বিরোধে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে জমিতে

বিরোধে পাকা ধান নষ্ট হচ্ছে জমিতে

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১১ ২৯ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়কোলা গ্রামের প্রায় ১৫০ বিঘা জমির পাকা ধান কৃষকরা কাটতে পারছে না। ফলে ওই সব জমির ধান জমিতেই ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

সময় মতো এ পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে এ গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক কৃষকের ঘরে আসন্ন বর্ষায় চরম খাদ্যাভাব দেখা দেবে। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে। 

অপর দিকে ওই গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকার পরেও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান পিযুষ গ্রুপের লোকজনের জমি থেকে বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল হোসেন গ্রুপের লোকজনের বিরুদ্ধে জমি থেকে পাকা ধান কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শাহজাদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান পিযুষের স্ত্রী পলি খাতুনসহ ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী শুক্রবার সকালে  এ অভিযোগ করেছেন।

পলি খাতুন, শেফালি খাতুন, বিলকিস বেগম, সাজেদা বেগম ও সুফিয়া বেগম বলেন, আমাদের অধিকাংশ জমির ধান পেকে গেছে। পাকা ধান জমিতে ঝরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। অনেক জমির পাকা ধানে গাছ গজিয়ে গেছে। এ ছাড়া ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে এ এলাকায় প্রচুর ঝড় ও বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিচু জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। ২-১ দিনের মধ্যে এ সব জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে জমিতেই পচে নষ্ট হয়ে যাবে।

তারা আরো বলেন, এ পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে আমাদের সারা বছর ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল গ্রুপের কৃষক আলী আজগর খুন হওয়ার পর থেকে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প থাকার পরও দিনের বেলায়ই তারা জমি থেকে পাকা ধান কেটে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। 

এ ছাড়া সেচযন্ত্র, টিউবওয়েল ও আসবাবপত্র চুরির ঘটনা প্রতিদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের লোকজন জমিতে পাকা ধান কাটতে গেলে তারা বাধা দিয়ে হামলা করছে। প্রাণ ভয়ে আমরা জমিতে যেতে পারছি না। 

অপরদিকে আমাদের পরিবারের সব পুরুষ মানুষ হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে আমাদের সংসারে আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে আমরা চরম অর্থ কষ্টে পড়েছি। এর উপর জমি থেকে একের পর এক পাকা ধান লুট হয়ে যাচ্ছে। এ ধান গেলে সারা বছর খাব কী? আমাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।

অপরদিকে পাড়কোলা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন, কাউন্সিলর বেলাল হোসেনের লোকজন বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ১ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে গেছে। পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলাল হোসেন বলেন, জমির কোনো ধান কেটে নেয়া হয়নি। তারা নিজেরাই কেটে নিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা দোষারোপ করছে। 

তিনি আরো বলেন, তবে আলী আজগর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে ধান কাটতে দেয়া হবে না। তারা শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে নিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। 

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমার কাছে এ পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আধিপত্য বিস্তার ও একটি পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে শাহজাদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলাল হোসেন গ্রুপের সঙ্গে ও সাবেক কাউন্সিলর পীযুষ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে বেলাল গ্রুপের আলী আজগার প্রামাণিক প্রতিপক্ষের ফালার আঘাতে নিহত হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ