বিমান হামলা চালিয়ে রাখাইনে বেসামরিকদের হত্যা করে মিয়ানমার

বিমান হামলা চালিয়ে রাখাইনে বেসামরিকদের হত্যা করে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২৬ ৮ জুলাই ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইন ও চিন প্রদেশে নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়ে শিশুসহ ১৯ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বুধবার সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেসামরিকদের হত্যা ও তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে উদ্যোগ নেয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিলে ও চিন প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়। তবে এতে মারা যায় বেসামরিক লোকজন।

মার্চের মাঝামাঝি পালেতওয়া উপশহরে এক হামলার প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নেয় আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। ওই ব্যক্তি জানান, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ফেলা বোমায়, তার চাচা, তার ভাই এবং ভাইয়ের ১৬ বছর বয়সী বন্ধু নিহত হয়।

একই এলাকার আরেক পরিবারের দুই ব্যক্তি জানান, বোমা হামলায় সাত বছরের এক শিশুসহ পরিবারটির নয়জন নিহত হন। শিশুটির বাবা অ্যামনেস্টিকে বলেন, আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

এপ্রিলে পালেতওয়ায় আরেকটি বিমান হামলায় ৭ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শী এক কৃষক জানান, ওই ঘটনায় আরো ৮ জন আহত হয়।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি ও তাতমাদাওর মধ্যে সংঘর্ষে হামলার শিকার হয় এসব বেসামরিক লোক। রাখাইন রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের জন্য মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে আরাকান আর্মি।

সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা গোষ্ঠীও এই রাখাইনের বাসিন্দা। ২০১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানের মুখে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তাদের ওপর গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। 

দেশটির চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অ্যামনেস্টির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকোয়েলিন বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যখন কোভিড-১৯ ঠেকাতে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, তখন তাদের সেনাবাহিনী ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, বেসামরিকদের হত্যা করছে।’

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী