত তিনি, ফাইনালের পুরো আলো কেড়ে নিলেন অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস খেলা পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে অনুজ্জ্বল ধোনি। ম্যাচসেরার পুরষ্কারটাও গেলো তার হাতেই। আরো একবার আড়ালে রয়ে গেলেন গম্ভীর। গৌতম গম্ভীরের ক্যারিয়ার হাইলাইটস দেখতে গেলে দুই বিশ্বকাপ ফাইনালের এই দু’টি ইনিংসই আসবে সকলের আগে। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মহিমান্বিত অর্জন অবশ্যই দু’টো বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হওয়া।কিন্তু গম্ভীরের ক্যারিয়ারে রোশনাই কিন্তু নেহায়েত কম নেই। শেবাগের সঙ্গে মিলে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সফল ওপেনিং জুটি, আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক, সদ্য বিদায়ী গৌতম গম্ভীরের পুরো ক্যারিয়ারটাই দেখে নেয়া যাক এক নজরে-

টেস্ট ক্যারিয়ার: যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

যেই ওয়াংখেড়েতে বিশ্বকাপ ফাইনাল আলোকিত করেছেন, গম্ভীরের টেস্ট ক্যারিয়ারও সেখানেই, ২০০৩-৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। লো স্কোরিং থ্রিলার ম্যাচে দুই ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৩ ও ১ রান। তবে শীঘ্রই পেয়ে গেলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে করলেন ১৩৯ রান। এর পরপরই খেই হারালো তার ক্যারিয়ার, প্রায় ৩০ মাস দলের বাইরে থেকে ফিরলেন ২০০৮ সালের শ্রীলঙ্কা সফরের দলে। এরপরের দেড় বছর যেন গম্ভীরের সেরা ক্রিকেটটাই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এই সময়ে ১৫ ম্যাচে ৭৬.৫৯ গড়ে রান করেছিলেন ২০৬৮। ১৫ ম্যাচের মধ্যেই পেয়ে গিয়েছিলেন ৮ টি সেঞ্চুরি। হোম গ্রাউন্ড ফিরোজ শাহ কোটলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছিলেন ক্যারিয়ারের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি, করেছিলেন ২০৬ রান। এরপর নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ৪৪৫ রান করে হলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এর মধ্যে নেপিয়ারে ম্যাচ বাঁচানো ৪৩৬ বলে ১৩৭ রানের ইনিংসটিকে অনেকেই তার সেরা ইনিংস বলে থাকেন। ফলো অনে পড়ে ব্যাট করতে নেমে ক্রিজে কাটিয়েছিলেন ৬৪৩ মিনিট, মিনিটের দিক থেকে যেটি কি না কোন ভারতীয় ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইনিংস। ক্যারিয়ারের ২৯ তম টেস্ট শেষে দারুণ এক রেকর্ডের মালিক ছিলেন গম্ভীর।

২৯ টেস্ট শেষে গম্ভীরের রান ছিল ২ হাজার ৭৬০, ক্যারিয়ারের প্রথম ২৯ টেস্ট শেষে এর চেয়ে বেশি রান ছিল আর মাত্র তিন জনের, স্যার ডন ব্র্যাডম্যান (৩ হাজার ৮৮৭), এভারটন উইকস (২ হাজার ৯১৮) আর নীল হার্ভি (২ হাজার ৭৬২)। ভারতীয়দের মধ্যে এই রেকর্ডে গম্ভীরের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন তারই ওপেনিং পার্টনার শেবাগ (২ হাজার ৫১২)। ২৯ টেস্ট শেষে গম্ভীরের গড় ছিল ৫৭ দশমিক ৫০, যা কি না ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২৯ টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়ে গিয়েছিলেন ৯টি, একমাত্র সুনীল গাভাস্কারেরই ক্যারিয়ারের ২৯ টেস্ট শেষে ৯ টি সেঞ্চুরি ছিল। ২৯ টেস্টের হিসাব দেয়া হচ্ছে বারবার, কারণ এতে গম্ভীরের ক্যারিয়ারের দুটো ভাগ খুব ভালো করে বোঝা যাবে। ক্যারিয়ারে মোট টেস্ট খেলেছেন ৫৮ টি, কিন্তু প্রথম ২৯ টেস্টের সাথে শেষ ২৯ টেস্টের যেন আকাশ পাতাল ব্যবধান। ক্যারিয়ারের মোট ৯ সেঞ্চুরির সবকয়টিই এসেছে প্রথম ২৯ টেস্টে, শেষ ২৯ টেস্টে সেঞ্চুরি নেই একটিও। গড়টাও ৫৭ দশমিক ৫০ থেকে নেমে এসেছে ২৭ দশমিক ৩৩ এ। আর এই ফর্ম হারানোর শুরু ২০১০ সালে ঘরের মাটিতে সাউথ আফ্রিকা সিরিজ থেকে। ২০১১-১২ তে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় দুঃস্বপ্নের মতো সফর ও দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারের পর দল থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বাদ পড়ে যান তিনি। মাঝে দু’বার ডাক পেয়েছিলেন বটে, কিন্তু কোনোবারই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তবে যখন রান পেয়েছেন সেটা দলের কাজেই এসেছে। যেই ৯ টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন গম্ভীর, তার কোনটিতেই হারেনি ভারত, জিতেছে ৪ টিতে আর ড্র হয়েছে ৫ টি ম্যাচ।

শেবাগ-গম্ভীর জুটির উপাখ্যান

একজনকে ব্যাটিং প্রান্তে দেখলে বোলারদের ঘুম হারাম হয়ে যেতো, আরেকজন ছিলেন স্থিতধী ব্যাটিংয়ের অনুসারী। বিপরীত স্টাইলের এই দুজন মিলেই গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সফল এক ওপেনিং জুটি। ৮৭ বার জুটি বেঁধে দুজনে মিলে ৪ হাজার ৪১২ রান তুলেছেন, ওপেনিং জুটিতে ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান আছে কেবল চারটি জুটির। ৬ হাজার ৪৮২ রান নিয়ে সবার উপরে আছেন গর্ডন গ্রিনিজ-ডেসমন্ড হেইন্স জুটি, ৫ হাজার ৬৫৫ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ম্যাথিউ হেইডেন-জাস্টিন ল্যাঙ্গার, ৪ হাজার ৭১১ রান নিয়ে ৩য় স্থানে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস-অ্যালিস্টার কুক ও ৪ হাজার ৪৬৯ রান নিয়ে শেবাগ-গম্ভীরদের ঠিক উপরেই আছেন মারভান আতাপাত্তু-সনাথ জয়াসুরিয়া জুটি। তবে গড়ের দিক থেকে উপরে থাকা চার জুটিকেই পেছনে ফেলেছেন শেবাগ-গম্ভীর, টেস্ট প্রতি গড়ে ৫২ দশমিক ৫২ রান তুলেছেন এই জুটি। যেকোনো উইকেট জুটি মিলিয়েই ভারতীয় ক্রিকেটে রানের দিক থেকে এই জুটির চেয়ে বেশি রান আছে কেবল একটিই জুটির, শচীন টেন্ডুলকার-রাহুল দ্রাবিড় জুটির (৬ হাজার ৯২০)।

রঙিন পোশাকের ক্রিকেটেও উজ্জ্বল

টেস্ট ক্যারিয়ারের মতো গম্ভীরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারটাও শুরু হয়েছিল ধীর গতিতে। ২০০৭ এর শেষ পর্যন্ত প্রথম ৩৭ ম্যাচ খেলে গড় ছিল ৩০ এর একটু বেশি। তবে ২০০৭-০৮ এ অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে হাসতে শুরু করে গম্ভীরের ব্যাট। জানুয়ারি ২০০৮ থেকে শুরু করে ডিসেম্বর ২০১২ মধ্যবর্তী সময়ে রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের একজন ছিলেন গম্ভীর। এই সময়ের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি ওয়ানডে রান ছিল মাত্র চারজনের, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন গম্ভীর। এই চার বছরে ১০৩ ম্যাচ খেলে গম্ভীরের রান ছিল ৪ হাজার ৪২, তার চেয়ে বেশি রান ছিল কেবল কুমার সাঙ্গাকারা (৪ হাজার ৮৯৮), তিলকারত্নে দিলশান (৪ হাজার ২৭৪) ও মহেন্দ্র সিং ধোনির (৪ হাজার ১৮৩)।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও শেবাগের সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে তুলেছিলেন গম্ভীর, ম্যাচপ্রতি দু’জনের জুটি থেকে গড়ে এসেছে ৫০ দশমিক ৫৪ রান। ওপেনিংয়ে জুটি বেঁধে অন্তত পনোরোশো রান করেছে এমন জুটিদের মধ্যে গ্রিনিজ-হেইন্সের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গড়ের মালিক শেবাগ-গম্ভীর জুটি। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে অনেক রকম কথা শোনা গেলেও আরেক দিল্লী ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সঙ্গেও ২২ গজে জুটিটা বেশ জমেছিল গম্ভীরের, ৩৫ ইনিংসে একসঙ্গে ব্যাট করে ৬০ দশমিক ৬১ গড়ে ঠিক ২ হাজার রান সংগ্রহ করেছেন তারা, যার মধ্যে ছিল ৩ টি ২০০+ রানের জুটিও। মূলত ২০১২-১৩ মৌসুমে পাকিস্তান ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে ৮ ইনিংসে মাত্র ১৬১ রান করার পর ওয়ানডে দল থেকে ব্রাত্য হয়ে পড়েন গম্ভীর। ততদিনে রোহিত শর্মা-শিখর ধাওয়ানরাও উঠে আসায় আর সুযোগ পাওয়া হয়নি গম্ভীরের।

আইপিএল কিংবদন্তি

ভারতের ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পরপরই ক্রেজ হিসেবে শুরু হয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বা আইপিএল।টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ম্যাথিউ হেইডেনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৭ রান ও ফাইনালে ম্যাচজয়ী ৭৫ রানের ইনিংস খেলায় প্রথম আইপিএলের নিলামে গম্ভীরের চাহিদা বেশ ভালোই ছিল। ২০০৮ এর প্রথম আসরে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে ঘরের ছেলেকে নিজেদের দলে নেয় দিল্লী ডেয়ারডেভিলস। ফ্র্যাঞ্চাইজিকে হতাশ করেননি গম্ভীর, ৫৩৪ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপের লড়াইয়ে (সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহককে সম্মাননা স্বরূপ একটি অরেঞ্জ ক্যাপ দেয়া হয় আইপিএলে) শন মার্শের পেছনে থেকে হয়েছিলেন দ্বিতীয় (মার্শ করেছিলেন ৬১৮ রান)। ২০১১ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলে চলে আসেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে, আর এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি। যেই দলটি প্রথম তিন আসর শেষে একবারও শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারেনি, সেই কলকাতাকেই ২০১২ আসরে অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন বানালেন গম্ভীর। শুধু অধিনায়কত্ব নয়, ব্যাট হাতেও সেই আসরে দারুণ সফল ছিলেন তিনি। ৫৯০ রান করে হয়েছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

শুধু ২০১২ তেই নয়, এক বছর বিরতি দিয়ে ২০১৪ তে আবারও দলকে শিরোপা জেতান গম্ভীর। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে যাওয়ার আগে এই গম্ভীরের নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন কলকাতায় খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ৪ হাজার ২১৭ রান নিয়ে আইপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তার সামনে আছেন কেবল সুরেশ রায়না (৪ হাজার ৯৮৫), বিরাট কোহলি (৪ হাজার ৯৪৮) ও রোহিত শর্মা (৪ হাজার ৪৯৩)। তবে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৬ টি ফিফটির মালিক কিন্তু গম্ভীরই, যদিও অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার পরে রেকর্ডটিতে ভাগ বসিয়েছেন। তবে দীর্ঘ টি-২০ ক্যারিয়ারে কোনো সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার, সর্বোচ্চ স্কোর ৯৩। মাঠ থেকে হয়তো বিদায় নেয়া হচ্ছে না, তবে ২০০৭ ও ২০১১ এর বিশ্বকাপ, ২০০৮ এ অস্ট্রেলিয়ায় সিবি সিরিজ জয়ী দল ও টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের অংশ হিসেবে গম্ভীরকে আজীবন মনে রাখবেন ভারতীয় সমর্থকেরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

daily-bd-hrch_cat_news-16-10