Alexa বিভীষিকাময় একুশে আগস্ট

বিভীষিকাময় একুশে আগস্ট

প্রকাশিত: ১২:৪৪ ২১ আগস্ট ২০১৯  

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

আজ ২১ আগস্ট। বিভীষিকাময় একটি দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন। 

২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা। সেই নারকীয় হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রাণ হারান আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরপরাধ মানুষ। আর আহত হন অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। অনেকে আবার চিরজীবনের জন্য হয়ে যান পঙ্গু। 

নারকীয় সেই হামলার ১৫ বছর পরও আহতরা এখনো সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে সেই হামলার কথা মনে করে এখনো মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠেন নিজের অজান্তে। এ হামলায় আহতরা অনেকে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। আহত হয়ে চিরজীবনের জন্য বয়ে রেড়াচ্ছেন দুঃস্বহ স্মৃতি। শোকের মাস আগস্টে এই গ্রেনেড হামলা ছিল বাঙালিদের জন্য আরেকটি মর্মস্পর্শী ঘটনা। যা শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।

নারকীয় ও ন্যক্কারজনক এ হামলার দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করা হয়। যেখানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়েছে।

২০০৪ সালে ওই ন্যক্কারজনক গ্রেনেড হামলার সময় সরকারে ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। মূলত সেই সময় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ইন্ধনে ওই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। গ্রেনেড হামলায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে মূলত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছিল। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো ওই নারকীয় গ্রেনেড হামলার পর সাজানো হয় একটি নাটক। 

‘জজ মিয়া’ নামের সেই নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয়। যার নেপথ্যে কাজ করেছিল সেই সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত। মূলত শীর্ষ পর্যায়ের ইন্ধনে হামলার পর প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচাতে সাজানো হয় ‘জজ মিয়া’ নাটক। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে ২১ আগস্ট মামলা নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এরপর সেই তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে অজানা সকল সত্য তথ্য। এরপর আদালতে দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।    

ঘটনার ১৪ বছরের বেশি সময় পর বিচার শেষে এ রায় প্রদান আইনের শাসনের জন্য ছিল বড় এক  মাইলফলক। যা মানুষকে বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী করে তুলেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে অপরাধী যে হউক শান্তি তার অনিবার্য। তবে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায়ে আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার গুরুত্ব বহন করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় পৃথকভাবে অভিন্ন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। এতে বলা হয়, রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে- এটা কখনো কাম্য নয়। কিন্তু সেই কাজটি করেছিল চারদলীয় জোট সরকার। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সত্যিই দুঃখজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনা।

তবে এটাও সত্য ২১ আগস্টের নারকীয় ঘটনার মূলে রয়েছে দেশবিরোধী চক্রান্ত এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের হীন পরিকল্পনা। তাই এই মামলার রায় প্রদানের মধ্যদিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়েছে দেশ বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলো তার শাস্তি অনিবার্য। এখন গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের রায় কার্যকরের মধ্যদিয়ে বুঝিয়ে দেয়া কর্তব্য ষড়যন্ত্রকারী-দেশবিরোধীদের কোনো ক্ষমা নেই। পরিশেষে ন্যক্কারজনক হামলার ১৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। স্বরণ করছি তাদেরও যারা আহত ও পঙ্গু হয়ে কঠিন জীবন অতিবাহিত করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর