বিমানবন্দরের ভেতরেই ঝরনা ও বনাঞ্চল!

ফিচার ডেস্কডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০০ ১১ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৩:১৮ ১১ মার্চ ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর নিজেই একটি হলিডে ডেস্টিনেশন। দেশটিতে ঘোরার সময় না থাকলেও, এয়ারপোর্টে বসেই ভ্রমণের আনন্দ পেয়ে যাবেন। কী নেই এই জায়গায়? তবে এতদিন যা ছিল তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ইনডোর ঝরনা ও বনাঞ্চল।

এটির পুরো নাম জুয়েল চাঙ্গি বিমানবন্দর। আয়তন ১ লাখ ৩৭ হাজার বর্গমিটার। গত পাঁচ বছর ধরে বিশ্বের সেরা বিমাবন্দরের তকমা পেয়েছে চাঙ্গি। পাবে না কেন, এখানে এলেই যে কারো গা জুড়িয়ে যেতে বাধ্য!

বিমানবন্দরের সুইমিংপুল

বিমানবন্দরের ছাদেই রয়েছে পুল। একের পর পর বিমান উড়ে যাচ্ছে, বিমানবন্দরের ছাদে বসে এই দৃশ্য দেখুন। তাও আবার সুইমিং পুলের জলে পা ডুবিয়ে। টার্মিনাল ২-এর অর্কিডের বাগানে দেখা মিলবে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুলের।  বিমানবন্দরের অন্দরেই রয়েছে চারতলা স্লাইড। যেখানে একবার ঢুকলে আপনি প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটার করে নিচে নামতে থাকবেন। 

বিমানবন্দরে বসে বিরক্তি লাগছে? তাহলে ফুট ম্যাসাজ নিন। কোনো টাকা দিতে হবে না! ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য এখানে রয়েছে প্লেরুম। চাঙ্গি বিমানবন্দরে রয়েছে বিশ্বের সব বড় বড় ব্র্যান্ডের শো-রুম।  এছাড়া কয়েক’শ প্রজাতির প্রজাপতিদের নিয়ে তৈরি বাটারফ্লাই গার্ডেন তো রয়েছেই। এই বিমানবন্দরে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার সিনেমা হল। সবচেয়ে খুশির খবর, সিনেমা দেখার জন্য এক পয়সাও খরচ করতে হবে না।

বিমানবন্দরে বনাঞ্চল

নতুন করে যোগ হওয়া ঝরনা ও বনাঞ্চলের পেছনে খরচ হয়েছে ১২৫ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার ৪৮০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটি ডিজাইন করেছেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি মোশে সাফদি। ঝরনার চারপাশে থাকছে রেস্তোরাঁ ও ২৮০টি বিভিন্ন পণ্যের দোকান-কমপ্লেক্সের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে ১৩০ ফুট (৪০ মিটার) উঁচু ‘রেইন ভরটেক্স’। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ইনডোর ঝরনা। রাতে এটি আলোকিত হয়ে উঠবে নানান রঙের বাতিতে। এছাড়া থাকবে সাউন্ড শো।

গোলকধাঁধাচাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি (করপোরেট ও মার্কেটিং কমিউনিকেশনস) আইভ্যান টান বলেন, ‘জুয়েল হয়ে উঠবে ভ্রমণপ্রেমীদের অতুলনীয় গন্তব্য। বিশ্বের আর কোথাও এমন কিছু নেই। সতেজ সবুজ গাছপালা, মনোরম ঝরনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার দারুণ সুযোগ ও পারিবারিক খেলাধুলার আকর্ষণের সংমিশ্রণ রয়েছে এতে। ভ্রমণ ও অবকাশযাপনে দর্শনার্থীদের নতুনমাত্রা এনে দিতে পারছি বলে আমরা রোমাঞ্চিত।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে