বিশাল আকৃতির অজগরকে পিটিয়ে মারলো এলাকাবাসী

বিশাল আকৃতির অজগরকে পিটিয়ে মারলো এলাকাবাসী

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৯ ১৫ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৮ ১৫ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরীর পানিতে ভেসে আসা একটি অজগর সাপকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন স্থানীয়রা।

গতকাল মঙ্গলবার বিশাল আকৃতির অজগরকে মেরে ফেলার পর ছবি পোস্ট করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উল্লাসের এই ছবি ছাড়ার মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে রীতিমতো আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউপির বিজয়পুর বিজিবি সীমান্ত ক্যাম্পের সামনে রানীখং ফুটবল খেলার মাঠে ঝোপের আড়ালে কিছু একটা নড়াচড়া দেখতে পায় স্থানীয় এক যুবক। এ সময় দৌড়ে তার সহপাঠীদের বিষয়টি জানালে তারাও ছুটে এসে ঝোপের ভেতর অজগরের মাথা দেখতে পায়। পরে আশপাশের স্থানীয় প্রায় ২৫/২০ লোকজন বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাথা-শরীরে আঘাত করে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় অজগরকে।

হত্যার পর স্থানীয় যুবকরা উল্লাস করে নানা অঙ্গভঙ্গিতে মৃত অজগরের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পোস্ট করেন। এরপর থেকে ওই এলাকায় সাপটিকে মারায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছবিগুলো দেখে নড়ে চড়ে বসে উপজেলার পরিবেশ ও পশু প্রেমীরা। সাপটিকে মারায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে দুর্গাপুরের সতেচন মহলে । 

স্থানীয়দের ধারণা গত কয়েকদিন ধরে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভেসে এসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল লুকিয়ে ছিলো প্রায় ১২ ফুট লম্বা অজগরটি। 

জানা গেছে, এক সময় দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অজগরসহ বিভিন্ন প্রকার বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতো। কিন্তু পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ ও বন উজাড় করায় আবাসস্থল হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। তার ওপর প্রতিনিয়তই নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে বন্যপ্রাণীদের। এ কারণেই দুর্গাপুর পাহাড়ি এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকারের বন্য প্রাণী এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত। আর যেসব বা আছে তা রক্ষা না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রাণীকূল অনেকটাই অজানা থাকবে বলে মনে করে পশুপ্রেমীরা।

এ বিষয়ে কুল্লাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত সাংমা জানায়, আমি বিষয়টি শোনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ততক্ষণে স্থানীয়রা সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলো।

ইউএনও ফারজানা খানম জানান, সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওই এলাকায় সাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে সাপটিকে হত্যা করা স্থানীয়দের ঠিক হয়নি। বিষয়টি শোনার পর আমি তাৎক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছি এবং স্থানীয়দের সতেচন করেছি যেন পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী হত্যা থেকে তারা বিরত থাকে। এরকম কোনো বন্যপ্রাণী উদ্ধার হলে তাৎক্ষণিক আমাদের জানালে তা উদ্ধার করে পুনরায় অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম