বিনামূল্যে বই পড়বেন যেখানে
Best Electronics

বিনামূল্যে বই পড়বেন যেখানে

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:০৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত পাবলিক লাইব্রেরী। সারাদেশে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন লাইব্রেরী রয়েছে। জনসাধারণের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠার প্রয়াসে এই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি লাইব্রেরীতে বিভিন্ন ধরণের বই, সাময়িকী, পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ রাখা হয়েছে। সমসাময়িক বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য বইও রয়েছে। এছাড়া জাগতিক নানা বিষয়ে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ক্যাটাগরির বইসহ প্রতিবেদন, কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স ও সাময়িকী সংগ্রহে রয়েছে। 

গণগ্রন্থাগার থেকে সরবরাহ করা বিভিন্ন সরকারী লাইব্রেরীগুলো থেকে পাঠকরা সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ফি প্রদান ছাড়াই গণগ্রন্থাগার-এর অধীনভুক্ত লাইব্রেরীগুলোতে সুবিধা পেয়ে থাকেন সাধারণ নাগরিক।

দেশে উল্লেখযোগ্য লাইব্রেরীর মধ্যে জাতীয় গ্রন্থ ভবন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, পাবলিক লাইব্রেরী, সীমান্ত গণ গ্রন্থাগার, রামকৃষ্ণ মিশন গ্রন্থাগার, জাতীয় জাদুঘর লাইব্রেরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর লাইব্রেরী প্রভৃতি। তবে অন্যান্য লাইব্রেরীর চেয়ে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী
 
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীটি সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার বা কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার নামে পরিচিত। দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক লাইব্রেরী এটি। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার শাহবাগে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকন্তু এই গ্রন্থাগারটির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগার পরিচালনা করা হয়। ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী এই লাইব্রেরীর সংগ্রহে প্রায় ২,০৪,৯৭৪ বই রয়েছে। লাইব্রেরীটি শুক্রবার ও সরকারি ছুটি ছাড়া নিয়মিত খোলা থাকে।

ক্যাটালগ সিস্টেম ও সেলফ সংখ্যা
এই গ্রন্থাগারটিতে কোন ক্যাটালগ সিস্টেম নেই। তবে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা সেলফ রয়েছে। যেখানে আলাদা আলাদা ভাবে বিষয়ভিত্তিক বই স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে সহায়তাদানের জন্য রয়েছে লাইব্রেরীয়ান। জাতীয় গণ গ্রন্থাগারে প্রতিটি ফ্লোরে ৭০ টি করে সেলফ আছে।

পত্রিকা ও সাময়িকী
জাতীয় গণ গ্রন্থাগারে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ষান্মাসিক ও বাৎসরিক পত্রিকা ও সাময়িকী পাওয়া যায়। আরোও রয়েছে চাকুরীর খবর ও কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স। এছাড়া এখানে পাঠকের প্রয়োজন ও চাহিদার দিক বিবেচনা করে পুরনো পত্রিকাও সংগ্রহে রাখা হয়েছে।

শিশু-কিশোর
শিশু কিশোরদের জ্ঞানের বিকাশ ও বিনোদনের বিষয়টিকে আলাদাভাবে এখানে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে মূল লাইব্রেরী ভবনের পাশের ভবনে আলাদাভাবে শিশু কিশোর গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে শিশুতোষ সকল প্রকার বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা পাওয়া যায়।

সুযোগ-সুবিধা
সম্পূর্ণ নিরিবিলি ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে বসে বই পড়ার জন্য গন গ্রন্থাগারের  প্রতিটি ফ্লোরে ৬০ টি টেবিল ও শতাধিক চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। আলো ও বাতাসের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা। উল্লেখ্য এখানে মহিলা ও পুরুষদের জন্য আলাদাভাবে বসে বই পড়ার ব্যবস্থা নেই।  অতীতে গ্রন্থাগারের সদস্যরা প্রয়োজনে বই বাসায় নিতে পারলেও কিন্তু বর্তমানে বই বাসায় নেয়ার কোন রকম ব্যবস্থা নেই।

অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই পাঠক-পাঠিকাদের সাথে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল কাউন্টারে জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করে লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে হয়।

গ্রন্থাগারের পাঠকের নিয়মাবলি
১. পাঠ্যবই, ম্যাগাজিন ও অন্য কিছুর পাতা কাটা/ছেঁড়া নিষেধ।
২. মূল্যবান সামগ্রী, নগদ অর্থ, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিস নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে।
৩. মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে।
৪. পড়া শেষ হলে বই টেবিলেই রেখে আসতে হয়।
৫. এক সেলফের বই অন্য সেলফে রাখা যাবে না।
৬. প্রয়োজনে লাইব্রেরীয়ানের সহায়তা নিতে হবে।
৭. সন্দেহভাজন হলে তল্লাশির ব্যবস্থা রয়েছে।
৮. বই বা অন্য কিছু ক্রয় করলে মানি রিসিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে।
৯. সৌজন্য কপি জমা দিতে হলে পরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে।
১০. জাতীয় গণ গ্রন্থাগারের অভ্যন্তরে ফটোকপি করার ব্যবস্থা রয়েছে। 
১১. বিকেল ৫.০০ পর্যন্ত ফটোকপি সার্ভিস প্রদান করা হয়ে থাকে।
১২. শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকাল ৯.০০ টা থেকে রাত ৮.৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে প্রতি শনিবার ২য় তলার অংশটুকু বন্ধ থাকে এবং ৩য় তলার অংশটুকু যথারীতি পাঠকদের জন্য খোলা থাকে।

 ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ

Best Electronics