Alexa বিয়ারের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল লন্ডন!

বিয়ারের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল লন্ডন!

মেহেদী হাসান শান্ত   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩ ১০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৭ ১০ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের সেইন্ট জাইলস বোরোতে ১৭ অক্টোবর, ১৮১৪ ঘটে যায় শিল্প ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা। পরবর্তীতে ওই দুর্ঘটনাটি ‘লন্ডন বিয়ার ফ্লাড’ নামে ইতিহাসে স্থান করে নেয়। লন্ডনের সেই বিয়ার বন্যায় কমপক্ষে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে, আহত হয় আরো অসংখ্য মানুষ। এছাড়াও ওই এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনার ক্ষতিসাধন হয়। 

লন্ডনের গ্রেট রাসেল স্ট্রিট ও টটেনহ্যাম কোর্ট রোডের সংযোগ স্থানে সেকালে ছিল বিখ্যাত মদ তৈরির কারখানা হর্স সু ব্রেওয়ারি। কারখানাটির আকৃতি ছিল বিশাল, বেশ কয়েকটি ২২ ফুট উঁচু কাঠের ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে সেখানে মদ গাঁজানো হতো। বিয়ার উৎপাদনের জন্য হর্স সু ব্রেওয়ারি ছিল সুবিখ্যাত। কারখানাটির সবগুলো ফার্মেন্টেশন ট্যাংকে সর্বসাকুল্যে ৩ হাজার ৫০০ ব্যারেল বিয়ার ধরত। লক্ষ্য করার মতো ব্যাপার হলো, প্রতিটি কাঠের তৈরি ফার্মেন্টেশন ট্যাংককে সাপোর্ট দিতে এর চারপাশে লোহার রিং ব্যবহার করা হতো, যাতে ভেতরের বিপুল পরিমাণ বিয়ারের ভারে কাঠের ট্যাঙ্কগুলো ফেটে না যায়। এ রকমই একটি আয়রন রিং থেকে সেদিনের দুর্ঘটনার সূত্রপাত।

দুর্ভাগ্যক্রমে দুর্ঘটনার দিন হর্স সু ব্রেওয়ারির কোনো একটি ফার্মেন্টেশন ট্যাংককে ঘিরে থাকা লোহার রিং বহুদিনের ব্যবহার ও চাপের কারণে খুলে যায়। এর ফলে এক ঘণ্টার মধ্যে সেই ট্যাংকে মজুদ থাকা সবটুকু বিয়ার বাইরে আছড়ে পড়ে এবং আরো কিছু ফার্মেন্টেশন ট্যাংককে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং সেগুলো ভেঙে গিয়ে বিয়ারের বন্যায় কারখানাটি উপচে ওঠে। প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার গ্যালন বিয়ার হর্স ব্রেওয়ারির দেয়ালে আছড়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড চাপে দেয়ালগুলো ভেঙ্গে দিয়ে সেইন্ট জাইলস রুকারির রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এর ফলে ওই রাস্তার আশেপাশে থাকা বস্তিগুলো বিয়ারের স্রোতে ভেসে যায়!

বিয়ারের সেই স্রোত পথের সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জর্জ স্ট্রীট ও নিউ স্ট্রীটে প্রবেশ করে। বিয়ারের একেকটি ঢেউয়ের উচ্চতা সেদিন ছিল প্রায় পনেরো ফুট! যার ফলে দু’টি বাড়ির বেসমেন্ট সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাড়িগুলো। এরই একটি বাড়িতে সে সময় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন মেরি বার্নফিল্ড ও তার চার বছরের কন্যা হানাহ। বিয়ারের স্রোতে বাড়ি ধসে যাওয়ার কারণে খাবার টেবিলে বসেই তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। অন্য বেজমেন্টে এক আইরিশ পরিবারের চারজন সদস্য ঠিক আগের দিন মারা যাওয়া ওই পরিবারেরই দুই বছর বয়সী এক শিশুর জন্য শোক অনুষ্ঠান পালন করছিলেন। ঠিক তখনই তাদেরকে আঘাত করে বিয়ারের স্রোত, শোক অনুষ্ঠানেই মদের সাগরে ডুবে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। 

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ারের সেই বন্যা সেদিন টাভিস্টক আর্মস নামের একটি বারের দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং দেয়াল ভেঙে বিয়ারের স্রোত ভেতরে প্রবেশ করে। এলিনার কুপার নামে বারটির এক কিশোরী বারমেইড সেখানে আটকা পড়ে এবং মৃত্যুবরণ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এমন বিপদের দিনেও সেদিন লন্ডনের বাসিন্দারা বালতি গামলা নিয়ে নেমে যান বিয়ার সংগ্রহ করতে! এমন ফ্রী বিয়ারের লোভ তারা সংবরণ করতে পারেননি। তাই বিয়ারের বন্যায় প্রাণহানির দিকে নজর না দিয়ে তারা ব্যস্ত হয়ে যান কীভাবে নিজেদের ঘর ফ্রী বিয়ার দিয়ে ভর্তি করা যায়, তা নিয়ে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস